
মোহাম্মদ হানিফ (গোলজার হানিফ) নোয়াখালী প্রতিনিধি : মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীতে প্রায় ১৮ হাজার সৃষ্টি জীবের মধ্যে মানুষই সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদার অধিকার কূল কায়েনাতের যাবতীয় বস্তুনিচয়কে সৃষ্টি করা হয়েছে মূলত: মানুষের সেবা করার জন্য।
পৃথিবীতে আজ শত কোটিরও বেশি মানুষের বাস। এই এতো মানুষ পৃথিবীতে জন্ম নিচ্ছে মারা যাচ্ছে। তার কি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই দুনিয়ায় জন্মাচ্ছে আর মৃত্যুবরণ করছে?
এর উত্তর অবশ্যই ‘না’। অর্থাৎ কোনো কারণ বা লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছাড়া পৃথিবীতে মানুষের জন্ম বা মৃত্যু হচ্ছে না। নিশ্চয়ই এর কোনো না কোনো কারণ রয়েছে। কেননা পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, তিনি কিছুই অহেতুক সৃষ্টি করেন না
এসব দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা অসাধারণ সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন মানুষের আকার-আকৃতি-অবয়ব-দৈহিক গঠন।
আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাকে তাঁর গুণে গুণান্বিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন যাতে যথাযথভাবে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করা হয়।
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা মানুষকে নিজের প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মানুষকে কেন্দ্র করেই বিশ্বলোক-বিশাল এই ভূ-ভাগ-বিশ্বচরাচরের সৃষ্টি-উদ্ভব। সৃষ্টিকূলের মধ্যে একমাত্র মানুষই বুদ্ধি-বিবেক এবং জ্ঞানসম্পন্ন প্রাণী।
এছাড়া মহান স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা মানুষকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়ে ধন্য করেছেন, যা অন্য কোনো প্রাণিকে দান করেননি। মানুষকে তিনি বাকশক্তি দিয়েছেন এবং মাধ্যমে যাবতীয় সৃষ্টির ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। চারিত্রিক গুণাবলীর দিক থেকে মানুষকে ফেরেশতার চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন করা হয়েছে।
কারণ, ফেরেশতাদের কোনো জৈবিক চাহিদা নেই। মানুষের মাঝে এসব থাকা সত্বেও যারা তাদের চারিত্রিক সততা বজায় রেখে চলতে সক্ষম তাদের ফেরেশতাদের চেয়েও অধিক মর্যাদার স্থান দেয়া হয়েছে। সৃজনশীলতা মানুষের মর্যাদার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আল্লাহ তাআ’লা মানুষকে এমন ক্ষমতা দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন যে, তার আত্মরক্ষা, আত্মোন্নতি বিধানের জন্য সে সবসময় আবিষ্কার ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত।
প্রাণীর মধ্যে মানুষ একমাত্র দায়িত্বশীল। কারণ একমাত্র তারাই ভদ্রতাপূর্ণ সুশৃঙ্খল সমাজে শান্তি-সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করে। সামাজিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি শুধু মানুষের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। অধিকন্তু, পার্থিব কৃতকর্মের জন্য মানুষের জন্য নির্ধারিত আছে জান্নাত ও জাহান্নাম। ভালো কাজ করলে রয়েছে জান্নাত আর মন্দ কাজ করলে জাহান্নাম।
বুদ্ধি-চেতনা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সৃজনশীলতা ও চিন্তা-গবেষনায় মানুষকে দান করা হয়েছে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য। এর সাহায্যে সে সমগ্র ঊর্ধ্বজগৎ ও অধঃজগৎকে করায়ত্ব করে নিজের কাজে নিয়োজিত করতে সক্ষম।
এই বিশ্ব জগতে মহান আল্লাহ তাআ’লার সৃষ্ট তামাম জীবের ভেতরে মানুষই সর্বাপেক্ষা সম্মান এবং মর্যাদার অধিকারী। মানুষের চেয়ে অধিক সম্মানের অধিক মর্যাদার আর কেউ নেই। এমনকি আল্লাহ পাকের আরেক সৃষ্টি নিষ্পাপ ফেরেশতাদের চেয়েও মানুষের মর্যাদা বেশি। মানুষ আল্লাহ তাআ’লার অন্যতম সৃষ্টি। আল্লাহ তাআ’লার প্রিয় মাখলূক।
বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, আকল দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে তিনি তাদের চমকপ্রদ অবয়বে সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়েছেন।
এমনকি মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা বিবেচনা করেই তার জান-মাল, বিবেক-সম্ভ্রম, ধর্ম ও বংশ রক্ষা করার জন্য ইসলাম বহু বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে।
মানুষের বংশপরম্পরাকে রক্ষা করার জন্য জিনা-ব্যভিচারের পথ রুদ্ধ করে বৈবাহিক জীবনাচারের নির্দেশ প্রদান করেছে। মানুষের মেধা-মনন, বিবেক-বুদ্ধি সতেজ ও পরিশোধিত রাখতে সকল প্রকারের মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করেছে। মানুষের সম্পদকে রক্ষা করার জন্য সব রকমের চুরি, ডাকাতি, লুটতরাজ, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও প্রতারণার পথ রুদ্ধ করার নির্দেশনা দান করা হয়েছে।
মর্যাদার দিক থেকে ইসলাম মানুষকে যেমন সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেছে তেমনি দায়িত্ব-কর্তব্যের বিচারেও মানুষের অবস্থানকে রেখেছে সর্বশীর্ষে। সেরা জীব হিসেবে মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ হিসাব কষে কষে ফেলতে হয়। ইচ্ছে করলেই মানুষ যা খুশি তা করতে পারে না।
মানুষের আছে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় বাধা নিষেধ। ইচ্ছা ও কর্মে স্বাধীন হলেও মানুষের দায়বদ্ধতা প্রচুর। মানুষকে নিজের সম্মান ও মর্যাদা সংরক্ষণে যেমন সচেতন হতে হবে ঠিক তেমনি অন্যের সম্মানহানী হয় এমন কাজ থেকেও বিরত থাকতে হবে সদা সর্বদা।
আল্লাহপাক আমাদেরকে সর্বপ্রকার জুলুম থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর বান্দাদের কল্যাণে সর্বদা তৎপর থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক