
মো. হাবিবুর রহমান: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বিভাগের একযোগে বারো জন শিক্ষক পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে একজন সহযোগী অধ্যাপকে এবং এগারো জন সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতি লাভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম এঁর সভাপতিত্বে ১৯তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও ২৩তম সিন্ডিকেটে এ সিন্ধান্ত গৃহীত হয়।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ ফখরুল ইসলাম ও একই বিভাগের শিক্ষক লায়লা ফেরদৌস, মোঃ মাইনুল ইসলাম, মুসলিমা জান্নাত মৌ। অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন সুলতানা ও একই বিভাগের শিক্ষক বরুণ চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম, বিজন কুমার এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রিফাত-উর-রহমান ও একই বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ ও ফারহানা ইয়াসমিন।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে আবেগ, আনন্দ, উৎফুল্লতা প্রত্যক্ষ করছি এবং বিভিন্ন জায়গায় যে পদচারণা দেখছি তা আরো বেশি আনন্দঘন। কর্মীরা যদি সুখি হয় ; আনন্দবোধ করে তাহলে কাজের গুণগতমান বৃদ্ধি পায়। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যে আবদ্ধ অবস্থানে ছিল সেখান থেকে মু্ক্তবাতাসে বিচরণ করার গতি পেয়েছে। সে গতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিপূর্ণরূপদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং তারা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছি।
পদোন্নতি সম্পর্কে অনুভূতি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি স্বাভাবিক ঘটনা। এটা আরো পূর্বে হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার জন্য দেরি হয়েছে। পদোন্নতির যে জটটা খুলেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভাল। আমরা আনন্দিত। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রিফাত-উর-রহমান বলেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারনে যদিও দেরি হয়েছে। তবে, বর্তমান অভিভাবক মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শাহ্ আজম স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারনে সেটি দেরিতে হলেও প্রাপ্য অধিকার পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত।
ড. মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ বলেন, যেকোনো পদোন্নতি আনন্দের বিষয়। দীর্ঘদিন শিক্ষকদের পদোন্নতিটি বন্ধ ছিল। নিজেদের বঞ্চিত এবং অসহায় মনে হত। বর্তমান উপাচার্য দ্রুত এ সঙ্কট উত্তরণ ঘটিয়ে প্রাপ্ত মর্যাদা এবং কর্মস্পৃহা বাড়িয়েছে। বিজন কুমার বলেন, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই পদোন্নতি আমাদের কর্মজীবনে গ্রীষ্মের দাবদাহে এক পশলা বৃষ্টির মত প্রশান্তি এনে দিয়েছে। এই প্রশান্তি আমার সম্মুখ কর্মজীবনকে অনেক বেশি গতিশীল করবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শনকে পাথেয় করে শিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষা-কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলার যে মহান ব্রত নিয়ে শিক্ষকতা করে যাচ্ছি, এই পদোন্নতি সেই অভিযাত্রাকে আরো বেশি সুদৃঢ় করবে।
লায়লা ফেরদৌস বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। আমরা অনেক খুশি। মুসলিমা জান্নাত মৌ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের অর্জনে যেমন শিক্ষকরা আনন্দিত হয়; তেমনি শিক্ষকদের অর্জনে ছাত্র-ছাত্রীরাও আনন্দিত হয়; যা রবীন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা মেলে। এই অর্জনটি আমাদের কর্মস্পৃহাকে আরো বেশি বাড়িয়ে তুলবে। নতুন উদ্দ্যোমে কাজের শক্তি যোগাবে।
জাবেদ ইকবাল বলেন, যেকোনো কিছু পাওয়া আনন্দের। তবে যা দীর্ঘদিন পর পাওয়া যায় তার আনন্দ আরো বেশি হয়। বরুন চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কারণে কিছু সংকট ছিল। মাননীয় উপাচার্য সেসব সংকট দূর করে আমাদের পদোন্নতি দিয়েছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ তার কাছে। নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রসারে যেমনটি কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যারও শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ প্রভৃতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের যে অধিকার তা মাননীয় উপাচার্য নিশ্চিত করেছেন। আমরা অত্যান্ত আনন্দিত। শিক্ষকরা অনেক বেশি আলোড়িত, উজ্জীবিত।
মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন, পদোন্নতি কর্মজীবনের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি। নানা সংকটের কারণে যথাসময়ে আমরা পদোন্নতি পাইনি। তবে সে-সব সংকট কাটিয়ে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমার সকল শিক্ষার্থীকেও ধন্যবাদ জানাই, তাদের শুভকামনার জন্য। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-গবেষণায় উৎকর্ষসাধন, বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালনের মধ্য দিয়ে স্বনামে পরিচিত হয়ে উঠবে, সেই প্রত্যাশা করছি। প্রসঙ্গত, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক বিজন কুমার ও নজরুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ ও ফারহানা ইয়াসমিন এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোঃ মাইনুল ইসলাম একই সাথে পদোন্নতি এবং শূণ্যপদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক