
শাহজাহান সাজু (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মাহমুদ হাসান ওরফে আলমগীর (৩০) ও তার বোন নাদিরা (২১) হত্যার মাস্টারমাইন্ড আব্দুল কাদির কারাগারে।
চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুন মামলার সাত আসামীর মধ্যে চারজনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সোমবার (১৭ জুলাই) মামলার প্রধান আসামি নিহত ভাই-বোনের চাচা আব্দুল কাদির আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতাররা হলেন, নিহতদের চাচি ফরিদা খাতুন (৪১) এবং তার তিন ছেলে মো. ইমরান (২৬), আরমান মিয়া (১৮) ও আরেকজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক।তারা হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের উত্তর কুড়িমারা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মো. শামসুল ইসলামের বাড়ির সামনে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।তখন শামসুলের পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করায় আসামিদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শামসুলের বড় ছেলে মাহমুদ হাসান ওরফে আলমগীর, মেজো ছেলে হুমায়ুন কবীর, ছোট ছেলে সালমান, মেয়ে নাদিরা ও স্ত্রী শাহিদাকে জখম করেন।
আসামিদের অস্ত্রের আঘাতে আলমগীর ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হুমায়ুন কবীর, সালমান, নাদিরা ও শাহিদাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পরে নাদিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই মারা যান। আহত অন্যরা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় নিহতদের বাবা শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বুধবার (১২ই জুলাই) বিকেলে এই জোড়া খুনের মাস্টারমাইন্ড ও মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাদির বিরোধপূর্ণ জমিতে চারাগাছ রোপণ করেন।তার বড় ভাই শামসুল সেখান থেকে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলায় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।পরদিন বৃহস্পতিবার সকল ৬টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে পুনরায় অবশিষ্ট চারা রোপণ করতে গিয়ে আসামিরা দেখেন আগের দিনের লাগানো বাকি চারাগুলোও তুলে ফেলা হয়েছে।
তখন আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে শামসুলের বাড়িতে গিয়ে চারাগাছ উপড়ে ফেলায় গালিগালাজ করলে এ হত্যাকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল কাদির, তার স্ত্রী তিন ছেলে কারাগারে রয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ সংবাদ সম্মেলনে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার অন্যান্য আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ