হোম » অন্যান্য বিভাগ » দূর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত শার্শার ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ, আবারো জালিয়াতির অভিযোগ

দূর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত শার্শার ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ, আবারো জালিয়াতির অভিযোগ

এস আর নিরব, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদটির একাধিক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা-অনিয়মে জন্মনিবন্ধন,ওয়ারেশকাম সনদের মত গুরুত্বপূর্ন কাগজাদী সরবারহ হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন এলাকাটির সাধারন মানুষ।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেনা ভূক্তভোগীরা। অনৈতিক সুবিধায় ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ হতে উত্তোলনকৃত জন্মসনদ এর অপব্যবহার বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড নিয়ে একাধিক অনলাইন পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
গত রবিবার (১৮ই জুন) ডিহি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খলিশাখালি গ্রামের মৃত আব্দুল গণির স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল,৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান ( জজ মিয়া ) ও খলিশাখালীর মিসির ব্যাপারীর নামে দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ তুলে শার্শা উপজেলা প্রশাসন এবং যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভূক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগ হতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৯সেপ্টেম্বর তার স্বামী আব্দুল গনি হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে মারা যান। এরপর হতে তার ১৩ বছর বয়সী কন্যা ফেরদৌসি প্রমিকে নিয়ে যশোর কোতয়ালী থানাধীন নওয়াপাড়া গ্রামে বসবাস করেন তিনি।
এ সুযোগে তার ভুক্তভোগীর কন্যা সন্তানের উত্তারাধীকারী সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ না দিতে অসুস্থ শাশুড়ীকে ফুসলিয়ে ভুক্তভোগীর দুই ননদের জামাই মিসির ব্যাপারী ও মুনতাজ ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বারের সহযোগীতায় জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে গোপনে সকল সম্পত্তি দুই ননদের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে।
জাল জালিয়াতি করে সম্পত্তি লিখে নেওয়া ও মৃত আব্দুল গনির নকল স্ত্রী সন্তান সাজিয়ে আব্দুল গনির প্রাপ্ত সম্পদ থেকে ভুক্তভোগী ও তার মেয়েকে বঞ্চিত করতে ইন্দন দিয়েছে মৃত আব্দুল গনির দুই মামা খলিশা খালি গ্রামের মৃত মিসির ব্যাপারীর দুই ছেলে শহিদুল ইসলাম ও শামসুর রহমান।
২০২১ইং সালে ফাতেমার শাশুড়ী মারা গেলে ফাতেমা খাতুন তার মেয়ের সম্পত্তির অংশ বুঝে নিতে চাইলে অভিযুক্ত মিসির ব্যাপারী জানাই মারা যাওয়ার পূর্বে শাশুড়ী সকল সম্পত্তি তার কন্যা দ্বয়ের নামে লিখে দেওয়ায় সেখানে তার স্বামীর কোন অংশ নাই। প্রতিকার পেতে ইতিমধ্যে তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
ফাতেমা খাতুন বলেন, কামরুজ্জামান ও মুকুল চেয়ারম্যান পরিকল্পিত ভাবে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে আমার স্বামীর অংশীদার ও ওয়ারেশ হিসাবে রিমিকা পারভীন রিমু ও তার মেয়ে ফাহিমা ফেরদৌসির নামে (তৃতীয় পক্ষ ) জাল জালিয়াতির আদলে জন্মসন্দপত্র ও ওয়ারেশকাম সনদ তৈরী করে দিয়েছে যেখানে পিতা হিসাবে মৃতঃ স্বামী আব্দুল গনির নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আমি ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়ে জানিতে পারি যে,ফাহিমা ফেরদৌস এর প্রকৃত নাম ফাহিমা আক্তার তিশা ও পিতাঃ অলিয়ার রহমান। জন্ম নিবন্ধন নং- ২০১০৫৫১৬৬৩১০৩৭১২৫ ও ইস্যু তাং-৫-২-২০১৩সাল।
এদিকে মৃত আব্দুল গনির বানানো নকল স্ত্রী রিমিকা পারভিন ভুক্তভোগী  ফাতেমা খাতুনের মামলায় যশোর সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে জাল জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে শার্শা ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মুকুল ও মেম্বার কামরুজ্জামান, খলিশাখালী গ্রামের মিসির ব্যপারী, মুনতাজ, শহিদুল ইসলাম ও শামসুর রহমানের নামে জালিয়াতি মামলা করেন  যশোর শার্শা আমলি আদালতে। যার মামলা নং কোট সি,আর ২০৫/২৩
জালজালিয়াতির বিষয়ে রিমিকা পারভীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি আমার স্বামী সন্তান নিয়ে মাগুরাতে বসবাস করি। আমার মামলায় উক্ত আসামিরা  আমার নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। আমি ডিহি ইউনিয়নের কোন চেয়ারম্যান মেম্বারকে চিনি না। এমনকি মৃত আব্দুল গনিও আমার স্বামী না।
এ বিষয়ে ডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যন আসাদুজ্জামানের মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি যে সকল গাগজপত্র দিয়েছি তা সঠিক। স্থানীয় ইউপি সদস্য যাচাই বাছাইসহ সাক্ষর করে দিলে আমি জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারেশকাম সনদ দিয়েছি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ এর চেষ্ঠা করেও সাক্ষাৎ না মেলায় বিবৃতি জানা যাইনি।
উল্লেখ্য ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ হতে সখিনা খাতুন (৬২) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গত ১০ মে ২০২৩ ইং তারিখে আইনবর্হিভূত ভাবে জন্মসনদ সরবারহ করা হয়েছে।
যাহার অপব্যাবহারে বায়নামূলে ক্রয়কৃত সম্পতির অংশ পূনঃবিক্রয় ও রেজিস্ট্রি হওয়ায় বেদখল হতে যাচ্ছে ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়ীয়া গ্রামের মৃতঃ আলমগীর হোসেন চুনুর স্ত্রী মোছাঃ কাজল রেখার পরিবার। প্রতিকার পেতে তিনিও যশোর জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ডিহি ইউনিয়ন পরিষদ হতে একাধিক বিতর্কিত জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগ এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। উপযুক্ত প্রমানাদি ছাড়াই জন্মসনদ সরবারহকরাকে তারা নেতিবাচক হিসাবে দেখছেন। বিষয়টি প্রতিকারে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতণদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!