
আওয়াজ অনলাইন: জীবনচক্র পাল্টে যাবার পাশাপাশি ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে এডিস মশা। তাই এই মশা মারতে সিটি কর্পোরেশনে ব্যবহৃত ‘টেমিফস’ নামের ওষুধটি কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিপসম।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের গবেষণায় বলছে এডিস মশারা আর এই ওষুধে মরছেনা। টেমিফসের পাশাপাশি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ব্যবহৃত ডেল্টামেথ্রিন নামের ওষুধটির কার্যকারিতাও কমে গেছে।
বর্ষার আগেই এবার রেকর্ড ভেঙেছে ডেঙ্গু। ঢাকার হাসপাতালে যেমন রোগী বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর পরিসংখ্যান।
ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ায় দুই সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আর সিটি কর্পোরেশন বলছে নগরবাসীর সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় গণস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নিপসম সম্প্রতি মশা নিধনে ব্যবহৃত সিটি কর্পোরেশনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা টেমিফস ও ডেল্টামেথ্রিন নামের ওষুধ দুটির কার্যকারিতা কমে গেছে। এডিসের লার্ভা নিধনে টেমিফোস নামের ওষুধ ব্যবহৃত করে দুই সিটি কর্পোরেশন।
নিপসমের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. গোলাম সারোয়ার বলেন, ওষুধের ইফেক্টিভনেস আগের মত দেখা যায় না। সেজন্য ম্যালাথিয়ন যেভাবে কাজ করছে ডেল্টামেথ্রিন সেভাবে কাজ করছে না।
গবেষণায় দেখা গেছে যেসব ওষুধ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে; সেসব ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কৌশল শিখে গেছে মশারা। তাই দ্রুত ওষুধ পরিবর্তনের পরামর্শ কীটতত্ত্ববিদদের।
ড. গোলাম সারোয়ারের মতে, বার বার একই রকমের ওষুধ ব্যবহারের ফলে এটা ওরকমভাবে কাজ করে না। ফলে কিছুক্ষণ ওষুধ প্রয়োগের পর মশাটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে- তারপর সে আবার উঠে যায়।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অনেকসময়ই ঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেন না কর্মীরা। যার ফলেও ওষুধের কার্যকারিতা অনেকাংশেই কমে যায়।
সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওষুধ ছিটানোর অজ্ঞতাও মশা দমন না হওয়ার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদদের।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ