
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৫২-এর ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন চৌধুরী গতকাল ৪ঠা নভেম্বর শনিবার রাত১১:৪০ মিনিটের সময় উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ও বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি…. রাজিউন)।
মারা যাওয়ার সময় আব্দুল মতিন চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও ১ মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট দক্ষিণ তারালিয়া গ্রামে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন আব্দুল মতিন চৌধুরি। তখন তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পাকিস্তান সরকার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে তাঁকে রাজটিকেট (আজীবনের জন্য লেখাপড়া থেকে বহিষ্কার) করে।
কর্মময় জীবনে তিনি পঞ্চাশের দশকে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত আজাদী/পূর্বকোন পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে তিনি তৎকালীন প্রগতিশীল যুব সংগঠন যুবলীগ সংগঠনে নিয়মিত কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং কেন্দ্রিয় অবস্থানে থেকে নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি তিনি টঙ্গীতে পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরিতে যোগ দেন। সে সূত্রে তিনি শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রগতিশীল শ্রমিক সংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সদস্যপদ গ্রহণ করে একজন সক্রিয় শ্রমিক নেতা হিসেবে আত্মনিয়োগ করেন। পাশাপাশি তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত তিনি কমিউনিস্ট পার্টির টঙ্গী থানা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি বাঃ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র টঙ্গী থানা ও ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টঙ্গীর প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন এবং মামদী মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
আলোকিত সমাজ গঠনে আব্দুল মতিন চৌধুরীর ভূমিকা ছিলো বহুমাত্রিক। ভাষা আন্দোলন, প্রগতিশীল রাজনীতি, শিক্ষার প্রসার ইত্যাকার সুকর্ম ছাড়াও টঙ্গীর সাংস্কৃতিক আন্দোলনে, বিশেষ করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, টঙ্গীর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তাঁর সমর্থন ও সহযোগিতা বিপুল শক্তি যুগিয়েছে।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিগণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনসমূহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণ গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ