
বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর বিশিষ্ঠ রাজনীতিবীদ পক্ষে লিপিবদ্ধ করেছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলছেন দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পত্রিকার সাংবাদিক “মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান”। নিচে তার সাক্ষাৎকাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছেন জনাব মহসীন ভাই ?
মহসীন চৌধুরীঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ,ভালো আছি।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ জনাব মহসীন চৌধুরী, আপনি তো দীর্ঘ দিন যাবত রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। বিকল্প ধারার রাজনীতিতে আছেন কত বছর ধরে ?
মহসীন চৌধুরীঃ বলতে পারেন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই।সময়ের হিসাবে তা প্রায় ২১ বছর।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ দেশে এত বড় বড় রাজনৈতিক দল থাকতে আপনি বিকল্প ধারা কেনো করেন ?
মহসীন চৌধুরীঃ দল ছোট হতে পারে কিন্তু আদর্শ অনেক উত্তম এবং আমাদের নেতাও যোগ্যতর।২০০৪ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ডঃ বি চৌধুরী একটি মহৎ সংকল্প নিয়ে দেশের সুশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। সেই সময়ের সরকার ও সরকারি দলের নজিরবিহীন সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি দেশবাসীকে প্রতিবাদী , সজাগ ও সচেতন করতে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে একটি উদারপন্থী রাজনৈতিক দল গঠন করেন।দল গঠনকল্পে তিনি দেশের তিনটি সমস্যাকে প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করলেন এবং সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংকল্প ব্যক্ত করলেন। তাঁর অমর বাণী,”শ্রদ্ধা করে কেউ কখনো ছোট হয় না, হিংসা করে কেউ কখনো বড় হয় না” আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম সাক্ষাতেই তাঁর অফিসে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ছবি একসাথে পাশাপাশি দেখে আমি অভিভূত হয়েছি।তাই, বিকল্প ধারার রাজনীতিতে আমি নিজেকে সম্পৃক্ত করি। ‘পেশিশক্তি নির্ভর নয়, রাজনীতি হবে মেধা ভিত্তিক’ তাঁর এই দর্শনটিও আমাকে মুগ্ধ করেছে।বলতে পারেন এসব কারণেই বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছি।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ডাঃ বি চৌধুরী একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক এবং দেশ সেরা রাজনীতিবিদ। তাঁর ব্যাক্তিত্বের ও চরিত্রের কোন কোন দিক আপনাকে আকৃষ্ট করেছে ?
মহসীন চৌধুরীঃ তাঁর সৎ ও স্বচ্ছ চরিত্র এবং অসাধারণ বাগ্মীতার প্রতি আমি দারুনভাবে আকৃষ্ট হয়েছি। তিনি রাজনীতিবিদদের সম্মানে করতেন, তিনি অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতার এক অসাধারণ গুন ছিল। তিনি মানুষের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন । দলীয় বিষয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতেন। পেশাগত জীবনে তিনি গরীব ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতেন। তাঁর মতো গুনীজনকে আমি পদে পদে অনুভব করি।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ২০০৪ সালে বিকল্প ধারা গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ছিল ? সেই লক্ষ্য কি অর্জিত হয়েছে ?
মহসিন চৌধুরীঃ আমরা হয়তো আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারি নাই,তাই বলে লক্ষ্যচ্যুতও হই নাই। লক্ষ্য অর্জনের পথে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণই ছিল বিকল্প ধারার রাজনীতির মূল লক্ষ্য সমূহ।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের শরীক হয়ে অংশগ্রহণ করাটা আপনার দলের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন কি-না ?
মহসীন চৌধুরীঃ প্রথমত, ২০১৮ সালে আমরা মহাজোটের অংশ ছিলাম না। মহাজোটের সাথে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত,২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আমি কোনোভাবেই ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না। সেই নির্বাচনে শুধু বিকল্প ধারা নয় বরং দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ প্রায় সবকটি নিবন্ধিত দলই অংশ নিয়েছিলো। সেই দিন আমরা কেউই জানতাম না যে,শেখ হাসিনা দিনের ভোট রাতেই করে ফেলবে।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ২০২৪ সালে আপনারা মহাজোটের সাথে নির্বাচনী জোটে না গিয়ে কেনো এককভাবে নির্বাচন করলেন ?
মহসীন চৌধুরীঃ ২০২৪ সালে মহাজোটে থাকার কোনো কারণই ছিল না।১৮ সালের পার্লামেন্টে আমাদের যে দুজন সংসদ সদস্য ছিলেন তাঁরা ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। এমপি নির্বাচিত হওয়া ছাড়া তাঁরা মহাজোট সরকারের কাছ থেকে বৈধ কিংবা অবৈধ বাড়তি সুবিধা নেননি। দেশবাসীর মতো আমাদের দল উপলব্ধি করেছিল যে, আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল।তারা হাজার হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে লুটপাটের মাধ্যমে পাচার করেছে।গুম-খুনের মতো জঘন্য অপরাধ করেছে। তাদের ব্যর্থতায় বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটেছে। মিথ্যা মামলা আর হামলা দিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নজীরবিহীন দমন-পীড়ন চালিয়েছে। অতএব,এমন জনবিরোধী রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্য করার কথা বিকল্প ধারা চিন্তাই করে নাই।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা পরপর তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে তার পতন ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানকে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন ?
মহসীন চৌধুরীঃ ছাত্র জনতার গণ আন্দোলন বা গণ অভ্যুত্থান ছিল একটি বিশাল জাগরণ। তাঁরা মূলত রাজপথে নেমেছিল কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার যখন ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করে নির্মম ও নির্দয়ভাবে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রছাত্রীদের নির্বিচারে হত্যায় উম্মত্ত হয়ে গেল ছাত্র জনতা তখন এক দফার দাবিতে অর্থাৎ শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমে আসলো। দেশবাসীর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রী সভার সদস্যরা যার যার মতো করে পালাতে বাধ্য হলো।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে বিকল্প ধারার ভূমিকা কী ছিল ?
মহসীন চৌধুরীঃ জুলাই অভ্যুত্থানের সময়টাতে বিকল্প ধারা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় ছিল।বি চৌধুরী স্যারের নির্দেশে আমরা যার যার অবস্থান থেকে ছাত্রজনতার পাশে রাজপথের ছিলাম।মাহী বি চৌধুরী তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তিনি নিজেই জরুরী সেবার তত্ত্বাবধানে ছিলেন যা দেশবাসী ভিডিও চিত্রে দেখেছে। জুলাই মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত আমার জানামতে প্রায় দেড় হাজার আহত আন্দোলনকারীরকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছেন। সরকারের ফ্যাসিবাদী হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডাঃ বি চৌধুরী হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়ে গণমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতা বা কোনো সম্পদই আমাদের সন্তানদের জীবনের চাইতে অধিক মূল্যবান হতে পারে না। তিনি সমগ্র দেশবাসীকে সেদিন ছাত্রজনতার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।তখন যেহেতু কেউই দলীয় ব্যানারে মাঠে ছিল না,তাই আমরাও দলীয় ব্যানার ছাড়াই ছাত্রজনতার পাশে ছিলাম।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আপনার অনুভূতি কেমন?
মহসীন চৌধুরীঃ মুক্ত বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো। শেখ হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশে মানুষ প্রাণ খুলে হাসতে পারছে,কথা বলতে পারছে , সব দল রাজনীতি করতে পারছে এবং সবাই অবাধে চলাফেরা করতে পারছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা। জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদ ও আহতদের প্রতি আমি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কারো একক কৃতিত্বে নয় ছাত্রজনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেখ হাসিনার করুন পতন হয়েছে। হাসিনার পতন ও পলায়ন থেকে রাজনীতিবিদদের অনেক কিছু শেখার আছে।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিকল্প ধারা কি বিএনপি জোটে যাবে, নাকি ইসলামপন্থী জোটে যাবে, নাকি এককভাবে নির্বাচন করবে ?
মহসীন চৌধুরীঃ এটা ভবিষ্যতের ব্যাপার। নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারবো না।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ বহুল আলোচিত পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার দলের অবস্থান কী ?
মহসীন চৌধুরীঃ আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি পিআর পদ্ধতি সমর্থন না করার কোনো কারণ নেই। দলীয় নয়, আমার পরামর্শ হলো -দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হোক।নিম্ন কক্ষের তিনশ’ আসনে এবং সংরক্ষিত ১০০নারী আসনে সরাসরি ভোটে এমপি নির্বাচিত হোক। উচ্চ কক্ষের ১০০ আসন সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে হোক। পিআর পদ্ধতিতে অনেক যোগ্য ও জ্ঞানী লোকের সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ট্র্যাজেডি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী ?
মহসীন চৌধুরীঃ উত্তরার যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আমি ভীষণভাবে মর্মাহত।যে শিশুদের প্রাণ অকালে ঝরে গেল তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। প্রসঙ্গত বলতেই হয় যে, এই বিমানটি অত্যন্ত পূরনো ছিল।আমরা শুনেছি চীন কয়েকবার চিঠি দিয়েছিল বিমানটিকে বাতিল ঘোষণার জন্য কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার চীনের কথায় গুরুত্ব দেয়নি।আমি মনে করি, বিমান উপদেষ্টা ও বিমানবাহিনী প্রধানের উচিত হয়নি এই অচল যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা। তাছাড়া, প্রশিক্ষণ বিমান কখনো লোকালয়ে প্রশিক্ষণ দেয় না। খোলা ময়দানে বা সাগর তীরে সাধারণত এমন প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে।উন্নত বিশ্বে জনমানবশূন্য এলাকায় জঙ্গি বিমানের প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। এতগুলো নবীন তাজা প্রাণ ঝরে গেলো শুধু অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ সম্প্রতি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন।এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
মহসীন চৌধুরীঃ দলীয় নয়, আমার ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে শুধু এইটুকু বলছি জুলাই ঘোষণা পত্র সকল পক্ষকে সমানভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আপনার আছে কিনা এবং থাকলে সেটা কোন আসন থেকে ?
মহসীন চৌধুরীঃ সব রাজনীতিবিদদের মতো আমিও বড় পরিসরে দেশ সেবা করতে চাই। জনগণের সেবা করার উত্তম পন্থা হলো এমপি মন্ত্রী হওয়া।সরকারি অর্থায়নে মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া যায় কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। রাজনীতি ছাড়া ব্যাপক অর্থে জনসেবা করা যায় না। তাই,দল মনোনয়ন দিলে আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী -০৩(দাগনভূঁইয়া-সোনাগাজী)আসনে নির্বাচন করার কথা ভাবছি।
দৈনিক গণমানুষের আওয়াজঃ জনাব মহসীন চৌধুরী আপনার ভবিষ্যৎ রাজনীতির সাফল্য কামনা করছি এবং মর্নিং পোস্টকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মহসীন চৌধুরীঃ আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা

আরও পড়ুন
তোফায়েল আহমেদ আর নেই
জনগণকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের প্রধান দায়িত্ব : আইজিপি আলী হোসেন ফকির
আগামী দুই বছরের মধ্যেই বিমানবন্দরটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে