হোম » সাহিত্য » ফুলজোড় নদী, জীবন ও জীবিকা অতঃপর মুক্তিযুদ্ধ ও ঘাটিনা ব্রিজ

ফুলজোড় নদী, জীবন ও জীবিকা অতঃপর মুক্তিযুদ্ধ ও ঘাটিনা ব্রিজ

মোঃ মনিরুল ইসলামঃ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ন নদী হল ফুলজোড় নদী। অনেকে একে করতোয়া বা বাঙালী নদী বলে থাকেন। আসলে এটি বাঙালী-করতোয়ার একটি সম্মিলিত শ্রোতধারা। বগুড়া জেলার দক্ষিনে ধুনট ও শেরপুর পয়েন্টে করতোয়া নদী বাঙালী নদীতে মিলিত হয়ে ফুলজোড় নাম ধারন করে একটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, কামাখন্দ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার একটা বিশাল অংশজুড়ে অবস্থান করছে ফুলজোড় নদী। মাঝে নলকার উজানে যমুনার শাখা নদী ও ইছামতি নদীর পানি গ্রহন করে নদীটি নিজেকে ধন্য করেছে এবং সর্বশেষ বাঘাবাড়ী ঘাটের সামান্য ভাটিতে আত্রাই ও বড়াল নদীর স্রোতের সাথে মিশে হুরাসাগর নদীতে পতিত হয়ে নিজের অস্তিতকে বিলিন করেছে।

দীর্ঘ ৬০ কিলোমিটারের অধিক পথ পাড়ি দেয়া এই নদীটি সিরাজগঞ্জ তথা এই নির্ঝঞ্জাল জনপদের একটা বিশাল অংশজুড়ে মানুষের অর্থনীতি, জীবন ও জীবিকার সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। নদী মাতৃক এই জনপদের নানাবিদ কর্মকান্ড ফুলজোড় নদীর সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ফুলজোড় নদীর দুইপাড়ে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, তরিতরকারী, বাদাম, ক্ষিরা, শসা, ভাংগি, তরমুজ, পেয়ারা প্রভৃতি ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাহারী সবজি ও তরিতরকারী যেমন আলু, পটল, লাউ, ঝিংগা, বেগুন, কাচামরিচ, শসা, ক্ষিরা, পেয়ারা এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে যমুনা সেতু পাড় হয়ে ঢাকার কাওরান বাজারে যাচ্ছে প্রতিনিয়িত। ফুলজোড় নদীর পলিমাটি এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব এনে দিয়েছে। নদীর দুই পাড়ে কৃষক, কামার, কুমার, জেলে, তাতী, পাটনী, ধোপাসহ নানা পেশার মানুষ যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করে চলেছে।

নদীর দুইধারে কাচাবাড়ী ও টিনের বাড়ী বেশী বেশী দেখা যায় তবে ইদানিং কালে অর্ধ পাকাবাড়ী ও পাকাবাড়ীও বেশ চোখে পড়ে। এক সময় নদীর দুই পাড়ে ঘাটে ঘাটে ছোট নৌকা, মাঝারী নৌকা, বড় নৌকা ও মহাজনী নৌকা ছিল। বছরের একটা উল্লেখযোগ্য সময় পানির সঙ্গে মানুষের বসবাস ছিল-বাজারঘাট, যাতায়াত, পন্য পরিবহন, আত্বীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রভৃতি নৌকা যোগে হতো। এ জনপদের মানুষকে একটা সময় প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হতো- না ছিল রাস্তাঘাট, না ছিল বিদ্যু, না ছিল মোবাইল, না ছিল কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা। বরং মানুষকে বৈরী পরিবেশের সাথে সখ্যতা করেই জীবন ধারন করতে হতো। বর্ষাকালে অতি বৃষ্টিতে বন্যার পানি, কাদামাটি, ভাঙ্গা রাস্তা, উপচেপড়া নর্দমা প্রভৃতি প্রতিকুল পরিবেশ জয় করে টিকে থাকাই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

উত্তর থেকে দক্ষিনে আড়াআড়ি ফুলজোড় নদী সর্পিলাকারে বয়ে চলেছে। একটা সময় মিঠাপানির মাছের একটা বড় উৎস ছিল এই ফুলজোড় নদী। হরেক রকম মাছের বিচরন ছিল ফুলজোড় নদীতে, বর্ষা মৌসুমে প্রচুর মাছের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও এ নদীতে পলো, চাবি নিয়ে মাছ ধরার জন্য বায়ত নামতো রীতিমতো মাইকিং করে বা মষের সিংগা বাজিয়ে। ফুলজোড় নদীর অনেক মোহনা, বাক ও বিল রয়েছে। এক সময় ফুলজোড় নদীর ভরা যৌবন ছিল এবং সারাবছর পানি থাকতো ও নৌকা চলতো। ৭০/৮০ এর দশকতো বটেই এমনকি ৯০ এর দশকেও এ নদীতে ঝাকে ঝাকে পাল তোলা নৌকা চলাচল করতো। আস্তে আস্তে অন্যান্য নদীর মতো ফুলজোড় নদীর পানির উৎসগুলিও সীমিত হয়ে গেছে তাই নদীর আগের সেই যৌবন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। অথচ আজ থেকে ২৫/৩০ আগেও এ জনপদে প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যা হতো-বন্যার পানিতে ফসল, রাস্তাঘাট, গবাদিপশু ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হতো। অথৈই জলের কারনে স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসময় বন্ধ থাকতো এবং মানুষের অর্থনেতিক কর্মকান্ডসমূহ সীমিত হয়ে যেত। ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষের জীবন তচনচ হয়ে গিয়েছিল। বর্ষাকালে এখানে নৌকাডুবি, নদী ভাঙ্গন, সাপের কামড় ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে আবার ডাইরিয়া, কলেরাসহ নানা প্রকার রোগ বালাই দেখা দিতো। এক সময় খাবার পানির সংকটও এ অঞ্চলে প্রকট ছিল ।

বর্ষাকালে মানুষের তেমন কোন কাজকর্ম থাকেনা, এসময়ে গ্রামে গ্রামে লাঠি খেলা, জারিগান, সারিগান, দুয়াগান ও নৌকা বাইচ প্রভৃতির আয়োজন চলে। নৌকা বাইচ নদী এলাকার মানুষের একটা শ্রেষ্ঠ বিনোদন। ফুলজোর নদীতে নলকা, হাটপাঙ্গাসী, কালীগঞ্জ, সোনতলাসহ নানা পয়েন্টে প্রতিবছর নৌকা বাইচের আয়োজন হতো। রং বেরঙের বাহারী পানসি নৌকাগুলি বাহারী পোশাক, বাইচাল ও পতাকা নিয়ে বাইচে অংশগ্রহন করতো। চাকশার করম আলীর নৌকা, বাহিমালের পানসি নৌকা, চালা গ্রামের নৌকা, ব্র্হ্মকপালিয়ার নৌকা, সদাই গ্রামের মেজবাহারের নৌকা প্রভৃতি ফুলজোড় নদীর নৌকা বাইচের আনন্দকে ঐতিহ্য মন্ডিত করেছে। মানুষ দলে দলে পায়ে হেটে ও নৌকা যোগে এসময় নৌকা বাইচ দেখতে আসতো এবং প্রাণভরে উপভোগ করতো। এছাড়া ডোলের তালে তালে লাঠি খেলা, যাত্রা, সার্কাস, একদেলের গান, বেহুলার গান, বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয় উৎসব-ঈদ, পুজা, পার্বন, ওরশ প্রভৃতি গ্রামীণ সংস্কৃতি ফুলজোড় নদীর চলমান ধারার মতোই এ অঞ্চলে আজও বহমান।

ফুলজোড় নদীর বিভিন্ন বাকে বাকে শত শত ঘাট রয়েছে,এ সকল ঘাট ব্যবহার করেই মানুষকে একপাড় হতে আরেক পাড়ে যেতে হয়। এই ঘাটগুলি প্রতিবছর ইজারা দিয়ে স্থানীয় সরকার তথা জেলা পরিষদ কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। অবশ্য বর্তমানে অনেক ঘাটেই বড় বড় ব্রিজ তৈরী হয়েছে যেমন নলকা ব্রিজ, নলকার উজানে হাটপাঙ্গাশী ব্রিজ, নলকার ভাটিতে বড়হর ব্রিজ, ঘাটিনা ব্রিজ, সোনতলা ব্রিজ, চরনবীপুর ব্রিজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্রিজ এ নদীতে তৈরী হয়েছে এবং আরও অনেক ব্রিজ প্রক্তিয়াধীন ও নির্মানাধীন রয়েছে। ঘাটিনা নামক স্থানে সাম্প্রতিক কালের সড়ক সেতুর পাশাপাশি আগে থেকেই রেলব্রিজ ছিল। ব্রিটিশ সরকারের আমলে উপমহাদেশে যখন রেলের রাস্তা ও ব্রিজ তৈরী করা হয় ঠিক সেই সময়েই ঘাটিনা রেলব্রিজ তৈরী করা হয়েছে। ১৯০৯-১৯১৪ সালের মধ্যে শুধুমাত্র ইস্পাত ও ইট দিয়ে তৈরী করা হয় এই টেকসই, মজবুত ও নান্দনিক ব্রিজটি। ব্রিজটি নির্মানের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন বিটিশ স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেইলস। ১৯১৪ সালে ঘাটিনা ব্রিজ উদ্বোধন করা হয় এবং ১১০ বছরেও ব্রিজটি অক্ষত রয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলা সীমানার মধ্যে মোট ২২ কিলোমিটার রেল লাইনসহ লাহিড়ী মোহনপুরের দক্ষিনে আরও দুটি রেলব্রিজ, উল্লাপাড়া রেলষ্টেশন, লাহিড়ী মোহনপুর রেলষ্টেশন ও সলপ রেলষ্টেশনটিও এই সময়ের মধ্যে নির্মান করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৩-২৪ এপ্রিল এই ঘাটিনা রেল ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের সাবেক মহকুমা প্রশাসক ও মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব শহীদ একে শামসুদ্দিন আহমেদ ও তদানিন্তন উত্তর বঙ্গের বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের পরিচালক মরহুম আব্দুল লতিফ মির্জা এর তত্ত¡াবধানে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে পাক বাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধক্ষেত্র। সবে মাত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে, চলছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। ইতোমধ্যে পাবনা ও বগুড়া শহর দখল নিয়েছে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী। সড়ক পথে পাবনা থেকে সিরাজগঞ্জ আসার পথে পাকসেনারা বাঘাবাড়ী ঘাটে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। বাঘাবাড়ী ঘাটে তখন সেতু ছিলনা, স্থানীয় লোকজন ও মুক্তিযোদ্ধারা ঘাট থেকে থেকে সমস্ত নৌকা ও ডিঙ্গি নাও সড়িয়ে ফেলেন এবং সেখানকার স্থানীয় এমপি আব্দুর রহমান ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা মিলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে শক্ত প্রতিরোধে গড়ে তোলায় পাক বাহিনী ২ দিন পর্যন্ত নদী পাড়াপাড়ে ব্যর্থ হয়। নিরুপায় হয়ে এই বাহিনী ঈশ্বরদী রেলষ্টেশন থেকে ট্রেনযোগে সিরাজগঞ্জে ঢোকার পরিকল্পনা নেয়।

রেলপথে ঈশ্বরদী থেকে পাক বাহিনী সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহর দখল নেয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে রওনা করেছে এই গোপন খবরটি মুক্তিযোদ্ধাদের অবিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক এসডিও শহীদ একে শামসুদ্দিন আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধারা ২৩ এপ্রিল জানতে পারেন এবং ঐদিনই সেখান থেকে প্রায় ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা পায়ে হেটে ২২ কিলোমিটার পথ পেড়িয়ে ঘাটিনা ব্রিজে এসে উপস্থিত হন এবং উল্লাপাড়া ও আশে পাশের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দিয়ে ব্রিজের শাহজাহানপুর প্রান্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্থানি আর্মি যাতে সিরাজগঞ্জ শহরে ডুকতে না পারে তার জন্য ব্রিজের পশ্চিমপাড়ে রেল লাইনের কয়েকটি পাত খুলে ফেলা হয়। ২৪ এপ্রিল ১৯৭১ দুপুরবেলা পাকিস্থানি সেনাদের বহনকারী ট্রেনটি এখানে এসে থেমে যায় এবং সেনারা ট্রেন থেকে নেমে কি হয়েছে দেখতে থাকেন আর তখনই ব্রিজের পূর্বপাড়ে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা গুলি বর্ষন শুরু করেন অবশ্য পাক বাহিনীও পাল্টা আক্রমন শুরু করে। বেলা ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলা তিন ঘন্টাব্যাপি এ সম্মুখ যুদ্ধে ১১ জন পাক সেনা ও তাদের সহযোগী কয়েকজন অবাঙালীসহ মোট ১৫ জন নিহত হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তেমন কোন ক্ষতি হয় নাই, মাত্র ২ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। পাক সেনারা পরাজিত হয়ে পিছু হটতে থাকে এবং ট্রেনটি পিছন ফিরে ঈশ্বরদী ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সেদিনের ঘাটিনা ব্রিজের যুদ্ধে যারা সক্রিয় অংশ গ্রহন করেছিলেন তাদের মধ্যে এসডিও শহীদ একে শামসুদ্দিন আহমেদ, সাবেক এমপি আব্দুল লতিফ মির্জা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন জিএস আব্দুস সামাদ, সাবেক পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের ব্যাটালিয়ান কমান্ডার লুৎফর রহমান অরুন, সাবেক এমপি এ্যাডঃ শামসুল আলম, গাজী খোরশেদ আলম, গাজী আব্দুস সামাদ, কয়ড়ার শামছু প্রমূখ উল্লেখযোগ্য।

রামকান্তপুর খেয়াঘাট,উল্লাপাড়া।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর তথ্যমতে নদী মাতৃক এই বাংলাদেশে ৪০৫ টি নদ-নদী রয়েছে। ফুলজোড় নদী তাদেরই এক প্রতিনিধি। বাংলাদেশের গ্রাম, শহর, বন্দর, হাটবাজার প্রভৃতি নদীগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। মানুষের কৃষ্টি, কালচার, নাটক, সিনেমা, গানের কাহিনীও নদীকে কেন্দ্র করে তৈরী হয়েছে। ফুলজোড় নদীর যৌবন, ভাঙ্গন, চর, জোয়ার ভাটা, উত্থান-পতন প্রভৃতি থাকা সত্তে¡ও এ নদীকে কেন্দ্র করে না হয়েছে সিনেমা, না হয়েছে নাটক, না হয়েছে গান। তাইতো এ অঞ্চলের কোন এক অখ্যাত গায়ক পল্লী হাফিজ ফুলজোড় নদীর দুঃখ নিয়ে গেয়েছেনঃ

হায়রে ফুলজোড় নদীরে
জীবন তোর কেটে গেলো বালু চরে
ভাঙ্গনের খেলা শেষে কাদলী তুই ভাটির চরে
কতজনা ফেরারী তোর কারনে।

ফুলজোড় নদীর ভাঙ্গনে বহু পরিবার স্থানান্তর হয়েছে। যমুনা নদীর মতো ফুলজোড় নদীর বুকেও অনেক স্বপ্নের সলিল সমাধী হয়েছে তবুও ফুলজোড় নদী আপন মহিমায় বয়ে চলেছে। রতন মাঝি, আসাদুল মাঝি, হাকিম মাঝিরা আজও ফুলজোড় নদীর বহমান কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। রামকান্তপুর খেয়াঘাট, কালীগঞ্জ খেয়াঘাট বা বন্যাকান্দি খেয়াঘাট গুলোতে এখনও হাজারো মানুষের পদচারনা সেই সোনালী অতীতের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এখনও চোখে পড়ে ফুলজোড় নদীর বুক জুড়ে জীবন ও জীবিকার নানা আয়োজন। হয়তো একসময় এখানে কংক্রিটের ব্রিজ তৈরী হবে তবুও কি ফুলজোড় নদীর বহুমাত্রিকতা শেষ হয়ে যাবে ? কালের স্বাক্ষী হয়ে দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ তুলে ঠিকই নিজের অস্তিত্বের পরিচয় দিবে।
সমাপ্ত।

লেখকঃ
মোঃ মনিরুল ইসলাম
সিনিয়র ব্যাংকার,
জনতা ব্যাংক
পিএলসি.
রাজশাহী।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!