
আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বনগাঁও বাজারে বীর মুক্তিযুদ্ধার সন্তান হাবিবুর রহমান (৪০) এর উপর প্রতিপক্ষীয় পিতাপুত্রের হামলার ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত করেছে পুলিশ। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই সোহেল সরজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। ছমেদনগর গ্রামের মৃত রুসমত আলীর পুত্র আব্দুল করিম এবং তার সহোদর মুজিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান,আব্দুল করিমের পুত্র আলী আহমদ জুলহাস ও মুজিবুর
রহমানের পুত্র আব্দূন নূর গংদের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধার জখমী পুত্রের দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত করেন তিনি। এলাকাবাসী জানান,রঙ্গারচর ইউনিয়নের বনগাঁও পাহাড়ী ছড়া থেকেপ্রতিদিন মসজিদের নামে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে আব্দুল করিম ও তার ভাই ভাতিজারা। ২০২০ সালে বালি বিক্রির ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আব্দুল করিমগং আত্মসাৎ করে। গত ২৫ জুলাই জেলা পুলিশসুপারের কাছে আব্দুল করিম গংদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে উক্ত অভিযোগে স্বাক্ষর করেন ছমেদনগর গ্রামের বীর
মুক্তিযোদ্ধা শানুর মিয়ার সন্তান হাবিবুর রহমান। সুনামগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের লোকজন সরজমিনে গিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলনের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত করেন। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দেন হাবিবুর রহমান। এতে পুলিশের কাছে সাক্ষ্যদাতার প্রতি ক্ষুব্ধ হয় আব্দুল করিম ও তার বাহিনীর লোকজন। আক্রোশের ধারাবাহিকতায় গত ৮ আগস্ট রবিবার বিকাল ৬টার সময় বনগাঁও বাজারস্থ দুলাল মিয়ার চায়ের দোকানে একা পেয়েপ্রাণনাশের লক্ষ্যে হাবিবুর রহমানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় আব্দুল করিম ও তার বাহিনীর লোকজন।
তারা বাঁশের লাঠি ও কাঠের রুইল দ্বারা এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে আহত করে তাকে। আহত হাবিবুর রহমান জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর জখমী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় আব্দুল করিম ও তার পুত্র আলী আহমদ জুলহাসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আরো জানা যায়,গত ৪/১১/২০২০ইং তারিখে কান্দি ছমেদনগর গ্রামের মৃতআব্দুল রশিদের পুত্র গোলাম মোস্তফা
বুলবুল কে খুন করার হুমকী দেয় উক্ত করিম বাহিনী। এ ঘটনায় ছমেদনগর গ্রামের মৃত রুসমত আলীর পুত্র আব্দুল করিম ও তার সহোদর মুজিবুর রহমান ও আব্দুর রহমান,আব্দুল করিমের পুত্র আলী আহমদজুলহাস,হোসেন মিয়ার পুত্র আব্দুস ছাত্তার এবং মৃত লাল মিয়ার পুত্র হারুন গংদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে উক্ত করিম বাহিনীর বিরুদ্ধে সদর মডেল থানার এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন গত
১১/১১/২০২০ইং তারিখে আদালতে নন.এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং ১৩৬/২০২০ইং প্রেরণ করেছেন। আব্দুল করিম ও তার পুত্র আলী আহমদ জুলহাস একই গ্রামের বাউল শিল্পী আব্দুল কাইযূমের দায়েরকৃত সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং ৬ (জিআর ৮৮/২০১৭) তাং ৮/৩/২০১৭ইং এর চার্জসীটভূক্ত আসামী বলেও জানান এলাকাবাসী। ইতিপূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সমুজ আলীর উপরও হামলা করেছিল ঐ সন্ত্রাসী পিতাপুত্র। সমুজ আলী বলেন,আব্দুল করিম ও তার পুত্র মাওলানা আলী আহমদ জুলহাস,এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর একাধিকবার হামলা ও লুটতরাজ চালিয়েছে। আমরা কোনবারই তাদের বিরুদ্ধে বিচার পাইনি। আমি এই সন্ত্রাসী পিতাপুত্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে আব্দুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার কোন বক্তব্য জানা যায়নি।সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ সহিদুর রহমান ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল বলেন,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের দায়েরকৃত অভিযোগেরতদন্ত শেষ করেছি। এখন আসামীদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান