
এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ ১৭-ই আগস্ট (মঙ্গরবার) সকাল ১০ টায় বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ায় নবনুর সমিতির (সঞ্চয়ী) সাধারণ সদস্যদের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার প্রতিবাদে সঞ্চয়ী সদস্যের সঞ্চয় ফেরতের দাবীতে ২ শতাধিক সদস্য বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বাঘোপাড়া নামক স্থানে মানব বন্ধন করেছে।
মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া উত্তর পাড়া নবনুর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (রেজিঃ নং-বগ-১১৯/৯৮ ইং) এর পরিচালনা কমিটি কর্তৃক প্রায় দু’শতাধিক দরিদ্র অসহায় নারী পুরুষ, সঞ্চয়ী সদস্যদের জমানো প্রায় ২কোটি টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে ও প্রতারকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আমানতের টাকা ফেরতের দাবীতে বগুড়া রংপুর মহাসড়কের বাঘোপাড়া খোলারঘরে মহাসড়কে মানব বন্ধন করেছে। মানব
বন্ধনে সদস্যরা বলেন আমরা এলাকার গরীব ও অসহায় পরিবারের সদস্য। আমাদের অভিভাবকেরা দিন আনে দিন খায়। আমরা মাসে ২০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০ টাকা বা কেউ কেউ ৫০০/১০০০ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদী বা ১ বছর মেয়াদী মাসিক সঞ্চয় করি। অনেকে গরু ছাগল বিক্রি করে এফডিয়ার করেছে, তাদের সকলে মিলে প্রায় দু’কেটি টাকা জমা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলেও সমিতির পরিচালকগণ আমাদের টাকা ফেরৎ না দিয়ে তাল বাহানা করছে।
গ্রাম্য শালিশে তারা টাকা ফেরৎ দিতে চাইলেও প্রায় এক বছর পার হয়ে গেল তারা অদ্যবদি টাকা ফেরৎ না দিয়ে আত্মগোপন করে আছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সঞ্চয়ী সদস্য মৃত গনির স্ত্রী বিধিবা সোনাভান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমি মানুষের বাড়ীতে কাজ করে গত কয়েক বছর ধরে নবনুর সমিতিতে ৬২ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছি, আমার কাছে জমাদানের বই আছে। সে টাকাও তারা আত্মসাৎ করেছে। আমি এখন কোথায় যাব, কি খাব, মেয়েদেরকে কি ভাবে বিব্হ দিব ? সাংবাদিকদের দেখে এভাবেই সোনাভানেরমত বিধবা ও গরীব সদস্য কান্নায়
ভেঙ্গে পড়ে এবং মহাসড়কের উপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এফডিআর করা সদস্য আনিছার বলেন, আমি নিজে ৯ লক্ষ টাকা, রতন ৩লক্ষ টাকা, সরাফত ৫ লক্ষ টাকা,আবুল কালাম ৩ লক্ষ টাকা, সাফিউল ৩ লক্ষ, সাইফুল ৩ লক্ষ, লিলি বেওয়া ২লক্ষ, মান্না ৩ লক্ষ টাকা, এরকম বেশি লাভের আশায় ৬০ জন গ্রাহকের এডিআর করা টাকা সমিতি কতৃপক্ষ ফেরত দিতে তালবাহানা করছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন আমানতের টাকা
আত্মসাৎকারী নবনুর সমিতির নির্বাহী পরিচালক মৃত আব্দুস সাত্তারের পুত্র আলমগীর হোসেন চঞ্চল, শাহজাহান মন্ডলের পুত্র পরিচালক ও সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, হায়দার আলীর পুত্র হানিফ উদ্দিন পারভেজ, মৃত আবু তাহেরের পুত্র আবু তাকি ও আবু রাখি, সোবহান বাবলুর কন্যা শাপলা বেগম, মৃত মোজাম্মেল হক ছকুর পুত্র ইমান আলী, মৃত ছমেস উদ্দিনের পুত্র আবু বক্কর, মৃত জোনাব আলী মন্ডলের পুত্র আশরাফুজ্জামান কনক, খোকা
স্বর্নকারের পুত্র মিজানুর রহমান, আজমল হোসেন দুলাল, সর্ব সাং বাঘোপাড়া উত্তর পাড়া, থানা জেলা বগুড়াগণ উক্ত পরিমান টাকা আত্মসাৎ করেছে। অবিলম্বে তাদেরকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসুচী দেওয়া হবে বলে মানব বন্ধনে উপস্থিত সদস্যগন ঘোষনা দেন। এব্যাপরে বাঘোপাড়া উত্তর পাড়া নবনুর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর নির্বাহী পরিচালক আলমগীর হোসেন চঞ্চল ও সভাপতি জাহাঙ্গীর
হোসেন জুয়েল বলেন, করোনার কারণে এলাকার মরুব্বীদের পরামর্শে আপাতত সমিতি বন্ধ আছে। অচিরেই সমিতির কার্যক্রম শুরু করা হবে। এক সাথে সকল সদস্যের আমানতের টাকা ফেরৎ দেয়া সম্ভব না। করোনার জন্য কয়েক মাস যাবৎ কিস্তির টাকা আদায় হয়নি। আদায় হলে আস্তে-আস্তে সকল সদস্যের আমানত ফেরৎ দেয়া হবে।
পরিচালনা কমিটির সদস্য আজমল হোসেন দুলাল বলেন. আমি বর্তমানে বাঘোপাড়া উত্তর পাড়া নবনুর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর কোন সদস্য নই। গত তিন বছর আগে সাধারণ সদস্য ছিলাম ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বার লিখিত পদত্যাগপত্র দিয়ে অব্যাহতি নিয়েছি। তার পর থেকে সমিতির সাথে আমার কোন লেনদেন নেই।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান