হোম » প্রধান সংবাদ » অতি বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণে দাগনভূঞার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

অতি বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণে দাগনভূঞার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

দাগনভূঞা প্রতিনিধি: টানা বর্ষনে দাগনভূঞা বিভিন্ন  এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাসাবাড়িতে জলজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে দাগনভূঞাবাসী। গত বুধবার রাত থেকেই এ জলজট সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কটি দুই লেন থেকে ফোরলেনে উন্নীত হওয়ায় সড়কের পাশে থাকা খালটি অনেকটা ভরাট হয়ে যায়। বর্ষায় দাগনভূঞা পৌরসভার বাজার এলাকা, পৌরসভার ৪,৫,৬,৭ ও ৮নং ওয়ার্ড এবং দাগনভূঞা সদর ইউনিয়ন ও
মাতুভূঞা ইউনিয়নের একটি অংশের পানি এই খাল হয়ে ছোট ফেনী নদীতে গিয়ে পড়ে। ফোরলেনের কাজের কারণে খালটি অনেকটা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবারের বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে, এসব এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। চাষাবাদ করতে না পারায় ক্ষতিরমুখে পড়েন কৃষকেরা।  এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে
রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, পুকুর, মাছের ঘের, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত ডুবে যায়। ভয়াবহ এ পরিস্থিতি এলাকাবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।  সরেজমিনে দেখা যায়,দাগনভূঞা পৌর এলাকার সাতবাড়ি, সুলতান মার্কেট, ফাজিলের ঘাট রোড, বাশতলা, হাসপাতাল  রোড,  গজারিয়া রোড,  দাসপাড়া রোড এলাকায়,  ৭ নং মাতুভূঞা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা,দাগনভূঞা সদর ইউনিয়ন বিভিন্ন ওয়ার্ডে  বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত
পানিতে থই থই করতে দেখা গেছে।  মাতুভূঞা ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড কৃষ্ণরামপুর গ্রামের মাছ চাষি টিকেন্দ্র নাথ বলেন এবারের বর্ষায় তার মাছের পুকুর ভেসে গেছে। এতে প্রায় তার দুলাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। দাগনভূঞা পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ড রামানন্দপুর গ্রামের হাজি আহসান উল্লা বলেন, তার দুটি পুকুর ভেসে গেছে। ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, আমাদের বাড়ির থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ২শ ফুটের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর  পৌরসভা পর্যাপ্ত
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি আমাদের বাড়ির সড়ক দিয়ে প্রবাহীত হচ্ছে।  এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাড়ির লোকজন দের। সুলতান মার্কেট এর ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের মার্কেটে পানি জমাট হলে দাদনার খাল দিয়ে প্রবাহিত হতো। কিন্তু খাল টি ভরাট হওয়ার কারণে মার্কেটে  বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত পানিতে থই থই করতে দেখা গেছে।  ফাজিলের ঘাট রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সুমন জানান, ভারী বর্ষনের
ফলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত আমাদের বাড়ির চারপাশ ও বাসার নীচ তলা হাটু পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এতে আমার বাসার নীচতলার ফার্নিচারের ক্ষয়ক্ষতি হয়। গজারিয়া রোডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন জানান, সকালে বাজারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই।  কিন্তু চক্ষু হাসপাতালে  সামনে হাটু পরিমাণ পানি দেখে রিক্সায় করে বাজারে আসি পৌরসভা এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর  বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির
পানিতে নাগরিক দের এ সমস্যায় পড়তে হয়। জলাবদ্ধতার ক্ষয়ক্ষতি থেকে এসব এলাকার লোকজনদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড রামানন্দপুর গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা-বিশেষ করে যুব সমাজ। গত শুক্রবার সকালে সবাই একযোগে নেমে পড়েন খাল উদ্ধারে। সঙ্গে যোগদেন দাগনভূঞা পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরাও। খালের বিভিন্নস্থানে পানি প্রবাহে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাসমুহ অপসারণ করা হয়। পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান নিজে
উপস্থিত থেকে কাজ তদারক করেন।মেয়র নিজে খাল সংস্কারের কাজে অংশ নেন। ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হানিফ,৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া এরা  নিজেও কাজে অংশ নেন।খাল অপসারনে উপস্থিত ছিলেন, দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল করির রতন,দাগনভূঞা নির্বাহি অফিসার নাহিদা আাক্তার তানিয়া।
এদিকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা কিছুটা নিরসন করা গেলেও এটা স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করেন এলাকাবাসী। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হলে দাগনভূঞার পূর্ব বাজার থেকে মাতুভূঞা ব্রিজ পর্যন্ত খালটি হয় পুনর্জীবিত করা, আর নয় প্রশস্ত আকারের ড্রেন নির্মাণ করতে হবে। তাই, খাল হোক আর ড্রেন হোক- জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই পদক্ষেপ নেবেন এমন দাবি
এলাকাবাসীর। দাগনভূঞা পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, টানা  বর্ষনে পৌরসভার কয়েকটি সড়কে পানি জমাট বেধে নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।  পৌর কর্তৃপক্ষের লোকজন গত কয়েকদিন ধরে জলজট নিরসনে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের জন্য ৪ কিলোমিটার ড্রেন নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আশাকরি ড্রেনেজ পূর্ণ্যতা পেলে পৌরবাসীকে আর এ
ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না। দাগনভূঞা উপজেলার নির্বাহি অফিসার নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য দাগনভূঞার বিভিন্ন জায়গায় খাল পরিষ্কার করছি, খালের উপর অবৈধ ভাবে নির্মিত কালবাট উচ্ছেদ করছি। পানি বন্দি মানুষের জন্য অতি কষ্টে থাকলে ৩৩৩ এই নাম্বারে ফোন দিলে আমরা জরুরি ভাবে তাকে খাদ্য সহয়তা পৌছে দেব। আর খাল সংস্কার শেষ হলে আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!