
আওয়াজ অনলাইনঃ ঢাকা- গাজীপুর- টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু সহ উত্তরবঙ্গের সংযোগকারী পথটি স্থবির হয়ে আছে ? এই পথের শেষ কোথায় কেউ জানেনা তা। নিরুপায় তাই বসে থাকা নিজ নিজ বাহনে। চার ঘণ্টার পথে নেমে চৌদ্দ ঘণ্টা শেষ। আরও অনেক ঘণ্টা হয়তো যাবে। তবুও, স্বপ্ন বাড়ি যাক। করোনাকালীন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। মহাসড়ক, লঞ্চ কিংবা ফেরিঘাট, সবখানেই যেন একই চিত্র। এমনকি সড়কের প্রভাব গিয়ে পড়েছে আকাশপথে চলাচল করা যাত্রীদের উপরও।
সড়কপথে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর অন্যতম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গের সাথে সংযোগকারী পথটি গতকাল থেকে স্থবির হয়ে আছে। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকালে এই পথে দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র জানজটের খবর পাওয়া যায়।
ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও থমকে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। সোমবার সন্ধ্যায় লাগা এই পথের জট মঙ্গলবার সকালে সমানভাবে রয়েছে।
এদিকে এই দুই সড়কে দীর্ঘক্ষণের বিশাল জটের ধাক্কা এসে লেগেছে রাজধানীর মধ্যেও। গাবতলী ও মহাখালী থেকে রওনা দেওয়া গাড়ির সারি তিন চার ঘণ্টা পরও যেন দাঁড়িয়ে আছে একই জায়গায়।
বনানী-টঙ্গী সড়কে লেগে থাকা তীব্র জানজটের ফলে বিমানের অনেক যাত্রী ফ্লাইট ধরতে পারেনি। বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের জট এড়াতে সতর্ক করে মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা দিলেও, তা কাজে আসেনি। জট এড়াতে বা জটকে অতিক্রম করতে পারেননি অনেক যাত্রীই।
দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকার কারণে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি গতকাল সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে পথে নামা মানুষের বিড়ম্বনা বেড়েছে আরও।
এদিকে এতো যানজটের মধ্যেও এখন পর্যন্ত স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। সড়ক দুইটিতে আজ ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও কোথাও কোন জট নেই।
মহাসড়কের পাশাপাশি নৌপথে যাত্রী পারাপার হওয়ার প্রধান দুই রুট শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াতেও রয়েছে যানবাহন ও মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চগুলোতে মানুষের গাদাগাদি অবস্থার পাশাপাশি ফেরিতে গাড়ির সঙ্গে রয়েছে মানুষের অতিরিক্ত চাপ। ঘাটের দুই পাশে রয়েছে গাড়ির দীর্ঘ জট। এ কয়দিন আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে কোরবানির পশু পরিবহনকারী গাড়ির সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন যাত্রী পরিবহনকারী গাড়ির সংখ্যাই বেশি।
তবে এবারের ঈদ যাত্রায় সবচেয়ে নির্বিঘ্ন অবস্থা বিরাজ করছে রেলপথে। এপথে নেই কোন শিডিউল বিপর্যয়, নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে একের পর এক ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে কমলপুর রেলস্টেশন থেকে।
করোনার উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর মধ্যে ঈদ উদযাপনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করার কারণে সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশপথে মানুষ যাতায়াত করছে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটাতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যাতায়াতের কারণে ঈদের পর করোনার ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান