
মামনুর রশিদঃ নারায়নগঞ্জের ৫২ জন শ্রমিক হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবীতে মানব-বন্ধন ও র্যালী অনুষ্ঠিত।
অদ্য ১১ই জুলাই ২০২১, রোজ রবিবার, বিকাল ৫.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস (বিএলসি) এর নারায়নগঞ্জের ৫২ জন শ্রমিক হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবীতে মানব-বন্ধন ও র্যালী কর্মসুচী পালন করেন।
মহাখালী ডি এন সি সি মার্কেটের কাছ থেকে র্যালী বের করে নাবিস্কো মোড় হয়ে আবার মহাখালী ডি এন সি সি মার্কেটের বিপরীতে এসে র্যালী শেষ করেন।
উক্ত মানব-বন্ধন ও র্যালী কর্মসুচীতে সভাপতিত্ব করেন জনাব নাজমা আক্তার, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস (বিএলসি) নাজমা আক্তার বলেন, নারায়নগঞ্জে অবস্থিত হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজের মালিকানাধীন সেজান জুস ফ্যাক্টরীতে মালিক ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের অবহেলায় হত্যা কান্ডো ঘটে যেখানে শিশুসহ ৫২জন নিরিহ শ্রমিক মৃত্যু বরন করেন। উক্ত হত্যা কান্ডে মালিক ও কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর দায়িব্যাক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার, নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশ এবং আহত শ্রমিকদের সু-চিকিৎসা আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী আজীবন কাজের ক্ষতিপূরণ, ব্যাথা ও কষ্টের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবী জানান।
কার্যকরি সভাপতি জনাব নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন যে, নারায়ণগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার হত্যা কান্ডে নিহত ৫২ জন শ্রমিকের মধ্যে অধিকাংশ ছিল শিশু, কিশোর ও নারী শ্রমিক। এটা অগ্নিকান্ড বা দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডো। যে শ্রমিকের শ্রমের ঘামে গড়ে উঠছে ইমারত, মুনাফালোভী মালিকপক্ষের দায়িত্বহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব, বর্বতায় ও নিরাপদ কর্মস্থলের অভাবে আজ পুড়ে গেল তাজা ৫২ টি প্রান ও শত শত শ্রমিক আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে কষ্টের জ্বালায় কাত্রাচ্ছে । আমরা এই ঘটনার দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানাই, একই সাথে সকল দোষিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবী করছি।
ফ্যাক্টরী গুলোতে যেন শিশু শ্রম নিরসন হয়, শ্রমিকরা যেন নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চিয়তা পায় ব্যবস্থা রাষ্ট্রোকে করতে হবে। বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস এর পক্ষ থেকে, মৃত শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
মানব-বন্ধন ও র্যালীতে নেতৃবৃন্দ নিম্নে উল্লেখিত দাবী সরকারে কাছে তুলে ধরেন।
১) পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের সাথে দায়ী মালিক পক্ষ ও সরকারের কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের অনতি বিলম্ভে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২) হত্যা কান্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবার কে ও আহত শ্রমিকদের আইএলও কনভেনশন-১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩) এধরনের হত্যা কান্ডো যেন পূনারবৃত্তি না হয় তাহার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রনালয় গুলোকে সক্রিয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রের ভুমিকা পালন করতে হবে।
উক্ত মানব-বন্ধন ও র্যালীতে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
পশ্চিমবঙ্গে বড় জয়ের পথে বিজেপি, এগিয়ে ১৯২ আসনে