
সেখ হান্নানঃ অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ ২৩ অক্টোবর ১৯৩৫ সনে অলিপুর গ্রামে, উল্লাপাড়া থানায় সাবেক পাবনা তথা সিরাজগঞ্জ জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ আজগর আলী। এম এ মাজেদ ১৯৫২ সালে পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার বনওয়ারী নগর সিবি হাই স্কুল থেকে স্টার মার্ক নিয়ে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়স্থ পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম বিভাগে আইএসসিতে নবম স্থান অধিকার করেন।
১৯৫৪ সনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এমবিবিএস পাশের সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি সহকরী হাউস সার্জন হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। অতপর স্কলার্শীপ নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান। ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের রয়েল কলেজ থেকে ১৯৬৫ সনে ডিপ্লোমা ইন ল্যারিংগোলজি এন্ড ওটোলজি, ১৯৬৬ সনে এফআরসিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭১ সনে তিনি দেশে ফিরে এসে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এসোসিয়েট সার্জন হিসেবে নাক কান গলা বিভাগে কাজে যোগদান করেন।
এরপর তিনি ১৯৮৪ সনে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জন এবং ২০০৪ সনে পাকিস্তান কলেজ অব সার্জন থেকে এফসিপিএস ডিগ্রী প্রাপ্ত হন।
ইতোমধ্যে তিনি নাক কান গলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করতে থাকেন। সরকারি কর্মযজ্ঞে তার স্বচ্ছতা, বিজ্ঞতা, পার্দশিতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এর সাথে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন।
অতপর এরশাদ সরকারের সাথে নীতি আদর্শে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৮৪ সনে স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৮৮ হতে ১৯৯৬ সন পযর্ন্ত তিন তিনবার বিএমএ’র সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য ২০০৩ সালে বিএমএ তাকে গোল্ড মেডেল দিয়ে সন্মানিত করে। তিনি ডাক্তার সমাজ, প্রকৌশলী এবং কৃষিবিদদের কাছে এতোই জনপ্রিয় নন্দিত ছিলেন যে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষিত, রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সংগঠন প্রকৃচির সভাপতির দায়িত্ব জোড় করে তাকে অর্পণ করেছিল। এটা তিনি পেয়েছিলেন তার সততা এবং যোগ্যতার বলে।
অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ বাংলাদেশর প্রথম তত্বাবধায়ক সরকারের একজন সফল প্রজ্ঞাবান উপদেষ্টা ছিলেন। ডাক্তার মাজেদ ছিলেন নির্মোহ, সাদামাটা সহজ সরল। সততা ও কর্মনিষ্ঠায় নিজেকে সমর্পণ করে দেশের মানুষের কাছে প্রতীকী হয় আছেন তিনি । তার মতো উদার, সৎ, অকুতোভয়, আদর্শবান চিকিৎসক চিকিৎসা সেবায় আজকে দুর্লভ।
তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ডা. বেগম নিলুফার আফতাবী। তিনিও স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ট হাসপাতালের গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন (মৃত্যু-২০০৬) অধ্যাপক মাজেদ দুই পুত্র সন্তানের জনক।পুত্রদ্বয়ের নাম- কাউছার মাজেদ এবং হাবিব মাজেদ। প্রথিতযশা নন্দিত অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক প্রযোজক ও বিখ্যাত অভিনেতা আল মনসুর অধ্যাপক ডা.এম এ মাজেদের শ্যালক।
ডাক্তার মাজেদের মতো রোগীবান্ধব চিকিৎসকের আজ বড়ই অভাব। রোগীদের সুচিকিৎসা প্রদানে তিনি ছিলেন আপোষহীন। সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি ছিলেন উত্তীর্ণ।
আজ ৮ জুলাই অধ্যাপক ডাক্তার এম এ মাজেদের চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী (জন্ম-২৩.১০১৯৩৫ এবং মৃত্যু-০৮.০৭. ২০১৭) আমরা তার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনা ও দোয়া করি। আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান