হোম » প্রধান সংবাদ » অনলাইনের গ্রাহক চাহিদা পূরণে গরু ও মাছের খামার গড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা জুয়েল রানা

অনলাইনের গ্রাহক চাহিদা পূরণে গরু ও মাছের খামার গড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা জুয়েল রানা

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : অনলাইনের গ্রাহক চাহিদা পূরণে সিরাজগঞ্জে গরু ও মাছের খামার গড়েছেন এক তরুণ। সিরাজগঞ্জ এগ্রো লি: ও সিরাজগঞ্জ ফিস এন্ড হ্যাচারি নামে গড়ে তোলা ৩টি খামারে মোটাতাজা করা হচ্ছে ছোট-বড় প্রায় ৩শ ষাঁড়, খামারের বায়োফ্লক ট্যাংকে প্রতি ৬ মাসে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১২৫ টন শিং ও কই মাছ। অনলাইনে বিক্রির পাশাপাশি অফলাইনে বিক্রির ব্যবস্থাও রয়েছে খামারগুলোতে। সরেজমিন
সিরাজগঞ্জ এগ্রো লি: ও সিরাজগঞ্জ ফিস এন্ড হ্যাচারির একটি ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, ২০১৭ সালে এটুআই প্রজেক্টের আওতায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত লার্নিং এন্ড আনিং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের তরুণ মো. জুয়েল রানা। ট্রেনিং শেষে গড়ে তোলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জ শপ.কম। এই প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি ইসেলারবাজার লি: নামে আরও একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান
রয়েছে এই তরুণের। মূলত অনলাইন ভিত্তিক এই দুটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত মানের পণ্য সরবরাহের চিন্তা থেকে গরু ও মাছের খামার তৈরির উদ্যোগ নেন জুয়েল রানা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামে গড়ে তুলেছে আধুনিক প্রযুক্তির গরু ও মাছের খামার। মূলত অনলাইনের বিক্রির উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে খামারটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে খামারে মোটাতাজা করা
হচ্ছে ৯১টি বিভিন্ন সাইজের ষাঁড় গরু। ৬ মাস লালন-পালন শেষে এগুলো বিক্রি করা হবে ঈদ-উল আযহায়। খামারে লালন পালন করা ৩শ কেজি থেকে ৫শ কেজি ওজনের ষাঁড়গুলো লালন পালনেও নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত পরিচর্যা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিদিন ৩ বার খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি দু’বার গোসল করানো হয় ষাঁড়গুলোকে। খামারের শ্রমিক আল মাহমুদ জানান, অনলাইনে বিক্রির জন্য ষাঁড়ের ছবি দিতে হয়। ওজনের ওপর ষাঁড়গুলোর দাম হয়।
ফলে সঠিক ওজন ও সৌন্দর্যের জন্য ষাঁড়গুলোকে বাড়তি পরিচর্যা করতে হয়। আমরা ৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন এই ষাঁড়গুলোর পরিচর্যা করি। গরুর খামারের সাথেই রয়েছে মাছের খামার। বায়োফ্লক পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অধিক পরিমাণ মাছ চাষ করা হচ্ছে। খামারটিতে রয়েছে ৫০ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি ও ৮০ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি বায়োল্ফক ট্যাংক। এগুলোতে শিং ও কৈ মাছ চাষ করা হচ্ছে। ৫০ হাজার
লিটারের একেকটি বায়োপ্লক ট্যাংকে প্রতি ৬ মাসে ৫০ হাজার পিস মাছ ও ৮০ হাজার লিটারের ট্যাংকে ৮০ থেকে ১ লক্ষ ৫ হাজার মাছ চাষ হচ্ছে। প্রতি ৬ মাসে একেকটি মাছের গড় ওজন হবে ১শ থেকে ১শ ২০ গ্রাম। প্রতিটি ছোট টাংকে গড়ে ২ থেকে ৩ টন ও বড় ট্যাংকগুলোতে ৮ টন মাছ উৎপাদন হয়। সিরাজগঞ্জ ফিস এন্ড হ্যাচারির ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন জানান, আমাদের খামারের বায়োফ্লক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ আমরা অনলাইন-
অফলাইন দু’ভাবেই বিক্রি করি। তবে অনলাইনে বিক্রির জন্যই খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ শপ.কম ও ইসেলারবাজার লি: এর ব্যবস্থাপক মো. ইখলাস উদ্দিন প্রান্ত জানান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অনলাইন ভিত্তিক ‘পশুর হাট’ এ্যাপস এ বেশিরভাগ পশুই আমাদের খামারের। আসন্ন ঈদ উল আযহায়ও এই এ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের ষাঁড়গুলো বিক্রি হবে। মূলত অনলাইন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণেই ষাঁড় মোটাতাজা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাদের মাছের খামারে উৎপাদিত মাছগুলো সংগ্রহ করে
তাদের গ্রাহক চাহিদা মেটায়। পাশাপাশি আমাদের গ্রাহকদেরও গুণগত বা মানসম্পন্ন মাছ সরবরাহ করা যাচ্ছে। এছাড়াও অফলাইনে বিভিন্ন আড়তেও বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত মাছ। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের এই খামারের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে তাড়াশ উপজেলায়ও একই মাপের আরও ২টি খামার গড়ে তুলেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা জুয়েল রানা। তাড়াশের খামার ২টিতেও বর্তমানে একই মাপের ও পরিমাণের ষাঁড় মোটাতাজাকরণ ও মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!