
সৈয়দ আহসানঃ আই বিএম টেকনিক্যাল সেন্টারের চাকুরীটা বেশ ভালোই চলছিলো। সেবার বাংলাদেশ ভ্রমনে এসে সবকিছুই তালগোল পেকে গেল। হটাৎ করেই একটা সড়ক দুর্ঘটনা আমার জীবনটাই পাল্টে দিল। চার মাস হাসপাতালে পড়ে থেকে যখন আমি বেরুলাম দেখি আমার চাকরিটাই চলে গেছে। এর পর স্থায়ী কোনো ভালো চাকুরী পেলাম না। কবছর ছোটো খাঁট কিছু কাজ করে আগাম পেনশন টাই নিয়ে নিলাম। বাড়তি আয়ের জন্য এখন মাঝে মাঝে পার্ট টাইম ট্যাক্সি চালাই।
বাংলাদেশের জীবন যাত্রা ও মনমানষিকতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জার্মান যুব সমাজের মানবিক বৈশিষ্ট নিয়েই আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বলবো।
সেদিন রাত ১১টায় রেড সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছি। হটাৎ করেই দুজন তরুণী আর একটা ছেলে দৌড়ে গাড়িতে চড়ে বসলো। ১৯ বছরের তরুনীটা আমার পাশে বসেই ওই সামনের ফাষ্ট ফুডের দোকানের সামনে দাঁড়াতে বললো। আমরা খাবার আন্তে যাচ্ছি , বল তুমি কি খেতে পছন্দ করো
বললাম ,আমি বাড়ী যেয়ে খাব। এই বলেই দৌড়ে দোকানে ঢুকে প্রচুর খাবার নিয়ে এলো। আর আমার জন্য চিকেন বার্গার আর পমফ্রেট নিয়ে এলো। বললো তুমি এগুলো খেতে থাকো আর গাড়ি চালাও। আমিতো দু হাতে স্টিয়ারিং ধরে আছি দেখছো না। ও তাই নাকি আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি।
এই বলে সারাক্ষন খাবার গুলো আমার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে লাগলো। গন্তব্যে পৌছিয়ে দিয়ে বিদায় নেবার সময় একটা ড্রিংকস ধরিয়ে দিলো ফিরতি পথে খাবার জন্য। আর ভাড়ার সঙ্গে বাড়তি কিছু বকশিস। পাঠক এটাই হলো সমমর্মিতা যাকে বলে মানুষের জন্য মানুষ।জমে থাকা এরূপ বহু ঘটনা পরবর্তীতে লিখবো আশা করি।

আরও পড়ুন
আমাদের পানিতে হাত দিলে কেটে ফেলা হবে: ভারতকে পাকিস্তানি মন্ত্রী
বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ২০টি রেলকোচ প্রস্তুত করেছে ভারত
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী