
এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃবগুড়ার বাঘোপাড়া ও মহাস্থানের মাংস বাজার জেলার মধ্যে একটি অন্যতম বৃহৎ মাংস বাজার। জানা যায়, এখানে মাঝারী ও বড় মিলে প্রতিদিন প্রায় ১০-১২ টি গরু এবং ২-৩ টি খাসি জবাই করা হয়। যার আনুমানিক ওজন ২৫- ২৬ মণ। ইহা ছাড়াও শুধুমাত্র শুক্রবারেই এখানে প্রায় ১৬ থেকে ২০ টা পর্যন্ত গরু জবাই করা হয়। স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন এলাকা হতে পাইকারী ও খুঁচরা ক্রেতা এখানে এসে মাংস ক্রয় করেন বলে মাংস ব্যবসায়ীরা জানান। বর্তমানে মহাস্থানে মাংস বাজার ইজারাদের নিকট থেকে বরাদ্দ প্রাপ্ত ৫ জন গো মাংস এবং ১ জন খাসির মাংস ব্যবসায়ী। বরাদ্দপ্রাপ্ত মাংস দোকান
ব্যবসায়ীরা হলেন ফাইনুর ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রাজ্জাক, রেজাউল ইসলাম, রঞ্জু মিয়া ও মুকুল মিয়া। যারা দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাজারে মাংস বিক্রি করে আসছেন। সরজমিনে গিয়ে জানা যায় বর্তমিনে প্রতি কেজি গরু মাংস ৫২০/- থেকে ৫৫০/- এবং খাসির মাংস ৭২০/- থেকে ৭৫০/- টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে গরু ও ছাগলের দাম একটু বেশি হওয়ায় মাংসের দামও কিছুটা বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে ইজারার মূল্য বেশি হওয়ার কারনে ইচ্ছা থাকলেও দামে কম রাখা যায় না বলে মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে দেশীয় বাজারের সাথে সামঞ্জস্য থাকায় মাংসের দাম ও ওজনে এখানকার অধিকাংশ ক্রেতা সাধারনের তেমন কোন
অভিযোগ নেই। বাজারে আগত মাংস ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, আগে স্বল্পমূল্যে মাংস পাওয়া যেত, তখন নিয়মিত মাংস কিনতেন। কিন্তু এখন দাম অনেক চড়া থাকায় অনেক দিন পর পর মাংস কিনেন বলে জানান। নিয়মিত মাংস ক্রেতা সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শোনা যায় মাংস বাজার থেকে হাটের ইজারাদার অনেক টাকা আয় করেন। কিন্তু এ পট্টির তেমন কোন উন্নয়ন হয় না। বরং সবসময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস ক্রয় বিক্রয় করা হয়, যা মানুষ ও প্রাণীকূলের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলে তিনি জানান। বাঘোপাড়া বাজাওে বর্তমানে স্থায়ী শেড এর অবস্থা খুব খারাপ। একটু বৃষ্টি এলেই ভিজে যায়। আর
মহাস্থানে সেড না থাকায় মাংস ব্যবসায়ীগণ একপ্রকার অস্থায়ী দোকানে মাংস বিক্রি করছেন। দেখা যায় বর্তমানে যেখানে মাংস বাজার চলছে সেখানে বর্জ ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকায় সবসময় দূর্গন্ধ লেগেই থাকে। সেকারনে ক্রেতা বিক্রেতা ও পথচারীদেরকে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল এ মাংস বাজারের সঠিক পরিবেশ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষেন নিশ্চিত করার জন্য প্রাণী সম্পদ কর্তৃপক্ষ, হাট ইজারাদার এবং উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রত্যাশা করেন।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি: প্রার্থী রনি গ্রেপ্তার
লালমোহনে বাস চাপায় প্রাণ গেল শিশুর
মির্জাপুরে মারধর ও ধর্ষণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু