হোম » প্রধান সংবাদ » রাজনীতির মডেল হতে চান টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবলীগের আক্তার সরকার

রাজনীতির মডেল হতে চান টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবলীগের আক্তার সরকার

টঙ্গী প্রতিনিধি: মহান আল্লাহর সৃষ্টি সেরা জীব মানবজাতি। এ মানবের সেবাই মানবতা। মানবতার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। কেননা ধর্মের মূল বিষয়টা এখানেই শুরু। আমরা হয়তো সকলকেই সাহায্য করতে পারব না তবে আমরা কাউকে না কাউকে সাহায্য করতে পারব। এটাই হলো মানবতা, আর এ মানবতার আত্মকেন্দ্রীক হয়ে গত বছরের মার্চ মাসের থেকে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় যখন গৃহবন্দী রয়েছিলো জনগণ। স্থবিরতায় কর্মহীন হয়ে পড়ে কাতরাচ্ছিলো নিন্ম আয়ের

জনগোষ্ঠী। তখন অনাহারে—অর্ধাহারে কাটছিলো অনেকেরই দিন। করোনার ভীতির কষ্টে ঘরবন্দী জীবনে হাহাকার করছে শ্রমজীবীসহ খেটে খাওয়া মানুষজন। দেশের এমন দু:সময়ের সঙ্কটকালে তখন থেকেই আধাঁরে আলো ছড়িয়ে আবির্ভূত হয়েছেন ত্রাতার ভূমিকায়। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন সুচারুরূপে। নিরাপত্তার নিয়ম—কানুন মেনেই নিজের কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছেন। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রবল ঝুঁকি নিয়ে সর্বসাধারণের পাশে

দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়মিত ভাবে নিন্ম আয়ের হতদরিদ্রদের মাঝে খাদ্যসহ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে হয়েছেন তিনি জন—নন্দিত। করোনার প্রভাবে সৃষ্টি অর্থনৈতিক ক্ষতি ও উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সূচনা থেকে শুরু করে দ্বিতীয় ধাপ পেরিয়ে অদ্যবধি এই যাবৎ সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্যসহ করোনার সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন গাজীপুর টঙ্গীস্থ আঁধারের আলো ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পদপ্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো: আক্তার হোসেন সরকার।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরপরই গত বছরের ২৫শে মার্চ থেকে শুরু করে প্রথম ধাপে ৭১ দিন ও দ্বিতীয় ধাপ পেরিয়ে আজ অবধি ধারাবাহিকভাবে টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে খাদ্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন যুবলীগের এ নেতা। সৃষ্ট মহামারীতে আক্তার সরকার টঙ্গী হোসেন মার্কেট এলাকায় তার প্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উপার্জিত জমানো অর্থ থেকে প্রায় ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার ত্রাণ সামগ্রীসহ নগদ অর্থ বিতরণ করেন। নিজ অর্থায়নে তিনি ৫ হাজার পিছ মাক্স, ২৮০০

প্যাকেট বিলিছিন পাউডার, ৫৬৮ বোতল লিকুইট হ্যান্ড ওয়াস, মাঝারি সাইজের স্প্রে মেশিন, দুই হাজারের অধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করাসহ পবিত্র রমজানের মাস ব্যাপী গরীব অসহায় মুসল্লীদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছেন। যুবলীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি আপন মহিমায়। সাহায্যের জন্য ফোন আসলে পৌঁছে গেছে খাদ্যসামগ্রীসহ শিশুদের দুগ্ধ খাবার। এমনকি নিজের

গায়ের পাঞ্জাবীও খুলে হতদরিদ্র ব্যক্তির গায়ে পড়িয়ে দিলেন এ যুবনেতা। আরও জানা যায়, আক্তার সরকারের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধ জীবন মিয়া সরকার। দেশের মানুষকে পরাধীন শত্রুদের থেকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে মুক্ত করে। যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে স্বপরিবারে কুমিল্লার মুরাদ নগর থেকে স্বপরিবারে টঙ্গীতে চলে আসেন। মুক্তিযোদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় ১৯৯৬—২০০২ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পূর্ণবাসন সোসাইটির টঙ্গী থানা কমান্ডার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জীবন মিয়া সরকার। রাজনীতির অঙ্গণেও ছিলেন গাজীপুর ২ আসনের প্রয়াত

সাংসদ শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সহচর। মুক্তিযোদ্ধা জীবন মিয়া সরকারের দাম্পত্য জীবনে সাত সন্তানের মধ্যে আক্তার সরকার পঞ্চম। পিতার ন্যায় শৈশব কৈশর থেকেই পরউপকারি মনোভাব ছিলো আক্তার সরকারের। তাই মানুষের কষ্ট যেন তার হৃদয়ে বেদনাদায়ক সৃষ্টি হতো। তাই তিনি আজ পর্যন্ত অসহায় মানবের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। জানা গেছে, বিগত ১৯৮৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ড টঙ্গীর মোল্লাবাজার এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আক্তার হোসেন

সরকার। পরে প্রাথমিক শিক্ষা পেরিয়ে ২০০২ সালে স্বনামধন্য টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গালর্স কলেজ থেকে এস.এস.সিতে উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রামে পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা ও এক ছেলের জনক তিনি। আক্তার সরকারের এমন কর্মযজ্ঞের ব্যাপারে স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানান, দেশের সঙ্কটকালের শুরু থেকেই এলাকার দুস্থ দরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আক্তার সরকার। প্রাণঘাতী করোনার কারণে লকডাউন ঘোষণার পর তিনি যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে

আছেন। তা অবশ্যই নজিরবিহীন বটে। সে সময় থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত তহবিলের নগদ অর্থে দলমত নির্বিশেষে মোল্লাবাজার, কলেজ গেইট, হোসেন মার্কেট, স্টেশন রোড়সহ টঙ্গী পশ্চিম থানাধীনের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালক, ভ্যান চালক, দিনমজুরসহ কষ্টে থাকা পরিবারগুলো কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন উপহার। সেখানে রয়েছে নগদ অর্থ, নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, আলু, সয়াবিন তৈলসহ সুরক্ষায় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ঔষধ। এতে করে সে সকল কষ্টে থাকা মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

স্বশরীরে গিয়ে জানেন তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা। এছাড়া মাহে রমজানে বিভিন্ন পেশাজীবি ও পথচারিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন। জানা যায়, করোনাকালে দায়িত্বরত গণমাধ্যম কর্মীসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে তুলে দিয়েছেন সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবানুনাশক ঔষধ। তার এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা মিলেছে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যেকোন দুঃসময়ে

এলাকার মানুষের জন্য এই নেতা জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানান, রাজনীতির তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ যুবনেতা প্রবল সাহস আর আত্মপ্রত্যয় নিয়ে নিজের আয়ের অর্থ ব্যয় করে এলাকায় সামাজিকভাবে সহায়তা করাসহ অসহায় দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনই একজন যুবলীগের নিবেদিত কর্মী আক্তার সরকার। যিনি কখনই দল থেকে কিছু পাওয়ার আশা করেনি। সবসময়ই সংগঠনের সহাযোগিতা করে আসছেন। মানবতার কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়া এই মানুষটির বিভিন্ন মহতি কর্মের জন্য

দলের নীতি নির্ধারকরা যদি তাকে টঙ্গী পশ্চিশ থানা আওয়ামী যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে তাহলে তার সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ প্রসঙ্গে মো: আক্তার হোসেন সরকার গণমানুষের আওয়াজকে বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। জীবনের মূল মানেটা হলো নিজের সব কিছু দিয়ে মানব সেবা করা। মানবতার ধর্ম হলো অন্যকে ভালোবাসা। ছোট বেলায় খুব কাছ থেকে রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান

উল্লাহ স্যারকে দেখেছি। তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে শুদ্ধ রাজনীতির মাধ্যমেই মানব সেবা করতে চাই। তিনি শিখিয়েছেন বিপদে কিভাবে অসহায়, দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়। তিনি আজ বেঁচে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে আজও কাজ করে যাচ্ছি। হতে চাই রাজনীতির এক রোল মডেল। যাতে আমাকে অনুসরণের করে মানবের কল্যাণে কাজ করবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মরা। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আমার পিতা জীবন মিয়া সরকার। আমি সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আক্তার সরকার বলেন,

করোনা মহামারী অবস্থায় অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাবা তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জমানো ১ লক্ষ টাকা দিয়ে আমাকে বলেছিলেন, একাত্তরে যুদ্ধ করেছি দেশের মানুষের জন্য। এই মহামারিতে আমার দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি না। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টের, তবে আমার এই জমানো টাকা দিয়ে যদি একজনও অসহায় মানুষের উপকার আসে তা আমার খুবই ভালো লাগবে। দেশ ও মানুষের প্রতি বাবার এমন ভালোবাসার টান দেখে আমার কর্মগতি আরও গতিশীল হয়েছে। বাবার দেখানো পথে ও গণমানুষের নেতা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো: জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র মহোদয়ের

দিকনির্দেশনায় এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলহাজ্ব মো: কামরুল আহ্সান রাসেল সরকারের পরামর্শে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছি। এমনকি টঙ্গী নগর ছাড়াও পরিচিত লোকজনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় অসহায় মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রীসহ বিকাশে টাকা পাঠিয়েছি। দেশের মানুষ ভালো নেই, এটা শুনতেই আমার শরীর কেঁপে উঠে। দেশের অবস্থা যেমনিই হোক না কেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, যতদিন বেঁচে আছি তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাবো। বঙ্গবন্ধুর

কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার নির্দেশনা দিয়েছেন যতই দুর্যোগ আসুক না কেন, এ দেশের কোন মানুষ না খেয়ে মারা যাবে না, উল্লেখ করে আক্তার সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা মোতাবেক আধাঁরের আলো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আমরা সবসময় অসহায় মানবের কল্যাণে কাজ করে যাবো। তার এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসছে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অসহায় নিন্মআয়ের পরিবারের মধ্যে বিশেষ উপহার দিবেন বলে এ নেতা জানান।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!