হোম » প্রধান সংবাদ » “অখন্ড নজরুল” কাজী তবিবুর রহমান

“অখন্ড নজরুল” কাজী তবিবুর রহমান

“আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে, ভাগ হয় না নজরুল “।

কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন বিশ শতকের কাল বৈশাখ। ভারতবর্ষকে তিনি নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে চেয়েছিলেন। নতুন চোখে দেখেছিলেন এ সমাজকে, মানুষেকে।

কাজী নজরুল ইসলাম জীবনকে দেখেছিলেন ভেঙ্গে চূড়ে। উলটিয়ে পাল্টিয়ে। জীবন তাকে দেখার ফুসরত পায় নি। তিনি কি ছিলেন না! রুটির কারিগর, লোটে থেকে ইমাম, সৈনিক থেকে রাজনীতিবিদ, কবি থেকে সাংবাদিক, শ্যামা সঙ্গীত থেকে গজল। জীবনকে তিনি টুকরো টুকরো করে দেখেছেন।

এ সমাজে জাত-পাত ছিলো, আছে। সব ধর্মেই(সৈয়দ, মিয়া, মন্ডল ইত্যাদি) জাত নিয়ে চলে জুয়া। ধর্মীয় দাঙ্গা দেখে দেখেই কবি বড় হয়েছেন। যুগে যুগে এক মানুষ আরেক মানুষকে মেরে স্বর্গের স্বপ্ন দেখেছে। ধর্মের অসহনশীলতা তিনি দেখেছেন। এসব দেখে শুনে তিনি বলেন ” জানিস না ধর্ম কি? সে, যে সহনশীল। “

কবির মতো অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি এ জাতী খুব কম পেয়েছে। ভাবা যায়, কি অবলিলাক্রমে তিনি বলেছেন ” মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেননি মানুয কোনো “। তার মতো এমন মানবিক গান আর কে গেয়েছেন! ” মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নয় কিছু মহীয়ান”। এতো নির্মম পরম সত্যকে তার মতো করে আর কে বলেছে! “এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির -কাবা নাই।”

অসাম্প্রদায়িকতার কথা তিনি শুধু বলেন-ই নাই, তার জীবনেও তিনি এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তার স্ত্রীর নাম প্রমীলা দেবী। ছেলেদের নাম কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী (সানি)এবং কাজী অনিরুদ্ধ (নিনী)। এখানে যেন মিলেছে হিন্দু মুসলমান ও ক্রীশ্চান। এই জায়গায় তিনি বিদ্রোহ করেননি, মিলেছেন।

তাহলে কি কবি নাস্তিক ছিলেন?! এমন কথা তিনি কখনো বলেছেন? না, বলেননি। বরঞ্চ সে অনেকের থেকে অনেক বেশী ধার্মিক ছিলো। তার ধর্ম বিষয়ক লেখা পড়লেই বোঝা তা যায়।

নজরুল প্রায় একশ বছর আগে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় মৌলবাদকে আঘাত করেছিলো। সেরকম আঘাত তার মতো করে এখন কল্পনাও করা যায় না। যায় কি?

কবি সবসময় বলতেন ” সুন্দরের ধ্যান, তার স্তব গানই আমার উপাসনা “। সব কিছু ভাগ হলেও নজরুলকে কখনো ভাগ করা যায়নি। সেই সুন্দর, মানবিক ,অখন্ড কবির আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন নত না হওয়া শীর!

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!