হোম » প্রধান সংবাদ » সিরাজগঞ্জে কলেজ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত : রেলওয়ে কর্মচারী বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জে কলেজ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত : রেলওয়ে কর্মচারী বরখাস্ত

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ কলেজ অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার করেছে রেলওয়ের কর্মচারী গেজ রিডার আব্দুল আওয়াল।  এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগ। শনিবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের এসএসএই (ওয়ে) আহসানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা যায়, এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাউন্ডারির গাছ কাটার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে অবগত করায় কলেজের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠে রেলওয়ে
কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের এসএসএই (ওয়ে) আহসানুর রহমান বলেন, এস বি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গাছ কাটা ও অধ্যক্ষের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে রেলওয়ের গেজ রিডার আব্দুল আওয়ালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  গত ২১ এপ্রিল এ নির্দেশ দেন পাকশী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী। এর আগে ২০ এপ্রিল বিকেলে শহরের বাজার স্টেশন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা স্মৃতি ফলকের সামনে অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন আব্দুল আওয়াল।  এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের
বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ বাউন্ডারির ভেতরের একটি ইউক্যালিপটাস গাছ বিনা অনুমতিতে কেটে নিয়ে যায় রেলওয়ের গেজ রিডার আব্দুল আওয়াল। গাছ কাটার সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ঝুমা রানী দাস বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাছটি কেটে নিয়ে যান তিনি।
এরপর আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি মোবাইল ফোনে অধ্যক্ষকে জানান। অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আজহার
আলীকে ফোনে গাছ কাটার বিষয়টি জানান। ঘটনার পরদিন ২০ এপ্রিল বিকেলে অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম মোটরসাইকেল করে বাড়ি যাওয়ার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ মির্জা স্কয়ারের সামনে এসে তার গতিরোধ করেন আব্দুল আওয়াল। এসময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বলেন, ‘একটি গাছ কেটেছি তাতে কি হয়েছে? এ কথা তুই সভাপতিকে জানাইছিস। আরও চার-পাঁচটা গাছ কাটবো পারলে ঠেকাস। কাল থেকে তোকে স্কুলে ঢুকতে দেব না’। একপর্যায়ে অধ্যক্ষকে মারতে উদ্যত হলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে আব্দুল আওয়াল
ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আব্দুল আওয়াল এর আগেও প্রতিষ্ঠানের গাছ কেটে নিয়ে গেছে এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলাবস্থায় মিস্ত্রিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টিন ও কাঠ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসবি রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আজহার আলী বলেন, রেলওয়ের কর্মচারী আব্দুল আওয়াল একটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়েছেন। পরে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়।
অধ্যক্ষও গাছ কাটার বিষয়টি আমাকে অবগত করেন।  এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে বসেই মীমাংসা করা যেতো। পরের দিন লতিফ মির্জা স্মৃতি ফলকের সামনে বাগ-বিতণ্ডার ঘটনাটি কোনোক্রমেই ঠিক হয়নি। অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল আওয়ালের অশালীন আচরণ ও গাছ কাটার বিষয়টি সভাপতি মহোদয়কে অবগত করার ছয়দিন পার হলেও তিনি প্রতিষ্ঠানে এখনো আসেননি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!