হোম » প্রধান সংবাদ » বগুড়ার শেরপুরের করতোয়া নদী এখন মরা খালে পরিনত

বগুড়ার শেরপুরের করতোয়া নদী এখন মরা খালে পরিনত

এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে, কবিগুরুর কবিতার এই কথাগুলোর সাথে বাস্তবতার কোন মিল খুুঁজে পাওয়া যাবেনা। কারন করতোয়া নদী এখন আর নদী নেই! বগুড়ার শেরপুরে করতোয়া নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে।  জানাযায় দখলবাজরা নদী দখল করে কেউবা স্থায়ী স্থাপনা আবার কেউ বা দখল করে মাটি দিয়ে ভরাট করে পুরো আবাদী জমিতে রুপান্তরিত করায় নদীর বাকী অংশটুকু মরা খালে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া করতোয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় হোটেলের বর্জ্য ও ক্ষতিকর
পদার্থ ফেললেও সেদিকে কারও নজর নেই। এক সময়কার প্রমত্তা করতোয়া নদী এখন আর দেখলে নদী মনে হয়না। মনে হয় যেন একটি মরা খাল।  চারিদিকে তাকালে মনে হয় এ যেন এক চিরচেনা ফসলের মাঠ। কৃষকরা শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশে ধান, ভূট্টা, গম, তিল সহ নানা ধরনের ফসলের চাষ করছে। বিভিন্ন ইতিহাস থেকে জানা গেছে স্মরণাতীতকালে খরস্রোতা করতোয়া নদীতে জাহাজ চলাচল করতো। এ কারণে শেরপুরের বারোদুয়ারি হাটের সাথে বিরাট নৌ-বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আজকের এই শেরপুর শহর। তখন নদীটি ছিল প্রশস্ত এবং ক্ষরস্রোতা।
সময়ের সাথে সাথে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে করতোয়া আজ হতে যাচ্ছে ইতিহাস। ১৯৮২ সালে করতোয়া নদীকে খননের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ১৯৯০ সালে পুণরায় নদীটি খনন করা হলেও পরবর্তিতে এই কার্য্যক্রম অব্যাহত না থাকায় বর্তমানে নদীটি মরে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। দখলবাজরা একের পর এক এলাকা দখল করে মাটি কেটে ভরাট করায় নদীর অধিকাংশ এলাকা মনে হয়  একটি মরা খাল। এই করতোয়া নদী দখল শুধু শহরেই নয়, গ্রামের প্রভাবশালীরাও দখল অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর শহরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়ও এ দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীরা মাটি কেটে জমি আর নদী এক করে ফেলার পাশাপাশি কোথাও কোথাও নদী ভরাট করে ফেলায় তা খালের মত সরু হয়ে গেছে। মির্জাপুর
ইউনিয়নের কুনিঘাট এলাকায় মির্জাপুর গ্রামের নদী খেকো আমির হোসেন  সম্পত্তি  নদী ভরাট করে ফসলী জমি বানিয়েছে। এভাবে দখল অব্যাহত থাকলে এক সময় করতোয়া নদী চিরতরে হারিয়ে যাবে। এলাকাবাসি দাবী
জানিয়েছে দ্রুত দখলবাজ নদী খেকোদের হাত থেকে নদীটি উদ্ধার করে পুণরায় নদীটি খনন করে তার স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে দেয়া হোক।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!