হোম » প্রধান সংবাদ » এলএসপিআরএফ এর মামলায় তাহিরপুরের ৩ বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখলো সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

এলএসপিআরএফ এর মামলায় তাহিরপুরের ৩ বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখলো সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ থেকে : লিগ্যাল সাপোর্ট এন্ড পিপলস রাইট ফাউন্ডেশন (এল.এস.পি.আর.এফ) এর দায়েরকৃত ৭৯৬৪/২০১৯ নং রীট পিটিশন মামলার ৪/৪/২০২১ইং তারিখের স্থগিতাদেশ লঙ্গণক্রমে সুনামগঞ্জে ৩টি বালুমহাল ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বালুমহালগুলো তাহিরপুরের মাহারাম নদী বালুমহাল,যাদুকাটা ১ বালুমহাল ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার আহবাণ করে ১ম থেকে তৃতীয় পর্যায় পর্যন্ত দরপত্র আবেদন ফরম বিক্রয়ের শেষ তারিখ ও সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং থেকে ১ এপ্রিল

পর্যন্ত,দরপত্র দাখিলের তারিখ ও সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং দরপত্র বাক্স খোলার তারিখ ও সময় ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারন করলেও কথিত দরপত্রের সিডিউল বিক্রয় করা হয়নি আগ্রহী দরপত্রে অংশগ্রহনকারীদের কাছে। তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের শেখ শফিকুল ইসলাম ও শহরের এটিএম হায়দার বখত রবিনসহ অনেক আগ্রহী দরদাতাগন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দফায় দফায় তদবীর করেও দরপত্রে অংশগ্রহন করতে পারেননি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের ২ ব্যক্তির কাছে প্রধান ৩টি বালুমহালের সিডিউল বিক্রয় করেছে। জানা যায়,

পছন্দের ইজরাদারদের অনুকুলে গত ১/৪/২১ইং ইজারা অনুমাদন করা হয় অথচ ঐ তারিখে ইজারা অনুমোদনের আদেশ জেলা প্রশাসকের ওয়েবপোর্টালে প্রকাশ না করে ৫/৪/২০২১ইং প্রকাশ করা হয় শুধু ঐ ২ ইজারা গ্রহীতার স্বার্থে। কথিত টেন্ডারে পছন্দের ২ ব্যক্তিকেই সুকৌশলে অংশগ্রহন করানো ও নির্বাচিত দেখানো হয়। টেন্ডার কার্যক্রমে আদৌ কোন প্রতিযোগীতাই হয়নি। চিকসা গ্রামের শেখ শফিক সিডিউল ক্রয় করতে চাইলে তার কাছে বিক্রয় না করে মামলায় জড়িত বলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। রাতারাতি প্রতিভূদের নামে ৩টি মহালের সিডিউল বিক্রয় দেখিয়ে মাত্র ঐ দুজনকেই পরস্পর যোগাযোগীমূলে নির্বাচিত বলে ঘোষণা দেয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা

যায়, এল.এস.পি.আর.এফ কর্তৃক দায়েরকৃত ৭৯৬৪/২০১৯ নং রীট মামলাটি ইতিপূর্বে ১৪২৬ বাংলায় ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা হয়েছিল। তখন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। করোনা পরিস্থিতির কারনে আদালত বন্ধ থাকায় স্থগিতাদেশ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি। এই মামলার বিষয় ছিল যাদুকাটা নদীটি বালিমিশ্রিত পাথর মহাল। যার এখতিয়ার হলো খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ইং এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ইং এর আওতায় এই মহাল ইজারা দিতে পারেননা বা দেয়ার এখতিয়ার রাখেননা। এসব কারণে আবার ১৪২৭ বাংলায় ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিটিকে ঐ মামলায় আদালতের নজরে আনলে গত ৪/৪/২০২১ইং তারিখে বিজ্ঞ বিচারপতি জেবি এম হাসান ও বিজ্ঞ বিচারপতি

তারিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চ আগামী ১ বছরের (১৪২৮ বাংলা) জন্য ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দিয়ে রোল জারী করেন। সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবী সুর্প্রীম কোর্টের এডভোকেট ফয়েজ আহমদ,আদেশের উকিল সার্টিফিকেট ইমেইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাটিয়ে প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের নিশ্চয়তাও পেয়েছেন। তারপরও উচ্চ আদালতের নির্দেশ লঙ্গনক্রমে ২ ব্যক্তিকে ইজারাদার মনোনিত করা হয়েছে উদ্দেশ্যমূলক ও বেআইনীভাবে। কথিত ২ ইজারাদারের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মহামান্য সুর্প্রীম কোর্টের দোষী ইজারাদার মর্মে একটি সুস্পষ্ট রায়ও বিদ্যমান আছে। এরপরও বেআইনীভাবে কথিত ইজারাদারদের কাছ থেকে ইজারামূল্য গ্রহন করা হয়েছে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ লঙ্গন করে। এমনকি ১২ এপ্রিল ইজারামূল্য আদায় করে রাতারাতি তাদেরকে দখলদেহী সমজিয়ে দেয়ারও পায়তারা

চলছে বলে অভিযোগ আনেন বঞ্চিতরা। এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিরোধীয় ৩টি মহালই খনিজ মন্ত্রনালয়ের একক এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে। এগুলো কোনভাবেই ভূমি মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসক ইজারা দিতে পারেননা। এছাড়া বর্তমানেও মহালটির তদারকীর দায়ীত্ব যৌথভাবে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ও জেলা প্রশাসনের কাছে ন্যস্ত আছে। কোন কারনে কেহ তদারকীর সূযোগ নিয়ে অবৈধ কাজ করলে তখন অন্য বিভাগ ধরে ফেলতে পারবে। এ পর্যন্ত যতগুলো কোয়ারীতে পরিবেশ রক্ষা হয়নি শুধু খাস আদায়ের সূযোগে অবৈধ কাজ হয়েছে যৌথ তদারকীতে সেগুলোও সরকারের নজরে নেয়া হয়েছে। যে কারণে ঐসব কোয়ারীতে অনেকটাই পরিবেশ সুরক্ষা হয়েছে। জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জসীম উদ্দিন সকল

অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমরা বিজ্ঞ আদালতের পূর্বের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে নিশ্চিত হয়ে দরপত্র আহবাণ করেছিলাম। এবং নিয়মানুযায়ী ইজারাদার মনোনিত করেছিলাম। কিন্তু পরে যখন জানলাম ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ নিয়ে রোল জারী হয়েছে তখনই ইজারা কার্যক্রম আমরা স্থগিত রেখে দিয়েছি। আমরা কারো কাছ থেকে ইজারামূল্য গ্রহন করিনি। এবং কাউকে মহালগুলোর দখলও সমজিয়ে দেইনি। উল্লেখ্য,যাদুকাটা নদী থেকে কয়লা,পাথর ও বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার স্থানীয় নারী পুরুষ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছাড়াও উচ্চ আদালতে একাধিক মামলার কারণে গত ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বালুমহালগুলোতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সরকার।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!