হোম » প্রধান সংবাদ » বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আইন অমান্য করে দুই বছর আগে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানমকে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।তা বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিপন্থী।
হাবিপ্রবি আইনের (২০০১) ২৫ নং ধরার ২ নং উপধারায় বলা আছে, ‘বিভাগীয় শিক্ষকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে তিন বৎসরের মেয়াদে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হইবেন’৷২৫ নং ধারার ৩ নং উপধারায় বলা আছে, ‘যদি কোন বিভাগে অধ্যাপক না থাকেন তাহা হইলে ভাইস-চ্যান্সেলর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তিনজন সহযোগী অধ্যাপকের মধ্য হইতে পালাক্রমে একজনকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত করিবেন’।তবে শর্ত থাকে যে, পদমর্যাদায় সহযোগী অধ্যাপকের নীচে কোন শিক্ষককে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা যাইবে না।আরো শর্ত থাকে যে, অন্যুন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার কোন শিক্ষক কোন বিভাগে কর্মরত না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রবীণতম শিক্ষক উহার চেয়ারম্যান হইবেন৷
কিন্তু ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেযারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আইন মানা হয়নি। ২০১৯ সালে ৩৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি মধ্যদিয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ চালু হয়।বিভাগটিতে একজন সহকারী অধ্যাপক সহ চারজন প্রভাষক থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে গত দুই বছর ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পাশ না করেই মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে ১ম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আলমগীর হোসেন আকাশ নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।এতে করে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও বিভাগের ব্যক্তিবর্গদের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রী ছাড়া মাস্টারে ভর্তি হতে পারবে না।তবে সে শিক্ষার্থী মাস্টারের ১ম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।এতে করে সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও বিভাগের উপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন,একজন শিক্ষার্থী তার নম্বর পত্র এবং সনদ পত্র জমা না দিয়ে কিভাবে মাস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে! অনুসন্ধানে জানা যায়, মাস্টার্সে ভর্তি হবার সময় অনার্সের বিশেষ রিপিট (শর্ট) পরীক্ষার নম্বরপত্র ও সাময়িক সনদপত্র দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করে পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন বরাবর একটি আবেদন করেছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।২০১৮ সালে প্রকাশিত ঐ ফলাফলে দেখা যায় আলমগীর
হোসেন বেশ কিছু বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এছাড়াও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের ৭ তারিখের ঐ আবদেনপত্রে অনার্সের বিশেষ রিপিট (শর্ট) পরীক্ষার নম্বরপত্র এবং সনদপত্র জমা দানের জন্য আনুমানিক ২ মাস সময় চেয়ে ডিসেম্বর ২০১৯ মাস্টার্স সেশনে ভর্তির সুযোগ চান অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন।তবে ঐ দুই মাস সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও বিভাগ।
এবিষয়ে ফিশারীজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে বার বার ফোনে যোগাযোগ করে, এসএমএস দিয়ে এবং তাঁর বিভাগীয় অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফাহিমা খানম বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করেছি।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা মো ফজলুল হক’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এবিষয়ে কোনপ্রকার বক্তব্য দিতে চাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে চেয়ারম্যান নিয়োগের ব্যাপারে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, অধ্যাপক ফাহিমা খানমকে সাবেক উপাচার্য এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। উনি হয়তো ভালো মনে করেছেন তাই এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!