
এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জায়গা লিখে না দেয়ায় ঘরে তালা মেরে দুই পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে গতকাল বিকেলে এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে গ্রাম ছাড়া হয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছে দু’টি পরিবারের শিশুসহ ৬জন সদস্য। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, জামালপুর গ্রামের মৃত ধুনু মিয়ার দুই ছেলে। একজনের নাম মৃত শাহাব উদ্দিন এবং অপরজনের নাম মৃত শামসু মিয়া। ফলে দুই ভাইয়ের সন্তানদের মধ্যে জায়গা-জমি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানে এলাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে শাহাব উদ্দিন পক্ষের লোকজনকে ৮ ঘন্টা জমি শামসুু মিয়ার পক্ষের ওয়ারীশগনের নামে লিখে দেন। কিন্তু পরে শাহাব উদ্দিন পক্ষের লোকজন বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা শুরু
করে। পরে আবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাম্য মাতাব্বররা মানবিক দৃষ্টিতে মৃত শামসু মিয়ার ওয়ারীশগণকে ৩ ঘন্টা জায়গা লিখে দেবার সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু শামসু মিয়ার পক্ষের লোকজন সিদ্ধান্তটি অন্যায় অবদার বলে দাবী করেন। ফলে সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামসু মিয়ার ছেলেরা শাহাব উদ্দিন পক্ষের লোকজনের নামে জায়গা লিখে না দেয়ায় শামসু মিয়ার ছেলে এবং তাদের পরিবারের উপর অত্যাচার-জুলুম শুরু করে। একই সঙ্গে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।
এরই জের ধরে ১৩ই মার্চ শামসু মিয়ার বাগান থেকে শাহাব উদ্দিন পক্ষের লোকজন আফসর উদ্দিন ও জাহের মিয়া ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ১৫টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরের দিন ১৪ মার্চ দুটি গরু বিক্রি করার জন্য বাজারে নেবার পথে আফসর উদ্দিন ও জাহের মিয়া গং ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ দু’টি ঘটনায় ১৫ মার্চ শামসু মিয়ার স্ত্রী আমিনা
বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে আফসর উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এলাকায় তদন্তে গেলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে এসে ফের তাদের উপর আক্রমণ চালায় এবং দু’টি বসত ঘরের ৫টি কক্ষে তালা দিয়ে তাদেরকে গ্রাম ছাড়া করে দেয়া হয়।
আজ সোমবার সকালে উপজেলার জামাল পুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’টি ঘরের ৫টি কক্ষে তালা ঝুলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেশীরা কেউ মুখ খুলতে চায় না। পরে পাশের বাড়ি শাহাব উদ্দিন পক্ষের লোকজনকে অনেক খুজাঁখুজিঁ করেও তাদেরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এমন কি তাদের মোবাইল ফোন নাম্বার চাইলেও কেউ দেয়নি। তবে, স্থানীয়রা জানায়, শাহাব উদ্দিনের লোকজন মানুষজনকে অশালীন ভাষায় গালমন্ধসহ বাধাঁ-নিষেধ করে। ফলে সহজে কেউ বিষয়টি সমাধান করতে এগিয়ে যেতে চায় না।
অত্যাচারের শিকার শামসু মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহ জানান, তারা আমাদের উপর দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় অত্যাচার করে আসছে। গ্রামের প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে জমি দাবী করছে। তাদের কথা মতো জমি লিখে না দেয়ায় একের পর এক জুলুম করছে। পরে এসব ঘটনায় থানায় মামলা দিলে তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি এসে ঘরে তালা মেরে আমাদেরকে গ্রাম ছাড়া করে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবন পাড় করছি।
এ ব্যপারে ইউপি সদস্য মো. হারুন মিয়া জানান, ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানার পুলিশের নির্দেশে ছিনিয়ে নেয়া গরু দু’টি ফেরত দেবার কথা হলেও অবশেষে ফেরত দেয়নি তারা। তবে, ঘরের তালা মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেবার বিষয়টি তিনি জানেন না।
এ প্রসঙ্গে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, যেকোন ঘটনার সমাধান আছে। কিন্তু ঘরে তালা মেরে কাউকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে, এটা খুবই অমানবিক। বিষয়টি খুজঁ নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। তাছাড়া গরুগুলো ফেরত দেবার কথা থাকলেও আজ গরুগুলো ফেরত দেয়নি বলেও তিনি জানতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকতার্ এসআই মো: রফিকুল ইসলাম বলেণ, উক্ত ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আসামীরা পালিয়ে গোপনে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছে। তবে গরু ছিনতাইয়ের বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের সামনে ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করলেও এখনো পর্যন্ত গরু গুলো ফেরত দেয়নি আফসর উদ্দিন ও জাহের মিয়া।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান