
আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে ১১ বছর ধরে খুঁড়িয়ে চলছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাস ছেড়েছেন প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা। এছাড়া বারবার আশ্বাস দিয়েও কমিটি না দেওয়ায় হতাশ কর্মীরা। এতে তৈরি হচ্ছে গ্রুপিং, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ২০১০ সালের অক্টোবরে ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
তবে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন (২০০৬-২০১১) থাকাকালীন এই কমিটি ঘোষণা হলেও এরপর কেন্দ্রীয় কমিটিতেই নেতৃত্বে চারবার রদবদল হয়েছে। কিন্তু হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই পুরোনো কমিটি রয়ে গেছে।গত ১১ বছরে কোনো কমিটি দেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী,বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির মেয়াদ ১ বছর থাকলেও এই কমিটির বয়স ১১ বছর চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,২০১০ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করে।কমিটি ঘোষণার ৯-১০ মাস পরে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রের অনুমোদন নেয় তাঁরা।
২০১৫ সালের পর থেকে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগের কমিটি।সেই থেকে শুরু হয় ছাত্রলীগের বিভক্তি।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত।দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রলীগের এই তিনটি গ্রুপেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কর্মসূচি পালন করে থাকে।
এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি এবং এসএম জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক (২০১৫-২০১৮) থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতারা জীবন-বৃত্তান্ত জমা দেয় এবং নতুন কমিটির জন্য জোর লবিং চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন পদপ্রত্যাশীরা। এছাড়া, কমিটির মেয়াদ ১১ বছর আগে শেষ হলেও এখনো বিলুপ্ত করা হয়নি কমিটি।এই ১১ বছরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা হারিয়েছেন ছাত্রত্ব। ক্যাম্পাসে নেই তাদের কোনো কার্যক্রম। এমনকি ক্যাম্পাসে কোনো নেতার উপস্থিতিও চোখে পড়ে না। দু-একজন নেতা একাডেমিক কাজে ক্যাম্পাসে আসলেও খুব বেশি সময় অবস্থান করেন না।
এবিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন আকাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। এই সুযোগে মুক্তিযুদ্ধের অপশক্তি মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে।এদিকে নেতাদের মধ্যে চেইন-অব-কমান্ডা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের মধ্যে বেশকয়েকটি গ্রুপিং তৈরি হয়ে গেছে।এতে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এজন্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ছাত্রলীগকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি সুষ্ঠু ধারায় ফিরিয়ে আনতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অতি জরুরি কমিটি অনুমোদন প্রয়োজন।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদুল আলম রনি বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব না থাকায় এখানে সাংগঠনিক গতিশীলতা কমে যাচ্ছে এবং চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পরছে। আমরা দু-এক জন ছাড়া ছাত্রলীগের কে কোন পদে আছে কেউ পরিচয় দিতে পারে না। অনেকেই নিজের নেতৃত্বকে জানান দিতে ছাত্রদল শিবিরের ছেলেদেরকে দলে ভেড়াচ্ছে এবং সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় স্থানীয় প্রভাবে এখানে দিন দিন নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং প্রবল আকার ধারন করছে। আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই অনতিবিলম্বে এখানে ছাত্রলীগের কমিটি দিয়ে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক আতিকুর রহমান রানা জানান,আমরা দীর্ঘদিন ধরে কমিটি আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।বর্তমান সময়ে করোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।সর্বশেষ আমার জানা মতে বিশ্ববিদ্যালয় খুলার পর কমিটি আসতে পারে।যখন ক্যাম্পাস খুলবে তখন কমিটির বিষয়ে আমরাও ভূমিকা রাখবো।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি অন্তত দুঃখজনক! ছাত্ররা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে কিন্তু দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সঠিক নেতৃত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এতে করে শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতি এবং কখনো গোষ্ঠীর দাঁড়াও পরিচালিত হচ্ছে কেউ কেউ। তবে এসব মানসিকতা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ছাত্র রাজনীতি ছাত্র নেতৃত্বে পরিচালিত হলে মূলধারায় আবার ফিরবে এবং গ্রুপিংটাও কমে আসবে।ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কমিটির বিকল্প কিছু নেই।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। এমন কি ক্ষুদে বার্তা দিলেও তার কোন সদুত্তর মিলেনি। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ফোন দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে র্যাগিং ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া