
মো;রিমন চৌধুরী,ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে বেদে পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা গেছে। ঢাকা বিক্রমপুর থেকে আসা বেদে পরিবারের সদস্যরা তাদের জীবন জীবিকার তাগিদে আশ্রয় নিয়েছে ডোমার উপজেলা পরিষদ মাঠে । এখান থেকে তারা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে সাপের খেলা দেখা,গাছের শিকড় বিক্রি করা, দাঁতের পোকা বের করা এবং শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করে অতি কষ্টের জীবন যাপন করতে দেখা গেছে বেদে পরিবারদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
ডোমার উপজেলা পরিষদ মাঠে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালনি মান্ডা পৌরসভার বেদেনী শেফালী বেগমের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন আমাদের বেদে পরিবারের জাত ব্যবসা সাপ ধরে বিক্রি করা, সাপের খেলা দেখা, আমরা ১০মাস বাইরে কাজ করি আর ২মাস গ্রামের বাড়ীতে এসে বসে থাকি। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই আমরা দেশের বিভিন্ন জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়নে জীবিকার তাগিদে বেরিয়ে পরি। দৈনিক যা উপার্জন করি সেখান থেকে কিছু টাকা খরচ করি আর কিছু টাকা জমা করে বর্ষার আগেই দেশে ফিরে যাই। বর্ষা মৌসুমে আমাদের হাতে কোন কাজ থাকেনা সেই সময়টা আমাদের বসে থাকতে হয়। আমাদের ছেলে মেয়েরা আমাদের
মতো এই পেশাটাকেই বেছে নিয়েছে। বর্তমানে ডোমার উপজেলা মাঠে ৭টি পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য এই খোলা আকাশের নিচে তাবু টাঙ্গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। বেদে পরিবারের আর ও ২ সদস্য আলমগীর এবং গাউছুল্লা জানান, আমাদের জাত ব্যবসা সাপ ধরা এর পাশাপাশি কাউরে সোনার জিনিস যদি পুকুরে হারিয়ে যায় আমাদের জানালে সেটা আমরা পুকুরের পানির নিচ থেকে তুলতে পারি। উদ্ধার করার পর তারা যা বকশিস দেয় সেটা দিয়ে আমাদের কিছু দিন ভালো ভাবে চলে যায়। আমাদের গ্রামের বাড়ি
মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালনি মান্ডা বাজার ৫নং ওয়ার্ডে। এই গোয়ালনি মান্ডা পৌরসভায় আমাদের বেদে পরিবারের প্রায় ৪ লক্ষ লোক বসবাস করে। তিনি আরও জানান, আমাদের গোয়ালনি মান্ডা পৌরসভার বর্তমান মেয়র সিপন মিরদা। সারা দেশের নির্বাচন হওয়ার শেষ মুহুর্তে আমাদের বিক্রমপুরে নির্বাচন হয়। নির্বাচন এলেই আমরা ভোট দিতে চলে যাব। বর্তমানে আমাদের এলাকার এমপি মিজানুর রহমান সিনহা। আমরা এক জায়গায় বেশী দিন থাকিনা বলে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করাতে বা স্কুলে পাঠাতে পারিনা।

আরও পড়ুন
সাইকেল চালানো নিয়ে তুচ্ছ বিরোধ, ভৈরবে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন সেমিনার: সুষম উন্নয়নের আশাবাদ
বদলগাছী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথগুলো যেন মরণফাঁদ