হোম » প্রধান সংবাদ » ২১ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি হাবিপ্রবি’র অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন

২১ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি হাবিপ্রবি’র অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন

হাবিপ্রবি সংবাদদাতাঃ ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। ২১ বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৪টি ব্যাচ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক উপাচার্যদের সাথে দফায় দফায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে আলোচনায় বসেও লাভ হয়নি বিন্দুমাত্র। শুধুই আশ্বস্তই করে গেছেন একের পর এক উপাচার্য। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মামুনুর রশীদ’কে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শাফিয়ার ইসলাম’কে সদস্য সচিব করে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের লক্ষ্যে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।তবে এক অদৃশ্য শক্তির জন্য আজও দৃশ্যমান হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে ২০১৭ সালের ২৪শে মার্চে ২য় ব্যাচের প্রথম রিইউনিয়নে জোরালো ভাবে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দাবি তোলা হলে উপাচার্য জানায় এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।এরপর একই বছরের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম,২য়,৩য় ও ৪র্থ ব্যাচের একটি প্রতিনিধি দল, ২০১৮ সালের ২৩শে মার্চে ১ম ব্যাচের রিইউনিয়ন এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ই অক্টোবরে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শফিয়ার ইসলাম-সহ একটি প্রতিনিধি দল সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম’র সাথে দেখা করলেও তিনি আশ্বস্ত ছাড়া অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের ব্যাপারে কিছুই করতে পারেনি।
এব্যাপারে প্রাক্তন শিক্ষার্থী কাবিদ আহমেদ মানিক বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাস জীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করে অনেকেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে ভুলে যায় আবার অনেকে খুব মিস করে। বাস্তবিকপক্ষে মোটাদাগে দেখলে প্রাক্তনদের এতে তেমন লাভ ক্ষতির কিছু আসে যায় না। তবে ভার্সিটির তাদের কাছ থেকে নেয়ার থাকে আবার আমাদেরও দেয়ার থাকে।
এই আবেগ আর ভালবাসা দেয়া-নেয়ার সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম হল আ্যালামনাই এসোসিয়েশন।  বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের আ্যালামনাই করার একটা অনীহা কাজ করে।এর মূল কারণ কেউ চায় না তাদের কাজে কেউ অনুরোধ-উপদেশ দিক।তবে সময় এসেছে ছোট মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার।বিশ্ববিদ্যালয়’টা সবার এই কথাটা মনে প্রাণে ধারণ করলেই আ্যালামনাই এসোসিয়েশন করা সম্বব।
এবিষয়ে আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব শাফিয়ার ইসলাম বলেন, আমি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট স্যারদের সাথে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন নিতে আলোচনা করেছি।কিন্তু তাঁরা শুধুই আশ্বাস দিয়ে গেছে।আমরা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সদ্য বিদায়ী উপাচার্য স্যারের সাথে একাধিকবার দেখা করেছি। কিন্তু তিনিও এবিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
তিনি আরও জানান,আমরা শেষবার যখন উপাচার্য স্যারের সাথে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম তখন কিছু বর্তমান শিক্ষার্থীদের বাঁধার কারণে বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি।তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।  তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এখন পর্যন্ত শিক্ষক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাইনি।বর্তমান শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য নয়।এটা হলো সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি কমন প্লাটফর্ম।অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থেকে বর্তমান শিক্ষার্থীরা গবেষণা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা পায়।কিন্তু আমাদের এখানে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকায় আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার জানান, সদ্য বিদায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মু. আবুল কাসেম স্যার থাকাকালীন এবিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উপাচার্য স্যারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিষয়টি স্থির রয়েছে।তবে আমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগটি সচল করবো। তিনি আরও জানান, রুটিন দায়িত্বে থাকায় আমারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।তবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগকে আমি এগিয়ে নিয়ে যাবো।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!