
লতিফ রানাঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কনকা নামক একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরীর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর টিপুরদী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কারখানায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের হেডকোয়ার্টাসের একটি, সুয়ারেজা, সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরা, বন্দর ও মেঘনা ইকোনোমিক জোনসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করেছে । বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণ শেষে ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সোনারগাঁ ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ সুজন কুমার হাওয়ালাদার।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর টিপুরদী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কংকা ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডে অগ্নিকান্ডটি ঘটে। এ সময় শ্রমিকদের অনেকেই কারাখানা ভেতরে কর্মরত ছিল আবার কেউ কারখানায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফ্যাক্টরীটির দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভয়ে অনেক শ্রমিকই কারখানার জানালা দিলে বাইরে লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রনে আনতে কাজ করে। কারখানার এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গণি জানান, তখন কারখানায় আমি কাজ করছিলাম। হঠাৎ করেই দেখি ধোঁয়া বের হচ্ছে। ইলেকট্রিসিটিও চলে গেছে। প্রথমে আমরা নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে অবস্থা মারাত্মক দেখে সেখান থেকে দূরে সরে যাই। কারখানায় দাহ্য ও ক্যামিকেল থাকায় আগুনের এতো বিশাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা আগুন লাগার পরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে গেছি।
কারখানার ফিচার সেকশনের এক শ্রমিক জানান, ফ্যাক্টরীর ভেতরে প্রথম তলায় বসে আমরা শ্রমিকরা কাজ করছিলাম। এক পর্যায়ে দোতলায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। এক পলকেই দেখি চারদিকে আগুন লেগে গেছে। পরে আমরা কয়েকজন কারখানা থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকের একাধিক কর্মী জানান, ফ্যাক্টরীর মূল ফটকে কাজ চলমান থাকায় আগুন নেভানোর জন্য ফ্যাক্টরীর ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করানো যায় নি। ফলে আগুন নেভানোর কাজে অনেকটা বিলম্ব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকার উপপরিচালক দেবাশীষ বর্মা জানান, ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম ১০ টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার কথা নিশ্চিত করে। ১১টায় স্থানীয় সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, আড়াইহাজার, ডেমরাসহ সহ সর্বমোট ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়েছে। কারখানার স্টোররুমে প্রচুর পরিমানে ম্যাটারিয়াল পদার্থ ও প্লাষ্টিক দ্রব্য এবং কাপড় ছিলো। সেখানে দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এধরণের আগুন নেভানো খুবই কঠিন ব্যাপার। আমরা সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সোনারগাঁও ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ সুজন কুমার হাওয়ালাদার জানান, আমরা ১০টা ৪০মিনিটে ধোঁয়া দেখে চলে আসি। এখনও কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিসের ১২ টি ইউনিট কাজ করছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয় নি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে একটু সময় লাগবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের কারণ জানা যায় নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট না ক্যামিকেল থেকে আগুন লেগেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টরীতে প্রচুর পরিমাণ পলেস্টর কাপড়সহ দাহ্য পর্দাথ ছিলো। কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায় নি বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান