
খুঁজে পাই সুখ
[শাহজাহান সিরাজ সবুজ]
শৈশব, কৈশোরের বন্ধুরা
হাসিঠাট্টার ছলে বলতো আমাকে,
তুই শালা মরবি না হার্ট অ্যাটাকে।
একদা আমি জিজ্ঞেস করলাম সবাইকে,
ক্যানরে ভাই? তোদের এমন ধারণা ক্যান?
তখন বন্ধুরা একযোগে অট্টহেসে বললো,
তুই শালা বিশ্ব প্রেমিক, তাই!
তখন আমি বললাম,
শোনরে শয়তানের চ্যালারা শোন,
প্রকৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে খুঁজে পাই নিজেকে,
তাই মানুষসহ ভালোবাসি সবাইকে।
বন্ধুরা ভিন্ন ইঙ্গিতে দুষ্টুমির ছলে বললো,
কথা ঘুরাইবি শালা বলে দিলাম তোরে।
অতপর অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো সকলে।
ওদের হাসিতে ভরে গিয়েছিলো মন,
মনে হয়েছিলো আমরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু মহল।
তবে আমিও সুবোধ বালক ছিলাম না,
সুযোগ পেলে ওই শালাদের ছাড়তাম না।
খোঁচাখুঁচি, মজা করা, ভালোবাসা বাসি,
দিব্যি ছিলো আমাদের জীবন।
এরপর ধীরে ধীরে সকলে সংসারী হলাম,
তারপর সুতো ছেঁড়ার পালা,
সংসারের প্রয়োজনে কেউ পরবাসে,
কেউবা দূর বহুদূরে।
কারো কারো সাথে দেখা হয় কালেভদ্রে।
কারো কারো খোঁজখবর নেই,
অনেকেই আমাদের মায়া ছেড়ে,
চলে গেছে পরপারে।
তবু্ও বন্ধুরা আছে আমার প্রাণজুড়ে।
আজ আমি মধ্যবয়সী পোড়খাওয়া মানুষ,
এখনো নানা প্রয়োজনে বন্ধু সৃষ্টি হয়,
হ্যাঁ এখনকার বন্ধুরা অনেকটা প্রয়োজনই বটে,
এখনকার বন্ধুরা, তোদের মতো প্রাণবন্ত নয়,
তবে কেউ কেউ ব্যতিক্রমও বটে।
আমার যৌবনকালের প্রাণের বন্ধু,
প্রয়াত আজিজ আকন্দ বলতো প্রায়,
আমাদের চিরসবুজ, বিশ্বপ্রেমিক সবুজ,
হার্ট অ্যাটাকে নয়, মরবে ব্রেইন স্ট্রোকে,
এরপর রহস্যময় হাসিতে লুটোপুটি।
আজ অকাল বার্ধক্যে তোদের চিরসবুজ,
রোগে- শোকে নূয়ে পড়া অকাল বৃদ্ধ।
শরীরের পরতে পরতে বার্ধক্য,
বার্ধক্যজনিত রোগে প্রায় দিশেহারা,
কিন্তু ভাবেতে ভঙ্গিতে তোদের সবুজ তরতাজা।
যখন হতাশায় নিমজ্জিত হই,
তখন তোদের অমলিন স্মৃতির মাঝেই-
খুঁজে পাই সুখ।
*************************
(২৩ ডিসেম্বর- ২০২০ ইং/ সকাল-৯. ৩৩ মিনিট/
উত্তর শ্যামলী, ঢাকা।)

আরও পড়ুন
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার
নিত্যপণ্যে কর কমানোর কথা বিরোধীদল বলছেনা, বিশেষ শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড় – প্রধানমন্ত্রী