
প্রায় তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকায় হকারদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় নাসিক ঠিকাদার, কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতাসহ ১৭ জনকে আসামী করে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান।
সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহামিদা খাতুনের আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ২২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। মামলার আবেদনে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের সময় হত্যার উদ্দেশ্যে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খানকে মারধর, ২ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণ লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগের দিন রবিবার আদালতে অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন নিয়াজুল। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। মামলার যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা হলেন- মেয়র আইভীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নাসিকের ঠিকাদার আবু সুফিয়ান, কামরুল হুদা বাবু, মোতালিব, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নাসিক ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইন, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার,
মেয়র আইভীর ছোটভাই ও শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী রেজা উজ্জল, ভাগিনা মিনহাজুল কাদির মিমন, সাংবাদিক মাসুম, আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, যুবদল নেতা সরকার আলম, আমিরুল ইসলাম, হাজী নেওয়াজ, সৈকত মেম্বার, ফারুক ও লিপু। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের সঙ্গে মেয়র আইভী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন শহরের সায়াম প্লাজার সামনে ব্যবসায়ী নিয়াজুল ইসলামের উপর হামলা করে অভিযুক্ত আসামীরা। সেই হামলার সময় নিয়াজুলের লাইসেন্স করা অস্ত্রটি খোয়া যায়। পরে সেটা পরিত্যাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়।
ওই ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি মেয়র আইভীর ভাই ও সমর্থকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন নিয়াজুল ইসলাম। অন্যদিকে একই ঘটনায় নাসিকের আইনকর্মকর্তা বাদী হয়ে মেয়রকে হত্যা করার চেষ্টার অভিযোগে একটি অভিযোগ প্রদান করেন। পুলিশ তখন উভয়ের অভিযোগকেই অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছিলো এবং পরে নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা কারো মামলা রেকর্ড না করে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২