হোম » প্রধান সংবাদ » সিরাজগঞ্জের কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষক রাজিবকে সাময়িক বরখাস্ত : তদন্ত কমিটি গঠন

সিরাজগঞ্জের কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষক রাজিবকে সাময়িক বরখাস্ত : তদন্ত কমিটি গঠন

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের রাজিব চক্রবর্তী (৩৬) নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী কে প্রেমের প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার
ঘটনায় লম্পট শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইফতেখার উদ্দীন শামীম সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজিব চক্রবর্তী কে সাময়িক বরখাস্ত ও সিরাজগঞ্জ সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি নিয়ে সমালচনার ঝড় বইছে।

 

সেই সাথে ছাত্রীর মেসেঞ্জারে আপত্তিকর কথা বলেছে বলে জানাগেছে। এদিকে শিক্ষক রাজিবের বিরুদ্ধে এর আগে এমন ঘটনা অনেক ছাত্রীর সাথে ঘটিয়েছে এমন তথ্য ধিরে ধিরে বের হয়ে আসছে। একটি মহল সেই ছাত্রীর বাড়ী গিয়ে ছাত্রীর পোষ্টটি ডিলেট করিয়েছে বলে জানাগেছে। ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো- কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেখতে যায়, আমার ছেলে বেলার সেই স্মৃতিগুলোকে নতুন ভাবে উপভোগ করতে। তবে আমার বিন্দু মাত্র ধারণাও ছিলোনা সে পরিস্থিতি স্বাীকার আমার হতে হবে। সেই বিকেলে আমাকে রাজিব চক্রবর্তী নামের টিচার যার কাছে আমার ছেলেবেলায় ছিলো আর্দশ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার অনুপ্রেরণা,

 

আমাকে ডেকে আমায় প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং আমাকে পরে মেসেজ এ অনুরোধ করা হয় এই ঘটনাটি কারো কাছে প্রকাশ না করতে। তাকে যারা আপনারা জানেন হয়তো এটি শোনার পর বিশ্বাস না হওয়াটা অসাস্বাভাবিক কিছু না। হ্যা নিজের কানেশুনে আমারো বিশ্বাস হতে কষ্ট হয়েছে। কিভাবে হতো? ছোটে বেলায় তাকে যে আমি আমার বাবার মতো দেখতাম। তাই বাস্তবতায় সম্মূখিন হওয়াটা ছিলো দুঃস্বপ্নের থেকেও কঠিন। তার ব্যাপারে আমি অনেক বাজে কথা শুনেছি। তবে সব কিছুই মনে হতো রূপ কথার মতো অবাস্তব। সেদিনের পর আমার আমার সেই মিথ্যে ঘোর কেটে বাস্তবতার সম্মূখীন হতে আমি বাধ্য হই। হয়তো সে আমাকে নিজের মেয়ের চোখে দেখেনি,

 

সে দিনের ঘটনা প্রমান করে যে সে আমাকে তার নিজের মেয়ের মতো আদর স্নেহ করেনি। সব ছিলো বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। আমার সব চেয়ে ভয় হয় সেই বাচ্চা পরীর মেয়েদের কথা হয়তো তাদের এইসব বোঝা বুদ্ধিটা হয়নি, ঠিক যেমন ছিলাম আমি। কেজানে তার প্রাইভেট পড়ানোর সময় সে তার মেয়ের বয়সের ছাত্রীর দিকে কোন নজরে তাকায়? অথবা হয়তো করা হয় হয়রানি? হয়তো গুড টার্স অথবা ব্যাড টার্স এর কথা আমার ছোট বেলায় কখনো মাথায় আসেনি তার মতো একটি ভালো মানুষের মুখোশ পরা সেই দুশ্চরিত্র লোকটির। তবে আমার কথাগুলো শুনে অন্য কোন বাচ্চা বা মেয়ের কোনক্ষতির সম্মূখীন না হতে হয়।

 

হয়তো অনেকের বাবা-মা সতর্ক হবেন। যে কোন ধরনের বিকৃতি মস্তিস্কেও মানুষের কাছে তাদের মেয়েকে পাটাচ্ছে। আমার একটি উদ্দেশ্য, আমার মতো অন্য কাউকে যেন এমন পরিস্থতিতির স্বীকার না হতে হয় এবং সবাইকে সর্তক হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এবিষয়ে শিক্ষক রাজিব চক্রবর্তী বলেন, কেউ আমাকে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা প্রেম ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এমন কাজ করিনি আমার ঐ ছাত্রীকে দিয়ে কে বা কাহারা ফেসবুকে এমন পোষ্ট দিয়েছে। আমি সম্পূর্ণ নিদোর্ষ।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!