
এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাদেকপুর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের মাজার ঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় বিএনপি’র’ এক সিনিয়র নেতা নব্য গঠিত আহবায়ক কমিটিতে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাদেকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হক। গতকাল শনিবার বিকালে মত বিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায় তিনি দীর্ঘ গত প্রায় ১২ বছর যাবৎ ভৈরব উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ রা ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র’ সভাপতি শরীফুল আলম ও সাধারন সম্পাদক মাজহারুল হক মান্না ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। মত বিনিময় সভায় সাদেকপুর ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মাখন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উক্ত ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও সাবেক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত আকবর, উপজেলা কৃষক দলের অন্যতম সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ইউপি সদস্য ও মৌটুপী ৩নং ওয়ার্ডের বিএনপি সদস্য আলী আঙ্গুর, সাবেক ইউপি সদস্য ও ২ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক যুব দলের সিনিয়র সহ -সভাপতি ফয়জুল আলম ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম প্রমুখ। এসময় বক্তারা নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন আমরা জাতীয়তাবাদী বিএনপি কে সুসংগঠিত করতে খালেদা জিয়ার হাত কে শক্তিশালী করার লক্ষে শরীফুল আলম এর নেতৃত্বে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দুর্দিনে দলের সাথে ছিলাম, এখনো আছি। ভবিষ্যতেও দলের সাথে থাকব ইনশাআল্লাহ। তবে সাদেকপুর ইউনিয়ন বিএনপি কে শক্তিশালী করে সুসংগঠিত করতে হলে তোফাজ্জল হকের বিকল্প নাই। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হক কে কমিটিতে রাখার জন্যে আহবান করেন সকল বক্তা ও সাদেকপুর ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মী গণ।
সভায় তোফাজ্জল হক বক্তব্যে বলেন যে, কেউ মানুক আর না মানুক আমি শরীফুল আলমের নেতৃত্বে চলি। আমি সাদেকপুরে অনেক নেতা কর্মী তৈরী করেছি কিন্তু আজকে বিএনপির পতাকা তলে আমার একটি সম্মান জনক স্থান হবে না এটা আমার জন্য একটি লজ্জা জনক বিষয়। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যতদিন বেচে থাকব ততদিন গিয়াস ভাইয়ের সাথে থাকব। কিন্তু আজ গিয়াসউদ্দিন গিয়াস ভাই নেই। সুতরাং আমি এখন শরীফুল আলম এর নেতৃত্বে চলব। বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করব।
সাদেকপুর ইউনিয়নবাসীর ভালবাসা ও দোয়ায় বাঁচতে চাই। কোন কুচক্রী মহল যদি তা পছন্দ না করে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আজকে দুঃখের সহিত বলতে হয় যে শুধু আমাকে নয়, সাদেকপুর থেকে কোন বিএনপির অভিভাবককে কোন নেতৃত্বে রাখা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক বিষয়। তবে এতে নিরাশ হবার কিছু নেই। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আগামী দিনেও লড়াই -সংগ্রাম ও সভা- সমাবেশ চালিয়ে যাবো। আমরা দলের পরীক্ষিত সৈনিক। দলের মাঝে আমাদের সম্মান জনক স্থান হবে এটাই আমি আশাবাদী।

আরও পড়ুন
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে ছাত্রদলের সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে র্যাগিং ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া