
রবিউল হাসান লায়ন,জামালপুর: জামালপুরে মানবাধিকার কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও চেক ডাকাতির অভিযোগের ঘটনায় ভুয়া মানবাধিকার কর্মকর্তা কাউছার আহম্মেদসহ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে শহরের তমালতলা এলাকার কথাকলি মার্কেট থেকে কাউছারকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। জামালপুর সদর থানা পলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন পিপিএমবিপিএম বারের নির্দেশে,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শাহ্ শিবলী সাদিকের দিক নির্দেশনায়, সদর থার ওসি (অপারেশন) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সদর থানার এসআই খাইরুল ইসলাম, এসআই রাসেল, এএসআই সাইফুল ইসলাম, এএসআই তুফায়েল আহম্মেদ, এএসআই মোস্তাফিজ, এএসআই ইকরামুল হোসেন অভিযানে অংশ নেয় এবং ভূয়া মানবাধিকার কর্মকর্তা পরিচয়ধারি কাউছার আহম্মেদ ও ২জন নারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কৃতরা হলো- জামালপুর শহেরর মাইনপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত- আইন উদ্দিনের ছেলে কাউছার আহাম্মেদ (৪২), সরিষাবাড়ি থানার গাছবয়ড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী শাহিদা আক্তার (৪০), মেলান্দহ থানার ভাবকি গ্রামের আঃ জব্বারের মেয়ে জনি আক্তার ঝর্ণা (২৩)। এ ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক রয়েছে, জামালপুর সদর থানার খড়খরিয়া গ্রামের লেবু মিয়ার স্ত্রী সুমি (৪০), শহরের বোষপাড়া গ্রামের এসএম জিয়াউল হক মনজুর ছেলে মনিরুজ্জামান নবেল (৪২)।
এ ঘটনায় জামালপুর শহরের পশ্চিম কাচারিপাড়া মৃত- নমির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আজিজ জামালপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। আব্দুল আজিজের মেয়ে পপি আক্তার বলেন- আমার বাবা অগ্রণী ব্যাংক জামালপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলো। এখন অবসরে আছেন। শুক্রবার বাসায় কেউ ছিলো না। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলিং বেল শুনে বাবা বাসার দরজা খুলেন। দরজা খোলার পর ২ জন পুরুষ ও ৩জন নারী বাসা ভাড়ার কথা বলে আমাদের রুমে ঢুকেন।
রুমে ঢুকার পর বাসা ভাড়া নিয়ে কথা শেষে বাবা তাদেরকে বিদায় দেওয়ার জন্য দরজা খুলতে গেলে বাবাকে তারা বাধা দেয় এবং বাবার সাথে ধস্তা ধস্তি শুরু করে। বাবা ভয় পেয়ে যায়। পরে তারা তাদের পরিচয় দেয় যে তারা মানবাধিকার কর্মকর্তা। পপি আক্তার আরো বলেন-“ আমার বাবা ভয় পেয়ে যায় এবং বাবাকে দিয়ে তারা জোড়পূর্বক একটি মেয়েকে ধর্ষনের স্বীকারোক্তি দিয়ে মোবাইল ভিডিও ধারন করে। তাই বাবা তাদেরকে তাদের দাবির কথা জিজ্ঞেস করে। তারা বাবার কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করলে বাবা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন তারা আমাদের বাসার আলমারি খুলে নগদ ৭৬ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণের একটি বালা,
১ ভরি স্বর্ণের একটি চেন , ৩৫ হাজার টাকার দুইটি চেক ও ৩০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে নেই। বাবার কাছে আরো টাকা দাবি করলে বাবা পরে টাকা দিবে বলে তাদের একজনের ফোন নাম্বার রেখে দেয়। এরপর বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দেড় ঘন্টা পর তারা চলে যায়। শনিবার সকালে বাবা জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এসব বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার বলেন-“ অভিযোগটি আসার পর কাউছার আহম্মেদকে শনিবার দিবাগত রাতে শহরের তমালতলা এলাকার কথাকলি মার্কেটে স্টুডিওর দোকান থেকে গ্রেফতার করে এবং ৩টি চেক উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
গ্রেফতার কৃত আসামী কাউছার আহম্মেদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে আরো ২জন কে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়ি ২জন পলাতক রয়েছেন

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২