হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরবের অসহায় মিনারার আকুতি

ভৈরবের অসহায় মিনারার আকুতি

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  নাম তার মিনারা খাতুন। নাম মেয়েদের মত হলেও প্রকৃত পক্ষে সে একজন তৃতীয় লিঙ্গের  (হিজড়া)মানুষ। মিনারার পিতার নাম মৃত হাবিজ উদ্দিন মিয়া। মাতা মোছাঃ খাতুন্নেসা। সে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ডেঙ্গের কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। ছেলে বেলা থেকেই মিনারা ছেলেদের মত আচরণ করত বলে তাকে স্কুলে পাঠাতো না বাবা মা। অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা মিনারাকে আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে বিয়ে দেয়া হয় একই গ্রামের ছেতু মিয়ার নিকট।
কিন্তু নারীত্ব না থাকার কারনে তাকে রেখেই দ্বিতীয় বিয়ে করে ছেতু মিয়া। এলাকার কিছু মানুষের লাঞ্চনা আর পরিবারের অবহেলার কারনে সে অন্য হিজড়াদের সাথে ঢাকা গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে। কিন্তু বয়স আর শাররীক দূর্লতার কারনে সে ধীরে ধীরে অন্য হিজড়াদের থেকে আলাদা হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আজ থেকে প্রায় দুবছর আগে সে ঢাকা থেকে একেবারে বাড়ি চলে আসে। কিন্তু জমি – জমা ও পিতা- মাতা না থাকার কারনে আরোও অসহায় হয়ে পড়ে মিনারা। অবশেষে  স্বামী ছেতু মিয়ার বাড়িতে এক কোণে একটি ডেরা ঘরে ঠাই হয় তার।
কিন্তু কর্ম ও আয় রোজগার না থাকার কারনে মানবেতর জীবন পার করছে মিনারা। এদিকে ছেতু মিয়াও তার অন্য পরিবার সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে দিন পাড় করছে। একটি কাজের জন্যে নানান জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছে সে। কিন্তু লেখাপড়া না থাকায় ও তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় কোন কাজও জুটছে না তার কপালে। এমতাবস্থায় কোন রকমে খেয়ে বেচে থাকার জন্য মাননীয় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের নিকট সাহায্যের আকুতি জানিয়েছে মিনারা বেগম।
সাক্ষাতে মিনারা খাতুন বলেন, আমিও তো মানুষ! আমিও সমাজের অন্য পাঁচজনের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে৷ স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার আছে৷ পৃথিবীতে আপন বলে কেউ নেই আমার ৷ কেউ আমাদের ভালো চোখে দেখে না৷ ফলে প্রতিনিয়তই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হচ্ছে৷ আমি মানুষের মতো বেঁচে থাকতে চাই৷
এবিষয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন, আমার নিকট উনি কখনো আসেনি। আমি উনাকে চিনিও না। তবে যেহেতু আপনার কাছ থেকে আমি জেনেছি উনার কথা, সেহেতু আমি উনাকে নিজেই খুজে বের করব এবং আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!