
এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ভৈরবে আসন্ন পৌরসভার নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন হাজী শাহিন। আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন ৭জন। ইতিমধ্যে ২য় ধাপের নির্বাচনী তফসিলের তালিকায় ভৈরবের নাম না থাকায় প্রার্থীগণ নিশ্চিত হয়েছেন যে ৩য় ধাপে ভৈরবের তফসিল ঘোষনা হবে। এই খবর জানার পর থেকে ভৈরব পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। করোনার সময়ে প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন।
২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই মূল নির্বাচনের পূর্বেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে প্রার্থী হতে হবে। তফসিল ঘোষণার আগেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
শুধু তাই নয় হাট-বাজারে বিভিন্ন দোকানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেমন গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে তেমনি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা ভোটের আগেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি তোড়জোড় চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে। মেয়র পদে নয় থেকে দশজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মত বিএনপির প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনেক কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিএনপির একক প্রার্থী গোপনে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
ভৈরব পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। সব মিলিয়ে মেয়র পদের পাশাপাশি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ১২টি ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৪টি পদ রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বও ভৈরব পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে পৌর মেয়র পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপি’র একক প্রার্থী । আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এড.ফখরুল আলম আক্কাছ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩০,৯৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। নিকটতম বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হাজি মোঃ শাহীন ধানের শীষ প্রতিকে ১৯,৯৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। তবে হাজি শাহিন নির্বাচনের দিন দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
এবার ২০২০ সালের নির্বাচনে ভৈরব পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার হচ্ছেন ৮৭৫১০ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৪৩৯৫৯ এবং মহিলা ৪৩৫৫১জন। এবারের ভৈরব পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ১০ জন ও বিএনপির ১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া জাতীয় পার্টির তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।
ইতিমধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনী মাঠে যারা কাজ করছেন তারা হলেন- ভৈরব পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ইফতেকার হোসেন বেনু ও সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: শাফায়েত উল্লাহ। পৌর আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ, ভৈরব চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন কবির ও সাবেক সভাপতি মো. মামুন। উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান লিমন ও কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সুলায়মানের পুত্র ও পৌর আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মির্জা সাজ্জাত।
এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ ইমরান মিয়া, আর এখনও পর্যন্ত কোন প্রচারে নেই বর্তমান পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ। তাছাড়া সবচেয়ে আকর্ষণ মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমানের একান্ত সচিব ৩ সাখাওয়াত উল্লাহ মোল্লার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ।
অপরদিকে বিএনপি থেকে একক প্রার্থী হিসাবে মাঠে আছেন ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজি শাহীন। আলাপকালে পৌর মেয়র প্রার্থী ইফতেকার হোসেন বেনু বলেন যদি দলীয় মনোনয়ন পাই তাহলে নির্বাচন করবো । আর মনোনয়ন না পেলে এলাকায় আলোচনা করে জানানো হবে সতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করব কি না । বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক তরুণ প্রার্থী এডভোকেট ইমরান বলেন, আমি নৌকার ইমরান,আমি নৌকা করি, দলের কাছে আমার দাবি আছে আর সেই হিসেবে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ।
অপর প্রার্থী পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজি মো. শাহীন বলেন, আমাকে দল থেকে এককভাবে মনোনয়ন দিয়েছে । আমি এর আগে সাফল্যের সাথে পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনসহ মানুষের সেবায় নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছিলাম। তাই এই কাজে নিজেকে আরও নিবিড়ভাবে জড়ানোর জন্যই আবার প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনে জয় লাভ করব ।
ভৈরব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দাপে চলতি বছরের আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । আর ভৈরব পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ডিসেম্বর। কিন্তু বর্তমান মেয়র চেয়ার পায় ১২ মার্চ ২০১৬ সালে তাই মেয়াদের পাঁচ বছর শেষ হবে তার হিসাব অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর যেহেতু ২য় ধাপে ভৈরব হচ্ছে না তাই ৩য় ধাপে হতে পারে।
ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু বলেন, কেন্দ্র থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমাদের সাংসদ আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপনসহ যারা কেন্দ্র পর্যায়ে আছেন তারাই দলীয় মনোনয়ন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন । তবে দলের অনেকেই মনোনয়নের আশায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২