হোম » প্রধান সংবাদ » বেগুন চাষে আগ্রহী রায়গঞ্জের কৃষকেরা

বেগুন চাষে আগ্রহী রায়গঞ্জের কৃষকেরা

মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জঃ- সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বেগুনের চাহিদা বেশ ভালো থাকায় কৃষকেরা মৌসুমের প্রথম দিক থেকেই বেগুন চাষ শুরু করেন। বর্তমান বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ায় এর চাষাবাদে দিন দিন অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর বেগুন উৎপাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে অধিকাংশ কৃষকের লক্ষ্য থাকে উৎপাদিত সবজির কাঙ্খিত মূল্য পেতে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বেগুনের ব্যপক চাহিদা থাকায় কৃষকেরা বেগুন চাষের জন্য মাঠ-ঘাটের পাশাপাশি এখন নিজেদের বাড়ীর আঙ্গিনার আশপাশে বেগুন চাষের জন্য বেছে নিয়েছেন।

উপজেলার নলকা কায়েম গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ মিঞা বলেন, শখ করে গত বছর বেগুনের চাষ করে বেশ ভালোই ফলন পেয়েছি, তাই এবছরও আমার নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় ভালো জাতের বেগুনের চাষ শুরু করেছি। আশা করছি মৌসুমের আগেই ভালো ফলন পাবো। উপজেলার নিজামগাঁতী গ্রামের হাজী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, গতবার মৌসুমের আগেই বেগুনের চাষ করে বেশ দাম পেয়েছি। আমাদের এলাকায় যে পরিমাণ সবজি চাষ হচ্ছে এর অধিকাংশই যথাসময়ে বাজারে পৌঁছাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। যা প্রক্রিয়াজাত করে রাখার জন্য উপজেলার হাটপাঙ্গাসী বাজারে হিমাগার স্থাপন করলে আমরা বর্তমান দরের চেয়ে আরো বেশি দরে সবজি বিক্রয় করতে পারব। কারণ আমরা শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন করি তার উপযুক্ত মূল্য অনেক সময় পাই না। পচে যাওয়ার ভয়ে আমরা বাজারে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে অনেক সময় কম দামে বিক্রি করে থাকি।

যদি হিমাগার থাকে তাহলে আমরা দেখে শুনে তা বিক্রয় করতে পারব। এদিকে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ বেগুনসহ বিভিন্ন চাষাবাদের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁরা আশাবাদী, গতবারের মতো এবারও মৌসুমের আগেই বেগুন চাষ করবেন। সব চাষি কিভাবে আগে বেগুনের চাষ করবেন এবং ফল পাবেন সেই চিন্তায় এখন মগ্ন রয়েছেন। বেগুন চাষে খরচ কম ও স্বল্প সময়ে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরাও এতে দিনদিন আগ্রহী হচ্ছেন। অল্প পুঁজিতে বেগুন চাষ করে বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।

বেগুন বিক্রি করে সাংসারিক খরচ মিটিয়ে বাড়তি টাকা সঞ্চয়ও করেছেন অনেকেই। উপজেলার হাট পাঙ্গাসী উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, ‘আমরা বেগুনসহ সকল সবজির ভালো ফলন পেতে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর ফলে অনেকেই এক ফসলি জমিতে তিন ফসলি সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।’ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যাপক বেগুন চাষের সফলতার ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামীতেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কৃষকদেরকে সবজিচাষ করার আহব্বান জানিয়ে কৃষকদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ দিতে ও সহযোগিতা করতে সর্বদায় প্রস্তুত আছি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!