
আবু সাঈদ সজল, রাবিঃ করোনা সংক্রমণের আশংকায় গত ১৭ ই মার্চ থেকে ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে গত ১২ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দুই একটি কোর্স বাকি থাকতেই স্থগিত হয়ে যায় বিভিন্ন বর্ষে চলমান ফাইনাল পরীক্ষা। একারনে উভয় সংকটে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এদিকে, সেশনজট এড়াতে গত ০৯ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন অসমাপ্ত পরীক্ষা দিতে পারছেন না, অন্যদিকে সব কোর্সের পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় তারা অংশ নিতে পারছেন না চলমান অনলাইন ক্লাসেও।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা সংকটে ছুটি ঘোষণার আগে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষার কাজ পুরোদমে চলমান ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিভাগ সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করলেও কিছু বিভাগ পরীক্ষার মাঝামাঝিতে এসে আটকে যায়। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষ, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের প্রথম ও চতুর্থ বর্ষে এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষ ছাড়া বাকি সব বর্ষের পরীক্ষা আটকে আছে। একইভাবে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্স বিভাগের লেভেল ফোর সেমিস্টার টু এর পরীক্ষাও ঝুলে আছে। এদিকে, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউমান রিসোর্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ এবং ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ব্যবহারিক পরীক্ষাও অসম্পন্ন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০৭ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা অনলাইনে শেষ করার ঘোষনা দেয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ঘোষনা দিলেও এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের চতুর্থ বর্ষের একটা পরীক্ষা বাকি থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে আমরা কোন চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছি না। করোনার জন্য শিক্ষাজীবন আর চাকরি উভয় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে আমাদের।”
পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউমেন রিসোর্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ খান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ডিপার্টমেন্টের লিখিত পরীক্ষা হয়ে গেছে আবার কোনো ডিপার্টমেন্ট এর এক্সাম শুরুই হয়নি কিংবা কারো শুধু প্র্যাক্টিক্যাল এক্সাম বাকি আছে। মানে নানাবিধ জটিলতায় আটকে আছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের জীবন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অসমাপ্ত পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া এখন সময়ের প্রয়োজনেই জরুরি। এবিষয়ে রাবি প্রশাসনের গ্রহণযোগ্য ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা এখন সময়ের দাবি।
আটকে থাকা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনার কারণে বর্তমানে কোনো কিছুই থেমে নেই। শুধু থেমে আছে শিক্ষা কার্যক্রম। ২-১টি কোর্সের পরীক্ষার জন্য তাদের সবকিছু আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশিত হচ্ছে না। পরীক্ষা অসমাপ্ত থাকায় একদিকে তারা যেমন অনলাইনে পরবর্তী বর্ষের ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘ সেশনজট আর চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ার আশংকা।
এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা ড. মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, “বাকি থাকা পরীক্ষাগুলো বাকি রেখেই পরবর্তী বর্ষের ক্লাস শুরুর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আমরা সব শিক্ষার্থীদের কথাই ভাবছি। বিশেষ করে যাদের সম্মান চতুর্থ বর্ষের ভাইভা বা টেবুলেশন শিট প্রস্তুত না হওয়ায় সম্মানের ফলপ্রকাশ আটকে আছে তাদের বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
তিনি আরো জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হয়েছে। এসভায় এসব বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আটকে থাকা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এম এ বারী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারী চলছে এসময়ে পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারী ঘোষনা এলেই কেবল এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। তাছাড়া, যেসব শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে সীমিত পরিসরে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা বাস্তবায়ণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন
মালায়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার
নিত্যপণ্যে কর কমানোর কথা বিরোধীদল বলছেনা, বিশেষ শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড় – প্রধানমন্ত্রী