হোম » প্রধান সংবাদ » তিস্তা’র তীব্র ভাঙ্গন! নদীগর্ভে ‘বিলীন’ বসত‌ভিটা ও আবা‌দি জ‌মি

তিস্তা’র তীব্র ভাঙ্গন! নদীগর্ভে ‘বিলীন’ বসত‌ভিটা ও আবা‌দি জ‌মি

মিজানুর রহমানঃ তিস্তা’র তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। লালমনিরহাটে গত ৩/৪ দিনে শুধু একটি গ্রামেরই ৭৩টি পরিবারের বসত‌ভিটা, ঈদগাহ মাঠ ও আবা‌দি জমি নদীগর্ভে ‘বিলীন’ হয়েছে। হুমকীর মুখে রয়েছে শিক্ষা-প্র‌তিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা। জানাগেছে, চলতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু করে থেমে-থেমে বন্যার কবলে পড়ে তিস্তা’র বামতীরে থাকা লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা না হলেও, তিস্তা’র পানি প্রবাহ ওঠানামা করছে।
পানি কমতেই শুরু হয় ভাঙ্গন। এতে নদীর বামতীরে থাকা লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় প্রায় প্রতিনিয়ত ‘বিলীন’ হচ্ছে- বসতভিটা, ঈদগাহ মাঠ, রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, স্থাপনা ও আবা‌দি জমি। চোখের সামনে ভেসে যায়, প্রিয় বসতভিটা ও আসবাব-পত্র। ঘরবাড়ি সরানোর মতো কোনো সুযোগও পাচ্ছেন না কেউ-কেউ।
লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ভাঙ্গন দেখা দিলেও কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে- আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের দক্ষিন বালাপাড়া গ্রাম। গত ৪দিনে গ্রামটির ৭৩টি বসতভিটা ও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ‌ নদীগর্ভে চলে গেছে। গত ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর গ্রামটির ২৮টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে গোবর্দ্ধন ইসমাঈল পাড়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়।
এভাবে, ভাঙ্গন চলতে থাকলে দুই-একদিনের মধ্যে গ্রামটির একমাত্র বিদ্যালয়টিও ‘বিলীন’ হতে পারে। দ্রুত ভাঙ্গনরোধে ব্যর্থ হলে শতকোটি টাকা ব্যায়ের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ ‘বিলীন’ হতে পারে। সিংঙ্গিমারী-পাশাইটারী গ্রামটি ‘বিলীন’ হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি এখন ওই বাধেই ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে, বাধটিও ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বাধটি নদীগর্ভে চলে গেলে শতশত একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়বে। একইসাথে, ভাঙ্গনের মুখে পড়বে কয়েক শত পরিবার ও সরকারী-বেসরকারী বি‌ভিন্ন স্থাপনা।
তিস্তা’র তলদেশ ভরাট হওয়ায় অল্পতেই বন্যা আর ভাঙ্গনের মুখে পড়েন তিস্তা পাড়ের মানুষ। তাই, দীর্ঘ দিন থেকেই তিস্তা নদী-খনন করে স্থায়ীবাধ নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরী বরাদ্ধ থেকে ‘জিও’ ব্যাগের পাইলিং বাধের কাজ করা হলেও, তার মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ নদী পাড়ের মানুষদের। নদীর তীরে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ‘জিও’ ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। সপ্তাহ না যেতেই, সেই ‘জিও’ ব্যাগ গড়িয়ে পড়ে মেশিনের গর্তে গিয়ে ভরাট হচ্ছে।
একই সাথে, নদী পাড়ে মেশিন বসানোর কারনে নদী ভাঙ্গনও বেড়েছে কয়েকগুণ। যেখানে মেশিন বসানো হচ্ছে- তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে বলেও দাবি নদী পাড়ে মানুষদের। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ, দক্ষিন বালাপাড়া গ্রামের আবুবক্কর ও মনছুর আলী লালম‌নি প্র‌তি‌দিন-কে বলেন, চোখের সামনেই সবকিছু ভেসে গেছে। ঘরের টিন খুলে সরানো সম্ভব হলেও অনেক আসবাব-পত্র তিস্তা’য় ভেসে গেছে। টিন খুলে রাস্তায় রেখেছি। কিন্তু জমি নেই বাড়ী করার! কোথায় যাব? আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না!
ওই এলাকার শাহাআলম, সোলায়মান আলী ও গোলজার হোসেন লালম‌নি প্র‌তি‌দিন-কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনছি নদীর বাধ দেবে সরকার। সেই বাধ তো দুরের কথা, নেতাদেরও দেখা যাচ্ছে না। আমরা নদীতে ভেসে যাচ্ছি, কিন্তু জনপ্র‌তি‌নি‌ধিদের দেখা নেই। আগে, ভাঙ্গন কবলিতদের টিন ও টাকা দিতো সরকার। এখন সেই টিনও নেই। আমরা ত্রান চাই না, নদী-খনন আর স্থায়ীবাধ চাই।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!