
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের বাজেবিশারা গ্রামে বিত্তশালী বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত ফজলুল রহমানের পরিবারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিবেশী এতিম অসুস্থ ও নিরীহ পরিবারের জায়গা জবরদখল করার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত সালিশকারদের মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী।
রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাজে বিশারা গ্রামে এই মানববন্ধনে অংশ নেন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। এসময় তারা চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করা গ্রামের নিরীহ মানুষকে জড়িয়ে এতিমের জায়গা দখলের অভিযোগ তোলে ঐ গ্রামের বাসিন্দা মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এর পরিবারের সদস্যদের উপর।
গ্রামের একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমানের এক পুত্র অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও আরেক পুত্র আমেরিকা প্রবাসী হওয়া সত্বেও তাদের প্রতিবেশী এতিম মাহবুব মিয়ার পৈত্রিক ভাবে পাওনা সাবেক সেঃ মেঃ দাগ ৩৬৬ হালে বিএস ২১৫ দাগে ৪১ শতকের অন্দরে ডোবা ৮ শতক ভূমি জবরদখল করে ড্রেজার দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করে চলেছে।
এ নিয়ে দুই পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। পরে সাধারণ গ্রামবাসী বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে শালিসি বৈঠক করে মাহবুবের জায়গা সহ আরো কয়েকজনের অভিযোগ শুনে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও স্ত্রীর আপন ভাই সাবেক ইউপি সদস্য ফুল মিয়াকে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বললে তারা ৪শতক জায়গার কাগজপত্র দেখাতে পারেন।
শালিস বৈঠকে তারা বাকি ৪ শতক ভুমির কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়ে পূনরায় আবার শালিশকারকদের কাছ থেকে গত ২৯ শে আগষ্ট পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন। এবং ঐ দিন বিষয়টি সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু শালিসি বৈঠকের ধার্য্য তারিখে আগেই তারা বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম ফজলুর রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে শালিসে উপস্থিত থাকা নুরুজ্জামান সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নামে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন।
এই খবর শুনার পর এলাকায় গ্রেফতার আতংকে জনমনে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হয়ে কি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করল জনমনে নানান প্রশ্ন নাড়া দিচ্ছেন বলেও জানান।
তারই ভিত্তিতে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে রবিবার বিকালে জবরদখলকৃত জায়গার সামনে জবরদখলকৃত ভূমি ফেরত ও সাধারণ মানুষদের মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। প্রসঙ্গত, বিষয়ে উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আপোষ সভায় উপস্থিত সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম সরকার মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
সর্বশেষ শালিস বৈঠকে হাসিনা বেগম ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত সময় নেন কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে। উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কেউ কাউকে দোষারোপ করবে না বলে আশ্বস্ত করে গেছেন, সেখানে আবার চাঁদাবাজি এলো কি করে ? অন্য আরেক সালিশকারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল রহমান ভাইয়ের স্ত্রী ও তার শালা সময় নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সমাধানে না বসে আবার চাঁদাবাজি মামলা করলেন কি করে আমার জানা নেই। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুন বলেন, ”অভিযোগ পেয়েছি সরেজমিনে গিয়ে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২