হোম » প্রধান সংবাদ » বগুড়া শেরপুরে যুবদলের সাংগঠনিক সভায়  দু’পক্ষের হট্টগোল ভাংচুর,সভা পন্ড

বগুড়া শেরপুরে যুবদলের সাংগঠনিক সভায়  দু’পক্ষের হট্টগোল ভাংচুর,সভা পন্ড

এম.এ রাশেদ (বগুড়া) জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে যুবদলের নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। শনিবার (২২আগস্ট) দুপুরের দিকে পৌরশহরের খন্দকারপাড়াস্থ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর পরিবেশ শান্ত হয়ে আসলেও গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ায় সভা পন্ড হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর ও ধুনট উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত করতে দলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম ওবায়দুল ইসলাম সুইটকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সে লক্ষ্যে শনিবার এই উপজেলায় সফরে আসেন তিনি। আর এই নেতার আগমন এবং নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে যুবদলের সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিএনপি নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান নিলুর সভাপতিত্বে সভার শুরুতেই যুবদলের এই বিভাগীয় নেতা এইচএম ওবায়দুল ইসলাম সুইট শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
এরপর বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্য আগেই দিয়ে চলে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তাদের সভার শেষপর্যন্ত থাকতে অনুরোধ করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আর এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএনপি নেতা স্বাধীন কুমার কুন্ডর সঙ্গে যুবদল কর্মী সবুজ ও শাহীন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। এমনকি ওই সভায় উপস্থিত যুবদলের নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে হাতাহাতি ও ব্যাপক মারামারিতে লিপ্ত হয় । এসময় এক পক্ষ অপর পক্ষের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারে। দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয় বলে সূত্র জানান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভার সভাপতি যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান নিলু বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে বাকবিতন্ড হয়েছে। আর তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
এ ছাড়া সভায় পরিকল্পতিভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরী করা হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই সভা স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিএনপি নেতা স্বাধীন কুমার কুন্ডু মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, যুবদলের নামধারী কর্মী বলে খ্যাত শাহীন ও সবুজ আমাকে কটুক্তি করে মন্তব্য করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ বাধে। এদিকে যুবদল নেতা মো. সবুজ মিয়া ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমরা তাকে নিয়ে কোন মন্তব্য করিনি। বরং তিনি আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। আমরা কেবল তার প্রতিবাদ জানিয়েছি মাত্র।
শেরপুর পৌর শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সম্রাট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মূলত বিএনপির এই নেতা যুবদলের পকেট কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সেখানে তার বাড়ির কর্মচারীদের পদে আনতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। দলের ত্যাগি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে তাদের বাদ দিয়ে ওই সভায় কমিটি গঠনের চেষ্টা করছিলেন। তাই বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এই হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে বলে দাবি করেন তিনি। শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!