হোম » প্রধান সংবাদ » রাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে থিসিস ১৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে সুপারভাইজার একজন

রাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে থিসিস ১৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে সুপারভাইজার একজন

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম ব্যাচের মাস্টার্সের ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন থিসিসের আবেদন করে। কিন্তু এসব শিক্ষার্থীর থিসিসে সুপারভাইজার হিসেবে আছেন বিভাগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর একজন সুপার ভাইজারের অধিনে থিসিস করায় গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। গত ডিসেম্বরে এসব শিক্ষার্থীর তাদের থিসিস জমা দিয়েছেন।

তবে মামুন চৌধুরীর দাবি, সিনিয়র শিক্ষক না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে তিনি সবার সুপারভাইজার ছিলেন। এছাড়া সকল নিয়ম অনুসরণ করে গবেষণা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে শিক্ষক ছয়জন। এরমধ্যে একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুই সহকারি অধ্যাপক ও তিন জন প্রভাষক রয়েছে। এর মধ্যে দুই সহকারি অধ্যাপক শিক্ষা ছুটিতে রয়েছে।

বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর প্রথম থেকে একাই থিসিস গ্রুপের সুপারভাইজার হিসেবে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে বিভাগের একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে তিনজন প্রভাষককে জুনিয়র উল্লেখ করে সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীকে থিসিসের জন্য মনোনীত করা হয়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থী তার অধীনে থিসিস করেছেন। এছাড়া মাস্টার্সের থিসিসের ৩০০ নম্বর ছাড়াও ৬০০ নম্বরের কোর্সের মধ্যে একজন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ায় ওই শিক্ষকের দুটি কোর্সসহ ৩০০ মার্কের কোর্স শিক্ষক মামুন চৌধুরী। ফলে অনেক শিক্ষার্থী অনিচ্ছকৃত হলেও তার অধীনে থিসিস করেছেন।

একজন সুপারভাইজারের অধীনে একই বর্ষের ১৫ শিক্ষার্থীর থিসিসের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র অধ্যাপক বলেন, একজন শিক্ষকের পক্ষে এক সঙ্গে ১৫টি থিসিসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে একটি থিসিসের যে স্ট্যান্ডার্ড থাকা দরকার সেটি আসবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “একজন শিক্ষকের পক্ষে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর থিসিসের সুপারভাইজার হিসেবে থাকা সম্ভব। এর চেয়ে বেশি হলে থিসিসের স্ট্যান্ডার্ড মান আসে না। যেহেতু একজন শিক্ষকের থিসিস ছাড়াও এখানে বিভাগের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ১৫ জন শিক্ষার্থী হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।”

গবেষণার মানের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, “থিসিসগুলো জমা হওয়ার পর এগুলো সফটওয়্যারের মাধ্যমে চেক করা হয়েছে। এখন আমরা এই থিসিসগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সপার্টের কাছে পাঠাবো। তারা এগুলো দেখবে। সুতরাং এখানে থিসিসের স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে প্রশ্নতোলার সুযোগ নেই।”

একজন সুপারভাইজারের অধীনে কতজন শিক্ষার্থী থিসিস করতে পারে সে বিষয়ে কোনো নিদিষ্ট নিয়ম নেই জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা (ডিন) অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, “১৫ শিক্ষার্থী একজন শিক্ষকের অধীনে থিসিস করেছেন এটা আমার জানা ছিল না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিবো। এমনটা হয়ে থাকলে গবেষণার মান কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!