হোম » প্রধান সংবাদ » নওগাঁয় ৪২জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও থেমে নেই পুলিশের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম

নওগাঁয় ৪২জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও থেমে নেই পুলিশের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম

জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় ৪২জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও থেমে নেই পুলিশের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম, করোনা ভাইরাসকালীন সরকারের দেওয়া দায়িত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করছেন নওগাঁ পুলিশ। পুলিশের এই কার্যক্রম জেলার কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা যেমন প্রচার করেছেন তেমনি পুলিশের সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরায় স্বাগত জানিয়েছেন নওগাঁবাসি ।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নওগাঁ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির রক্ষার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিজের বেতন-ভাতার টাকা থেকে এমন কি রেশনের চাল,ডাল, তেল দিয়ে সাহায্য করে চলেছে নি¤œ আয়ের মানুষদের। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ১হাজার ৫০০ হতদরিদ্র পরিবারে মধ্যে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপহার দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার মেয়ে নাসিমা বেগম। করোনা উপসর্গ নিয়ে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। নিহতের স্বজনরাও দাফনে অস্বীকৃতি জানান। এমন পেক্ষাপটে বদলগাছী থানার এসআই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্যরাই নদীর তীরে দাফন কাজে অংশ নেয়।

শুধু দাফন কাজেই নয়, করোনাকালে নওগাঁ পুলিশের বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কার্যক্রম স্থায়ীভাবে প্রসংসিত হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় অসহায় বোধক করেন। অর্থ থাকা সত্বেও অনেকে বাজারে যেতে পারেন না। পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়ার উদ্যোগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তির বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। করোনার সময় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কৌশল, কর্মপন্থা, সচেতনতা এবং অপারেশনাল কার্য়ক্রম বিষয়ক সভা, সেমিনার ও মতবিনিময় করেছেন পুলিশ সুপার।

 

বোরো মৌসুমে পাবনা, নীরফামারীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নওগাঁয় আসা ধান কাটা শ্রমিকদের মাস্ক, সাবানসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে স্বাগত জানান নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ দিকে নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্স নওগাঁসহ প্রতিটি থানা, ফাঁড়ির সামনের অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গায় ফসল উৎপাদন ও ফুল বাগান তৈরি চলমান রয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ফলদ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ভর্বিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশিয় ফলের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়। নতুন ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে পুলিশ সুপার জেলার ১১ টি থানায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন।

 

তিনি বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে নওগাঁর পত্নীতলা, ধামইরহাট, সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর এলাকার কৃষকদের আনারস চাষে বেশি প্রধান্য দিয়ে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন। করোনার মাঝে তরমুজ চাষীদের লোকসানের কথা বিবেচনা করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তরমুজ ক্রয় করে পুলিশ সদস্যদের মাঝে বিলিয়ে দেন। অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও পুলিশ সুপার মহোদয়ের উদ্যোগে উৎসাহী হয়ে তারা নিজেরাও সরাসরি তরমুজ চাষীদের নিকট থেকে তরমুজ ক্রয় করেন।

চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ২৪ হাজান ৭৭৫ হেক্টর জমিতে গড়ে ওঠেছে আমবাগান। মাঠ পর্যায়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ৩ শতাধিক মৌসুমি আড়তে স্বাস্থবিধী মেনেই চলছে আমের বানিজ্য। আম বাজারে পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন, রাস্থায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজী রোধে নানা মুখী উদ্যোগ গ্রহণ করায় আম ব্যবসায়ী, চাষী, আড়তদার ও সরবরাহকারীদের মধ্যে শান্তি বিরাজ করেছে। এরই মধ্যে আম ব্যবসায়ী ,চাষী ও আড়তদারদের মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেছেন, আমের বাজার, আড়ত বা ট্রাকে চাঁদাবাজীর সঙ্গে যুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এ পর্যন্ত নওগাঁয় ৪২জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও ৩৭ জন সুস্থ হয়ে তাদের স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। স্বাস্থবিধী মেনে গণপরিবণ পরিচালিত হচ্চে কি না সে বিষয়টি পুলিশ কঠোর ভাবে তদারকি করছেন। এ ছারাও বিদেশ এবং বিভিন্ন জেলা থেকে নওগাঁয় আগত ব্যাক্তিদের তালিকা প্রতিনিয়ত সংরক্ষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। নওগাঁ জেলায় প্রায় নয়শ গ্রামে পুলিশের মধ্যেমে ঈদের শুভেচ্ছা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পুলিশের আহব্বানে নওগাঁ জেলার ৫৮জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্নসমর্পণ করে আলোর পথের অভিযাত্রী হয়েছেন। পুলিশ সুপার নিজে আতœসমর্পণকারীদের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের খাদ্য সামগ্রী উপহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!