
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি (ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি) ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক বলেছেন, পাকিস্তানের পানির অংশে বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিরোধ করা হবে। এমনকি তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, যে বা যারা পাকিস্তানের পানি প্রবাহে বাধা দেবে তাদের হাত কেটে ফেলা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসাদ্দিক মালিকের এই বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। তবে বক্তব্যটির ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের প্রাপ্য পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কৃষিনির্ভর হওয়ায় পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আগে থেকেই জানিয়ে এসেছে যে দেশটির পানির অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টিকে ন্যায়বিচার ও নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর পানির অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন’র প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী মালিক বলেছেন, ‘একটি যন্ত্র রয়েছে, যা প্রতিবেশী একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলছেন— পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ জীবিকার জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ, একটি পক্ষ আমাদের পুরো দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, দেশের ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।’
মন্ত্রী দাবি করেন, ‘আমরা আগেই ঘোষণা করেছি যে কেউ যদি আমাদের পানি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এখানে ন্যায়ের প্রশ্নও আছে। আমরা নিজেদের রক্ষা করব…আমরা শুধু ঘোষণা করিনি, বরং প্রমাণ করেছি যে— কেউ যদি আমাদের পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে আমরা সেই হাত কেটে ফেলব।’
মালিক বলেন, ‘বিশ্বের অন্য অনেক জায়গায় কোনো চুক্তি না থাকলেও কনভেনশনের ভিত্তিতে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন কি প্রতিটি উজান অঞ্চলের অধিকার হয়ে গেল যে তারা ভাটির অঞ্চলে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেবে?…কিন্তু আমাদের তো একটি চুক্তিও রয়েছে। তাহলে এখানে পানি কীভাবে বন্ধ করা যেতে পারে? এটাই সেই বিষয়, যা আমরা আগামীকাল উপস্থাপন করব।’
তবে ভারত এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়ে আসছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু অববাহিকার পানিতে নিজেদের অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে এবং ভারতের অংশের পানি পাকিস্তানে প্রবাহিত হতে দেবে না।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহারের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ২০টি রেলকোচ প্রস্তুত করেছে ভারত
পাকিস্তানে জোড়া বোমা হামলা, নিহত ৭
সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা নেব না: হাসনাত