
শুক্রবার বেলা আড়াইটা, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় কয়েকশত উৎসুক মানুষ। সবাই দৃষ্টি তখন প্রধান সড়কের দিকে। কোন গাড়ি আসার শব্দ পেলেই তাকিয়ে দেখছে সবাই। এভাবে কেটে যায় প্রায় ১৫ মিনিট। ঘড়ির কাটা ঠিক তখন পৌনে ৩টা। একে একে সাইরেন বাজিয়ে লাশবাহী চারটা ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্স এসে থামে ঢাকার নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বালেঙ্গা গ্রামে।
এ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে তখন উৎসুক জনতার ভিড়। প্রিয় মানুষের মরদেহ এসেছে বাড়ির আঙ্গিনায় জানতে পেরে স্বজনরাও ছুটে এসেছে। একে একে নামানো হলো কফিন বন্দি লাশগুলো। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পুরো এলাকা। স্বজনদের কান্না দেখে কাঁদের উপস্থিত অনেকে।
গত ৭ জুলাই দুবাইয়ের আজমান প্রদেশে গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত ৫ জনের মধ্যে চারজনের বাড়িই বালেঙ্গা গ্রামে। শুক্রবার নিহত ৫ জনের মরদেহ দেশে আসে।
দুর্ঘটনায় নিহত রানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে দাঁড়ানো জায়গাটুকু নেই। আত্মীয় স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার মানুষ ছুটে এসেছে শেষ বারের মত রানাকে এক নজর দেখতে। রানার বাবা কান্নাজনিত কন্ঠে জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে রানাকে বিদেশ গিয়েছিল। আগামী ডিসেম্বর ওর দেশে আসার কথা ছিল। ছেলে আমার ৫ মাস আগেই বাড়িতে এলো, তবে নিথর দেহে।
তিনি আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরে দেশে এসে নববধূকে ঘরে তুলবেন এমন স্বপ্ন ছিল রানার। পরিবার থেকে পাত্রী দেখে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও নিয়েছিল পরিবারটি। তবে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে যায় রানা ও তার পরিবারের স্বপ্ন।
-আওয়াজ অনলাইন-

আরও পড়ুন
ড. মুনাওয়ার মাহমুদ ছহুল এর পরলোক গমনে বনানী গ্রীন সোসাইটির শোক প্রকাশ
লেবাননে প্রবাসীরা নিবন্ধন করে না ফিরলে দায় তাদের: দূতাবাস
লেবানন থেকে ফিরলেন ৭০ বাংলাদেশি, মঙ্গলবার ফিরবেন আরও ৩২ জন