হোম » অর্থনীতি » ইমাম বাটন থেকে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ : কারসাজির খপ্পরে বিনিয়োগকারীরা

ইমাম বাটন থেকে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ : কারসাজির খপ্পরে বিনিয়োগকারীরা

আওয়াজ অনলাইন : প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর চলতি অর্থবছরের শুরুতে ভিন্নধর্মী ব্যবসার মধ্য দিয়ে উৎপাদনে ফেরার ঘোষণা দেয় ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যার নতুন নামকরণ করা হয়েছে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। মালিকানায় পরিবর্তনের পর লোকসানে ধুকতে থাকা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি দুই দফায় মোট দুই শতাংশ অন্তর্বর্তীকালিন লভ্যাংশও দিয়েছে। যা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে পুঁজিবাজারে।

তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি মাছ ব্যবসার কোন নথিপত্রের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ব্যবসার শুরুতে ট্যানারি ইউনিটের দেয়া ডিসক্লোজারটিও মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

কিন্তু উৎপাদন ও মুনাফার তথ্যে এরই মধ্যে কয়েকগুন বেড়েছে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম। সেই সুযোগে নামে বেনামে থাকা বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম হাসিব হাসান।

ইমাম বাটনের প্রকৃত মালিক চট্টগ্রাম ভিত্তিক ইমাম গ্রুপ। যার মালিক মোহাম্মদ আলীর হাতে ইমাম বাটনের ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং তার স্ত্রী জেবুন্নেসা আকতারের হাতে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার আছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইমাম গ্রুপের ৮শ’ কোটি টাকারও বেশি খেলাপি ঋণের কারণে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা ৫৫ মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে স্বস্ত্রীক দেশ ছেড়ে পালান মোহাম্মদ আলী। তার পর থেকেই বন্ধ কারখানা।

এমন পরিস্থিতিতে বাজার থেকে নিজের নামে ২ শতাংশ এবং হামি এন্ড কোং’র নামে আরও দুই শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসইসিতে ইমাম বাটনের মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন করেন এএসএম হাসিব হাসান। দুই পক্ষের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আগের পরিচালনা পর্ষদ ভোঙ্গে দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ সগির হোসেন খন্দকারকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে নতুন পর্যদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। এএসএম হাসিব হাসান নিয়োগ পান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে। ডেফডেইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাহামুদ হোসেনকেও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপরই কৃষি খাতের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় ইমাম বাটন। ডিএসইর ওয়েবসাইটে গত বছরের ১০ আগস্ট বরগুনার আমতলি উপজেলার মহিষডাঙ্গায় আট বিঘা জমির ওপর ইমাম বাটনের কৃষি খামারে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। মূলত যা একটি মাছের খামার। এই মাছের খামারের ব্যবসার ওপর ভিত্তি করেই ২৯ অক্টোবর ২০২৩ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এক শতাংশ অন্তর্বর্তীকালিন লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ৩০ জানুয়ারি পুনরায় আরও এক শতাংশ অন্তর্বর্তিকালিন লভ্যাংশ ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি।

কোম্পানির এসব বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্য যাচাইয়ে সম্প্রতি আমতলির খামার পরিদর্শন করেছে একুশে টেলিভিশন। সেখানে সাইনবোর্ড ও খালি পুকুর ছাড়া আরও কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা মাছ বিক্রি এবং ১৩ লাখ টাকা মুনাফার তথ্য দিয়েছে এ কোম্পানি। অথচ স্থানীয়রা এতো বিপুল পরিমাণে মাছ কেনা-বেচা হতে দেখেননি। প্রজেক্ট ম্যানেজার অহিদুজ্জামান শাহিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোম্পনি মাত্র শুরু হয়েছে মুনাফার ব্যপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না। আর প্রত্যন্ত এই এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাছের উৎপাদন ও মুনাফার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিস।

একই ধরণের তথ্য দিয়েছে ডিএসইর পরিদর্শক দলের পরিদর্শন প্রতিবেদনও। প্রতিবেদন বলছে, মাছের ফিড ক্রয় থেকে শুরু করে বিক্রয় পর্যন্ত কোম্পানি যেসব নথিপত্র দাখিল করেছে তার সবই মিথ্যা এবং বানোয়াট।

পাশাপাশি দুই দফায় ২ শতাংশ অন্তবর্তীকালিন লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্যেই বড় গড়মিল খুঁজে পেয়েছে ডিএসই। ইমাম বাটনের প্রাইম ফাইন্যান্সে ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি ঋণ আছে। যার কিস্তি পরিশোধ না করেই মুনাফা দেখিয়েছে ইমাম বাটন। ঋণের দায় এবং অন্যান্য আর্থিক ব্যয়সমুহ বিবেচনায় নিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেই মুনাফার বদলে লোকসান গুনতে হবে কোম্পানিকে। এ ব্যপারে ইমাম বাটনকে চিঠিও দিয়েছে ডিএসই।

এদিকে, এই অন্তবর্তীকালিন মুনাফার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান ‘জেড’ থেকে ’বি’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের আবেদন করেছে ইমাম বাটন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আল আমিন বলেন, একে তো মুনাফার ঘোষণাতেই গলদ, তার ওপর অন্তবর্তীকালিন লভ্যাংশের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। একটা তালিকাভুক্ত কোম্পানি চালান অথচ আইনটাই জানেন না, যোগ করেন তিনি।

এদিকে, ২০২২ সালে অক্টোবর মালিকানা পরিবর্তনের আবেদনের অনেক আগে থেকেই নামে-বেনামে বিভিন্ন বিও অ্যাকাউন্টে ইমাম বাটনের শেয়ার কিনে মজুদ করেন হাসিব হাসান।

সিডিবিএল’র গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য বলছে, উইংস্ফিন লিমিটেড ব্রোকারেজ হাউজে এএসএম হাসিব হাসান নামে ১২০৬৫১০০৬৫০৯৪৯২০নং বিও অ্যাকাউন্টে আছে ইমাম বাটনের ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৯টি শেয়ার, যা পরিচালক শেয়ার। এনএলআই ব্রোকারেজ হাউজে হামি এন্ড কোং নামে ১২০৫৭২০০৭৫৩৫৭২০০নং বিও অ্যাকাউন্টে আছে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৫টি শেয়ার। এগুলোও পরিচালক শেয়ার, তবে ইমাম বাটন জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও আইন ভঙ্গ করে মার্জিন ঋণ ব্যবহার করে এ শেয়ার কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনএলআই ব্রোকারেজ হাউজে রিফাত আরা পাপড়ি নামে ১২০৫৭২০০৭৫৮৫৫৬২০নং বিও অ্যাকাউন্টে আছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৩২৩টি এবং উইংস্ফিন লিমিটেড ব্রোকারেজ হাউজে একই নামে ১২০৬৫১০০৭৫৮৮০৪৭০নং বিও অ্যাকাউন্টে আছে আরও ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪০৮ শেয়ার। দুই অ্যাকাউন্টেই আইন ভঙ্গ করে মার্জিন ঋণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডে এএসএম হাসিব হাসান নামে ১২০৪৭৯০০৬২৩১৭৩৯০নং অ্যাকাউন্টে ৬০টি শেয়ার এবং শেলটেক ব্রোকারেজ হাউজে একই নামে ১২০২৫৫০০৫৩৪১২৩০০নং অ্যাকাউন্টে আছে আরও ১১০টি শেয়ার। ৩০ থেকে ৩৫ টাকা করে কেনা হয়েছিল এসব শেয়ার। ২২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল এ শেয়ারের দাম। এই সুযোগে দুই অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়া হয়েছে।

আইন ভঙ্গ করে ননমার্জিন শেয়ারে মার্জিন ঋণ ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনএলআই ব্রোকারেজ হাউজের সিইও শাহেদ ইমরান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অন্যদিকে, উইংস্ফিন লিমিটেডের সিইও হুমায়ুন হাবিব মার্জিন ঋণ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে ডিএসই ও বিএসইসি তদন্তও করেছে সেখানে সব প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিও অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন তা যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ফৌজদারহাট ভারী শিল্প এলাকার ৪৯/এ সাগরিকা রোডস্থ ইমাম বাটনের কারখানাটি সিইও হাসিব হাসানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পর্ষদের কাছে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ আলীর পক্ষে তার ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন হস্তান্তর করেন। হস্তান্তরের দলিলে ২৩টি বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ, দু’টি জেনারেটর ও দু’টি কমপ্রেসার হস্তান্তরের উল্লেখ আছে। এছাড়াও ২১টি বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র হস্তান্তরের তালিকাও সংযুক্ত আছে দলিলে।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হস্তান্তরকৃত কারখানায় চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের ঘোষণা দেয়া হয়, যেখানে কোম্পানি প্রাথমিকভাবে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে এবং আরও ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করবে। যেখানে বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন করা হবে এবং তা থেকে বছরে ২ কোটি টাকা মুনাফা হবে।

১৪ জানুয়ারি কারখানার দু’টি জেনারেটর, দু’টি কমপ্রেসার ও একটি ইলেক্ট্রিক ট্রান্সফর্মার, একটি বয়লার ট্যাংক, চারটি প্যানেল বোর্ড, ছাদের ওপরের দু’টি পানির ট্যাংক ও কিছু ক্যাবল ২৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়, যার তথ্য জানানো হয়নি ডিএসইকে। বাটন উৎপাদনে ব্যবহৃত আরও যন্ত্রপাতি বিক্রির আলোচনা চলছে।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এই কারখানা পরিদর্শনে যেয়ে গেটে তালা দেখতে পায় একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক। স্থানীয়দের প্রশ্ন করা হলে জানান, এ কোম্পানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ।

এর আগে গত ৫ মার্চ এ কারখানা পরিদর্শন করে ডিএসই’র পরিদর্শন দল, দাবি করা উৎপাদন সক্ষমতার তথ্য মিথ্যা। কারখানাটি প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জোড়া জুতা উৎপাদন করতে পারে। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে বছরে ২ কোটি টাকার প্রত্যাশিত মুনাফাকে অবাস্তব মনে করেছে পরিদর্শন দল। এছাড়া দলটি বলেছে, প্রদত্ত তথ্য এবং নথিপত্রের বেশিরভাগই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্য-সংবেদনশীল তথ্যে মিথ্যা বা জাল তথ্য প্রকাশ লিস্টিং রুলসের ৪৫ ধারা ও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

কোম্পানিটির একজন পরিচালক জানান, ডিএসইর পরিদর্শক দল কারখানা পরিদর্শন করে আসার পর কর্মচারিদের বেশিরভাগকেই বিদায় করে দেয়া হয়েছে। এখন কারখানায় মোট কর্মচারি আছে মাত্র ৪ জন, তবে নেই কোন কাঁচামাল। বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের ঘোষণা দেয়া হলেও গত সাড়ে পাঁচ মাসে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪০০ জোড়া।

এদিকে, নামমাত্র অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়ে বিএসইসিতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫০ লাখ নতুন শেয়ার ইস্যুর আবেদন করেছেন হাসিব হাসান। বিএসইসি এই শেয়ার ইস্যু করে দিলে তার বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ কোন অর্থ বিনিয়োগ না করেই এ টাকার মালিক বনে যাবেন হাসিব হাসান।

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই এসব জালিয়াতি করেছেন হাসিব হাসান। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কোন কথা বলতে রাজি হননি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সগির হোসেন খন্দকার। বলেন, কোম্পানির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কথা বলুন, তিনিই সব দেখছেন।

অন্যদিকে, পরিচালক পদ থেকে এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট মাহামুদ হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোম্পানিতে যোগ দেয়ার পর পরিচালনা পর্ষদের একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাতে তার মনে হয়েছে এ কোম্পানিকে তার দেয়ার মতো কিছু নেই। এ কারণে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন মাহামুদ হোসেন এফসিএ।

এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা বিষয়ে জানতে চাইলে এএসএম হাসিব হাসান দাবি করেন, তারা যা তথ্য দিয়েছেন তার সবই সত্য। ডিএসইর তদন্তকারি দল পুকুরে নেমে জাল ফেলে কি দেখেছে মাছ আছে বা নেই, প্রশ্ন করেন তিনি।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন জানান, এটা পুঁজিবাজারে নতুন কোন ঘটনা নয়। বন্ধ যতোগুলো কোম্পানি সম্প্রতি নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি, তার প্রায় সবগুলোতেই এই ধরনের না অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে কোম্পানি সচল করার প্রস্তাবনা দিলেও দায়িত্ব নেয়ার পর মিথ্যা মূল্যসংবেদনশীল তথ্য দিয়ে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নিয়েছে। এটা বাজারের সামগ্রিক সুশানের ঘাটতির কারণে ঘটছে। এ প্রবণতা বন্ধ না করতে পারলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করা যাবে না।

অন্যদিকে, বিএসইসির মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ডিএসইর তদন্ত প্রতিবেদন এরই মধ্যে পেয়েছেন তারা। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। কোথাও আইনের ব্যত্যয় হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৫০ লাখ নতুন শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিনিয়োগের যথার্থতা খুঁজে পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

error: Content is protected !!