
মোহাম্মদ হানিফ, গোলজার হানিফ. (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় দালাল চক্রের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। নামধারী দলীয় লোকজন ও কতিপয় সংবাদকর্মী দালাল সিন্ডিকেট থানা পুলিশের সাথে আতাত করে সেবা গ্রহীতার সাথে করছে প্রতারনা। এখবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র মতে, ভুঁইফোড় অখ্যাত পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে এইসব দালালরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানার সামনের চা দোকানে বসে থাকে। কোন সেবাপ্রার্থী থানায় এলে তাদের জালে ফেলে। সেবাপ্রার্থী থেকে এ থানায় দালালের সংখ্যাই বেশি। দালাল ছাড়া যেন কোন অভিযোগ গ্রহণ করেনা পুলিশ। তাদের গ্রীণ সিগনাল পেলেই বিভিন্ন অভিযোগ নেওয়া হয় বলে জানাগেছে।
থানায় কেউ জিডি, অভিযোগ অথবা মামলা করতে এলেই পড়তে হয় দালালদের খপ্পরে। এসব দালালদের সহযোগীতায় মাদক ব্যবসায়ী, ভূমি দখল, কিশোর গ্যাং সহ বিভিন্ন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গ্রেপ্তারী পরোয়ানা, সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা এইসব দালাল চক্রের সহযোগীতায় থানা থেকে বিভিন্ন গোপনীয় সংবাদ সংগ্রহ করে থাকে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকবার অভিযান করেও এসব অপরাদীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়না। শুধু বিভিন্ন দলের নামধারী লোকজন ও কথিত গণমাধ্যকর্মী নয়, বিভিন্ন মামলার আসামী, পর্নোগ্রাফি, ধর্ষণ, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসায়ীরা থানা এলাকায় প্রতিনিয়ত করে থাকে দালালি।
সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ কর্তাদের সাথে এসব দালালদের রয়েছে গোপন যোগাযোগ। কোন সেবাগ্রহীতা থানায় এলে দালালদের মাধ্যমে পুলিশ মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরে তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে থাকে। প্রায় সময় দেখা যায় থানার সামনে বিভিন্ন দোকানে পুলিশ কর্তারা বসে দালালদের সাথে খোশগল্প করেন। দালাল ও পুলিশ কর্তাদের সাথে বিভিন্ন গ্রেপ্তারী পরোয়ানার আসামী ও চি মাদক ব্যবসায়ীরা থানার সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। এতে বাড়ছে অপরাধ ও হয়রানির শিকার হচ্ছে জনগণ।
দেওটি ইউপির কুমারঘরিয়া গ্রামের সেবাপ্রার্থী গোলাম কবির জানান, নিজেদের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে গিয়েছিলাম থানায়। থানার সামনে চা দোকান থেকে এক ব্যক্তি কাঁধে ব্যাগ নিয়ে আমার কাছে এসে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। পরে আমাকে সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়ে এক পুলিশ কর্তার কাছে নিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে সোনাইমুড়ী থানার এর পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, থানা এলাকায় ইদানিং দালালের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। তারাও এদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সংগঠনের নেতা পরিচয়ে থানা এলাকায় এসে চায়ের দোকানে বসে থাকে। এসব দালালদের সকাল ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থানার সামনে ঘুরঘুর করে।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক