
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। এই আনন্দকে পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে ঈদ যাত্রার শেষ দিনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থল থেকে জন্মভুমিতে ফিরছে ঘরমুখী মানুষেরা। কেউ ট্রাক-বাসের ছাদ, কেউ পিকআপে। অনেকে আবার নিজের ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়েই গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন।
জানা যায়, ঢাকায় যেসকল নিম্নআয়ের অধিকাংশ মানুষ শত চেষ্টা করেও একটি বাস ও ট্রেনের টিকেট জোগাড় করতে পারেননি। তবুও জন্মভুমির বাড়িতে ফিরছেন। একারনে অল্প টাকায় জীবনের ঝুকি নিয়ে বাসের ছাদ, ছোট বড় পিকআপ,ট্র্রাকের মধ্যেও উঠে রওনা দিয়েছেন হাজারও মানুষ।
এদিকে, ঘরমুখো মানুষের থেকে যানবাহনগুলোতে নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। ৩৫০ টাকার ভাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বাস ভ্রমণের পরিবর্তে টাকা বাঁচাতে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রাকে আসা যাত্রীদেরও এই গলাকাটা ভাড়া থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গার্মেন্টকর্মীসহ নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে গিয়ে পরতে হয়েছে বিপাকে।
বুধবার (২৮ জুন) সকালে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়ী, কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল গোল-চত্বর এলাকায় কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা মানুষের অধিকাংশ যাত্রীই কয়েকগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে এসকল এলাকা থেকে অটোরিকশায় ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে প্রায় তিনগুণ।
গাজীপুরের চন্দ্রার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে একটি লোকাল বাসে এসেছেন গার্মেন্টকর্মী আলামিন, রফিক ও শেফালী। তাদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
আলামিন বলেন, চন্দ্রা থেকে কড্ডার মোড়ে মূল ভাড়া ৩৫০ টাকা। ঈদ উপলক্ষে ৪৫০/৫০০ টাকা নিলে তাও ভালো হতো। কিন্তু বাধ্য হয়ে ৮০০ টাকা ভাড়া দিয়ে আসতে হয়েছে। কড্ডার মোড়ে এসে সিএনজি ভাড়াও ২০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আমার বোনাসের অর্ধেক টাকা গাড়ি ভাড়াতেই চলে গেল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা থেকে পিকআপে আসছিলেন বগুড়ার ধুনট এলাকার নাজমুল বলেন, বাস না পেয়ে পিকআপেও ৮০০ টাকা ভাড়া গুণতে হয়েছে তাকে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়া এলাকার শিহাব ও রুবেল ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পিকআপযোগে এসেছেন বলে জানান। আবার কড্ডা থেকে অটোরিকশায় পিপুলবাড়ীয়া পর্যন্ত ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যার পূর্বের ভাড়া ছিল ৬০ টাকা।
ঈদের শেষ দিনে বাড়ি গার্মেন্টসকর্মী মনিরুল, আলম, সোহাগ, কাকুলী, রুবিনাসহ বেশ কয়েকজন বলেন, তিন থেকে চারগুণ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে তাদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। বাড়ি ফেরার সঙ্গে যানবাহনের লোকজন মানুষদের জিম্বী করে টাকা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও বাড়িতে আসতে পেড়ে ভালোই লাগছে।
এবিষয়ে বেশ কয়েকজন বাস ও ট্রাক চালকদের প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ট্রাক চালক বক্কার হোসেন, কেফাত আলী, ছামিদুল, সোহান খান ও চঞ্চল বলেন, ফিরতি পথে খালি গাড়ি যেতে হয়। তাই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একই কথা বলেন, পিকআপ ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকেরাও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল কবীর বলেন, রাত থেকে মহাসড়কে গাড়ির চাপ অনেকটা বেড়েছে। ঈদের শেষ দিন হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে গাড়ি কয়েকগুণ বেশি চলাচল করছে। তবে কোথাও কোনো ধীরগতি বা যানজটের মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। যানজট নিরসনে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সিরাজগঞ্জের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহন বেড়েই চলছে। তবে মহাসড়কে চাপ থাকলেও কোনো যানজট বা ধীরগতি নেই। আশা করছি উত্তরবঙ্গের ঘরে ফেরা মানুষের গত ঈদের মতো এবারের ঈদযাত্রাও নির্বিঘœ হবে। এছাড়া যানবাহন ও ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছি।
তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে সেতুর ওপর ও মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে যানজট শুরু হয়। একারনে সেতুর পূর্ব পাড়ে যানবাহনের ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল শুরু ছিলো। বর্তমানে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
এবারের ঈদযাত্রা যানজটমুক্ত ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশ, জেলা ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যা মোতায়েন থাকবে টানা ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন পর্যন্ত। তবে এই যানজট আতঙ্কে থাকা ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে প্রস্তুত হয়েছে জেলা পুলিশ, জেলা ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ