
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী,কক্সবাজার: পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (এন্টি টেররিজম ইউনিট) এসএম রুহুল আমিন বলেছেন, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছু অপরাধী গ্রুপ অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়-এটি জঙ্গিবাদের উর্বর স্থান হিসেবে আর্বিভূত হতে পারে। এটি শংকার বিষয়, তবে- এ নিয়ে আমরা সচেতন আছি এবং কাজও করছি। যদিও এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পে এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। আশা করছি সকল সংস্থার সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবো। দেশের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ যারাই করুক তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে ‘সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ কমিউনিটি এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমাপন্থা প্রতিরোধ বিদ্যামান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যত কর্মকৌশল নির্ধারণের জন্য আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন অতিরিক্ত আইজিপি (এটিইউ) এসএম রুহুল আমিন।
কক্সবাজার সৈকত তীরের তারকা হোটেল সায়মনের বল রুমে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি আরো বলেন, বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাথে সে দেশের কিছু কিছু লোকের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে মিয়ানমার থেকে সহজে ইয়াবাসহ নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন মাদক। সব কিছুই আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের বিদ্যামান শক্তি সামর্থ দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ রাখতে।
কর্মশালায় ‘বাংলদেশে যুবসমাজ উগ্রবাদের সাথে জড়িত হওয়ার পেছনে সাতটি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখের পাশাপাশি জঙ্গীবাদের ৯টি লক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া উগ্রবাদে জড়িত থাকার জন্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব, ধর্মীয় ভাবাদর্শের প্রভাব এবং উগ্রগোষ্ঠীর প্ররোচনাকেও দায়ি করা হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য পরিবার থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সংবাদকর্মীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
এ সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কেন জঙ্গীবাদ বা উগ্রবাদের উত্থান হতে পারে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফজুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি এখন কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। গেল চার মাসে রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে মামলা ২৬১ টি। যেখানে শুধু খুনের মামলা ৩১টি। হত্যাচেষ্টা মামলা ১২ টি, অস্ত্র আইনের মামলা হয়েছে ২৪ টি, মাদকের ১৩৭ টি, নারী নির্যাতন ৯টি এবং অন্যান্য আরো ৮টি মামলা রয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় রোহিঙ্গারা কিভাবে উগ্রবাদী হয়ে উঠছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান রাজনৈতিক কাউন্সিলর ব্র্যাডলি কোটস, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজ মো: মাহফুজুর রহমান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এপিবিএন এর অতিরিক্ত ডিআইজি (এফডিএমএন) জামিল হাসান, কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো: মাহফুজুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কাউন্টার টেররিজম এডিশন ডিআইজি (প্রশাসন) কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ