হোম » সারাদেশ » কালের স্বাক্ষী ফকিরহাটের ২০০ বছরের প্রাচীন মানসা কালী মন্দির

কালের স্বাক্ষী ফকিরহাটের ২০০ বছরের প্রাচীন মানসা কালী মন্দির

রেজাউল ইসলাম তুরান: অনাদিকাল থেকে আবহমান গ্রাম-বাংলায় সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ ও বিভিন্ন জাত ও বর্ণের মানুষ বাস করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মের ও বর্ণের মানুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও তীর্থস্থান। তেমনই এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হলো মন্দির। কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ঐতিহ্যের অপরুপ নিদর্শন বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার প্রচীনতম মানসা কালী মন্দির। হিন্দু ধর্মালম্বিদের পুজা অর্চনার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান এটি।
ঐতিহ্যবাহী মানসা কালি মন্দিরটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত তার সঠিক তথ্য কেউ বলতে না পারলেও প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দেড় বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা  প্রাচীনকালের এই মন্দিরটি অশ্বিনী কুমার রায়ের পূর্ব পুরুষের জন্মভিটা ছিল। তাদের দ্বারাই মূলত মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠানে মন্দিরের জন্য রয়েছে তিনটি ঘর। একটি ভবন রয়েছে ভ্রাম্মন ব্রাহ্মণদের থাকার ঘর। রয়েছে সিঁড়ি বাধানো পুকুর।
জনশ্রুতি রয়েছে মন্দিরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান নদীতে যাতায়াতকারী নৌকার দূর-দূরান্তের মাঝি-মাল্লা, ব্যবসায়ী, যাত্রীরা রাতে এই মন্দিরে এসে ধর্মীয় গান বাজনা শুনে বা বিশ্রাম নিতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী মন্দিরটি ধংস করে দেয়। ভেঙ্গে ফেলে কালি মাতাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর বিগ্রহ। লুটপাট করা হয় মন্দিরের মূল্যবান মালামাল।
একপর্যায় মন্দিরের অস্তিত্ব বিলিন হওয়ার উপক্রম হলে ১৯৭৪ সালে বাগেরহাটের ধর্নাঢ্য ব্যক্তি ধীরেন্দ্র নাথ দাস তার নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় ১১ই চৈত্র মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ ও নতুন করে কালি মাতাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর বিগ্রহ তৈরী করে স্থাপন করা হয়। সেই থেকে প্রতিবছর ১১ চৈত্র কালি মায়ের পুনঃপ্রাণ প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় এখানে। গেলো ১১ই চৈত্র অনুষ্ঠিত মন্দিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে পুরহিত, অতিথি ও সূধিজনদের সম্মানে নৈশ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতে অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় পরিণত হয়।
বর্তমানে এ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক বাবলু কুমার আশ। তিনি তার নিজস্ব অর্থায়ন এবং মেধা ও মনন দিয়ে মন্দিরটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ এর রুপ বৈচিত্র আকর্ষনিয় করে তুলেছেন। এই বাবলু কুমার আশ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাবা মৃত শৈলেন্দ্র নাথ আশও সুনামের সাথে এই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
বাবলু কুমার আশ বলেন, এই মন্দিরের বৈশিষ্ট হলো এটা পশ্চিমমূখী মন্দির। যা সচরাচর দেখা যায়না। এমনকি আশপাশের এলাকায় এরকম পশ্চিমমূখী আর কোন মন্দির নেই। প্রতিদিন মা কালির অর্চনা করা হয় এখানে। প্রতিবছর ১১ই চৈত্র পালিত হয় কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ লের হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। এই মন্দিরে শ্রাবণ মাসে শিব পূজা, আষাঢ় মাসে কালীপূজা, স্বরস্বতী পূজা/কালী পূজা করা হয়।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!