
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার: এলাকায় চলছে শোকের মাতম ১০ জেলে হত্যার মধ্যে ৭জন মহেশখালীর কাঁদছে মা, শোকে ভারী হয়ে উঠছে এলাকার পরিবেশ। মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার। কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক সমুদ্র উপকূলে রবিবার টেনে আনা ডুবন্ত সেই ট্রলার থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১০ জেলের পরিচয় জানা গেছে। নিহত সবাই মহেশখালী ও চকরিয়ার বাসিন্দা। ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা সামশুল আলম। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিও একজন। তবে নিহত ১০ জেলের মধ্যে মহেশখালীর ৭ জন রয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকালে সরেজমিনে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিটাছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে নিহত সকলেই নিতন্ত গরিব পরিবারের সন্তান। নিহতের লাশ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাদের পরিবারের মাঝে চলছে আহাজারি ও স্থানিয়দের মাঝে চলছে শোকের মাতম।
স্থানীয়রা জানান, নিহত সবাই দিনে এনে দিনে খাই। কে কি জন্য সাগরে নিয়ে গেছে তারা তাও জানে না। তবে কেউ পুষলিয়ে লোভ দেখিয়ে মাছ আহরণ করার কথা বলে সাগর নিয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। আর তাঁদেরকে পূর্ব পরিক্লিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে গভীর সাগরে পরিকল্পিতভাবে ১০ জেলেকে হত্যা করে ট্রলারটি সাগরে ডুবিয়ে দিতে পারে অথবা জলদস্যুরা গভীর সাগরে ট্রলারের মাছ লুট করে জেলেদের বরফ রাখার কুটিরে (কক্ষে) আটকে রেখে ট্রলারটি ডুবিয়ে দিতে পারে।
ব্যাুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানাযায়, মহেশখালী উপজেলার নিহতরা হলেন, হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়ার রফিক মিয়ার ছেলে সামশুল আলম (২৩), শাপলাপুর ইউনিয়নের মিটাছড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮), জাফর আলমের ছেলে সওকত উল্লাহ (১৮), মুসা আলীর ছেলে ওসমাণ গনি (১৭), সাহাব মিয়ার ছেলে সাইফুল্লাহ (২৩), মোহাম্মদ আলীর ছেলে পারভেজ মোশাররফ (১৪), মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে নুরুল কবির (২৮)।
অন্যান নিহতরা হলেন,চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের কবির হোসাইনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৪), শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান (৩৫) ও চকরিয়া পৌরসভার চিরিঙ্গা এলাকার জসিম উদ্দীনের ছেলে তারেক জিয়া (২৫)।
শাপলাপুর মিটাছড়ির বাসিন্দা নিহত ওসমানের পুত্র মুসা আলী জানান, আমার ছেলে বনের জঙ্গল পরিস্কার ও শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু সে সাগরে গেলে পরিবারকে বলে যায়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি সাগরে নিহতদের মধ্যে আমার ছেলে রয়েছে।
ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রলারের বরফ রাখার কক্ষ থেকে ১০ জেলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। কয়েকজনের শরীরে জাল প্যাঁচানো ছিল। একটি লাশের গলা থেকে মাথা ছিল বিচ্ছিন্ন। আরেকটি লাশের হাত বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। লাশগুলো ট্রলারের যে কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই কক্ষের ঢাকনাও পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। তা ছাড়া ট্রলারের জাল ও ইঞ্জিন রয়ে গেছে। এ কারণে সন্দেহ হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলারটি আরেকটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়েছিল। ওই ট্রলারের জেলেরা রশি দিয়ে ডুবন্ত ট্রলারটি টেনে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে নিয়ে আসেন। রোববার বেলা দেড়টার দিকে ডুবন্ত ট্রলারটি কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক (বিমানবন্দরের পশ্চিমে) চ্যানেলে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তিদের হাত-পা ভেসে উঠতে দেখা যায়। তাতে ভয় পেয়ে যান টেনে আনা ট্রলারের জেলেরা। ডুবন্ত ট্রলারটি রেখে পালিয়ে যান তাঁরা। স্থানীয় লোকজন লাশবোঝাই ডুবন্ত ট্রলার ভেসে আসার খবর জানালে বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বেলা তিনটা পর্যন্ত ট্রলার থেকে ১০ জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য,১০ জেলের মধ্যে ৬ জন মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি, ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা সামশুল আলম,একজনের বাড়ি একই উপজেলার কালারমারছড়া গ্রামে এবং অপর তিনজনের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী গ্রামে। নিহত সবাই ৭ এপ্রিল একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে নেমেছিলেন। সেখানে জেলেদের বরফ রাখার কক্ষে আটকে রেখে ট্রলারটি ডুবি দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার উন্নয়ন সেমিনার: সুষম উন্নয়নের আশাবাদ
বদলগাছী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পথগুলো যেন মরণফাঁদ
ধুনটে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার মামলায় এক আসামি গ্রেপ্তার